
পাঁচ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০, আহত ৩৫
জুলাই ৮, ২০২৬
মিশরের বিতর্কিত গোল বাতিল, কী আছে ফিফার আইনে?
জুলাই ৮, ২০২৬ধনী ব্যক্তিদের বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংক জুলিয়াস বেয়ারের গ্লোবাল ওয়েলথ অ্যান্ড লাইফস্টাইল ২০২৬ শীর্ষক প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ তথ্য উঠে আসে। খবর দ্য ন্যাশনাল।
পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরো বেড়েছে। ব্যয় বাড়ানোর প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে বিলাসপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি। চলতি বছর ডলারের হিসাবে বিলাসী জীবনযাত্রার গড় ব্যয় ১০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে গহনা, বিলাসবহুল ঘড়ি ও অন্যান্য বিলাসপণ্যের দাম। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হারেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায়ও পরিবর্তন দেখা গেছে।
জুলিয়াস বেয়ার জানায়, গত বছর নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত প্রতিবেদনের ডেটা সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলে পরবর্তী ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব এ প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয়নি।
উল্লেখ্য, ব্যয়বহুল শহরে বসবাস বা নির্দিষ্ট জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে অন্য শহরের তুলনায় বেশি অর্থ খরচ করতে হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা চতুর্থ বছরের মতো ধনীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর সিঙ্গাপুর। এর পেছনে দেশটির শক্তিশালী মুদ্রা, উচ্চ আবাসন ব্যয় ও গাড়ির অতিরিক্ত দাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ। প্রথমবারের মতো শীর্ষ তিনে জায়গা করে নিয়েছে মোনাকো। ফলে গত বছর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা হংকং নেমে গেছে চতুর্থ স্থানে।
বিশ্লেষকদের মতে, জুরিখ ও মোনাকোর অবস্থান উন্নত হওয়ার মূল কারণ স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধি নয়। বরং সুইস ফ্রাঁ ও ইউরোর বিপরীতে ডলারের দুর্বলতা, যা এসব শহরকে ডলারভিত্তিক সূচকে আরো ব্যয়বহুল করে তুলেছে।
একই কারণে গত বছর তালিকায় সামনের দিকে থাকা দুবাই এবার সাত ধাপ পিছিয়ে ১৪তম স্থানে নেমে এসেছে। তবে শহরটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় কমেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্য শহরগুলোর ব্যয় আরো দ্রুত বেড়েছে ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রার শক্তিশালী অবস্থানের কারণে র্যাংকিংয়ে পরিবর্তন এসেছে।
এবার লন্ডনও এক ধাপ পিছিয়েছে। গত বছর শীর্ষ অবস্থানের কাছাকাছি থাকলেও এবার শহরটি পঞ্চম স্থানে নেমে এসেছে। অন্যদিকে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনির। শক্তিশালী অস্ট্রেলীয় ডলার এবং বিদেশ থেকে বিলাসপণ্য আমদানির বেশি খরচের কারণে সিডনি ছয় ধাপ এগিয়ে অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিলাসী জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার বড় চালিকাশক্তি ছিল বিলাসপণ্যের মূল্য। চলতি বছরের শুরুতে বিলাসপণ্যের গড় দাম বেড়েছে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধিকে। ২০২৪ সালের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। এর প্রভাবে গহনার দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং বিলাসবহুল ঘড়ির দাম ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রকাশিত আরেকটি বৈশ্বিক জরিপে ৩৬০ জন উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তির মতামত নেয়া হয়। সেখানে দেখা যায়, বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলের ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে ৮২-৯৫ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তবে অনিশ্চয়তা বাড়লেও ধনীদের ব্যয়ের ধরনে বড় পরিবর্তন আসেনি। তারা এখনো বিলাসবহুল ভ্রমণ ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক সেবায় ব্যয় করছেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করার খাতেও বিনিয়োগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় শুধু স্থানীয় মূল্যস্ফীতিই নয়, মুদ্রার বিনিময় হারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে কোনো শহরের অবস্থান নিচে নামলেই সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় কমেছে, এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারের পরিবর্তন, বিলাসপণ্যের দাম ও নিরাপদ সম্পদের চাহিদাই এখন ধনীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।


