
হারারেতে আজ প্রথম ওয়ানডে পূর্ণ শক্তির পেস আক্রমণ নিয়ে নামছে বাংলাদেশ
জুলাই ৬, ২০২৬
স্কুল ফিডিংয়ে মানহীন খাবার, সন্তানের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে দুশ্চিন্তায় অভিভাবক
জুলাই ৬, ২০২৬যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কয়েক সপ্তাহ আগেও শেষ ষোলোতে ওঠাই ছিল বাস্তবসম্মত স্বপ্ন, এখন সেখানে সমর্থকেরা আরো দূর দেখতে শুরু করেছে। সমর্থকদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে মরিয়া টিম আমেরিকাও।
সে লক্ষ্যেই আগামীকাল সকাল ৬টায় সিয়াটলে যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে টাইলার এডামসের দল। প্রত্যাশার ভার যেমন আছে তেমনি আছে এক যুগ আগের অপূর্ণ প্রতিশোধের গল্পও। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় অতিরিক্ত সময়ে বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। টিম হাওয়ার্ড সেদিন বিশ্বকাপে রেকর্ড ১৬টি সেভ করেও দলকে বাঁচাতে পারেননি। ১২ বছর পর একই প্রতিপক্ষকে সামনে পেয়ে সেই স্মৃতির হিসাব মেলানোর সুযোগ এসেছে।
মাঠের লড়াইয়ের আগে যুক্তরাষ্ট্রকে উজ্জীবিত করছে গ্যালারির বিশ্বাসও। সিয়াটলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচটিকে এখন পর্যন্ত মার্কিন ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচ বলা যায় কিনা এমন প্রশ্নে রাইট ব্যাক সার্জিনিও ডেস্ট কোনো দ্বিধা করেননি। তার কথায়, ‘এই মুহূর্তে হয়তো হ্যাঁ। আশা করি আমরা এ ম্যাচ জিতব, এরপর আরো ম্যাচ খেলতে পারব। কারণ এ মুহূর্তে আমাদের দলটা অসাধারণ। আমরা ভালো খেলছি, সবাই দারুণ অনুপ্রাণিত, সবাই আমাদের ওপর আস্থা রাখছে।’
তবে এ আস্থার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে মাঠের কৌশলে। ম্যাচের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন বালোগুনকে ঘিরে। বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে গোল করার পর লাল কার্ড দেখে এ ম্যাচে নিষিদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান স্ট্রাইকার। তার অনুপস্থিতিতে মরিসিও পোচেত্তিনোকে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের ধরন বদলাতে হতে পারে। সম্ভাবনা আছে রিকার্দো পেপিকে সামনে খেলানোর। তাতে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ আরো বেশি নির্ভর করবে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের ওপর। পুলিসিচকে হয়তো বাঁ প্রান্তে আটকে রাখা হবে না। বরং তিনি বারবার ভেতরে ঢুকে হাফ-স্পেসে বল নেবেন, যাতে বেলজিয়ামের দুই সেন্টার ব্যাককে অবস্থান বদলাতে বাধ্য করা যায়। সেই ফাঁকা জায়গায় ফুল ব্যাকদের ওভারল্যাপ কিংবা দ্বিতীয় সারির মিডফিল্ডারদের বক্সে ঢুকে পড়াই হতে পারে পোচেত্তিনোর পরিকল্পনা।
পোচেত্তিনোর দর্শনের সবচেয়ে বড় ভিত্তি বল হারানোর পরই তা দ্রুত পুনরুদ্ধার করা। বসনিয়ার বিপক্ষে ১০ জন নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে প্রেস করেছে, সেটি হয়তো এ ম্যাচেও দেখা যাবে। কারণ বেলজিয়ামের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা তাদের বিল্ড-আপ। সেনেগালের বিপক্ষে বারবার প্রথম প্রেস ভাঙতে ব্যর্থ হয়েছিল রুডি গার্সিয়ার দল। কোর্তোয়াকে বাধ্য হয়ে দীর্ঘ পাস খেলতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি শুরু থেকেই সামনের তিনজনকে দিয়ে আক্রমণাত্মক প্রেস করাতে পারে, তাহলে দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
অন্যদিকে বেলজিয়াম প্রেস ভাঙতে পারলেই ম্যাচের চেহারা বদলে যেতে পারে। কারণ তাদের হাতে এমন একজন ফুটবলার আছেন, যিনি এক পাসেই পুরো ম্যাচের ছন্দ পাল্টে দিতে পারেন, তিনি কেভিন ডি ব্রুইনা। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হবে ডি ব্রুইনাকে বল পাওয়া থেকে বিরত রাখা। টাইলার অ্যাডামসের ভূমিকা তাই শুধু ট্যাকল করা নয়; বরং ডি ব্রুইনার দিকে যাওয়ার পাসিং লেন বন্ধ করে দেয়া।
ডি ব্রুইনা যদি ঘুরে দাঁড়ানোর সময় পান, তাহলে জেরেমি ডকু ও লিয়ান্দ্রো ত্রোসারকে থামানো কঠিন হবে। বিশেষ করে ডকু এখনো নিজের সেরা খেলাটা খেলতে পারেননি। কিন্তু তার গতি ও ড্রিবল করার ক্ষমতা যেকোনো সময় ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ফুল ব্যাকদের তাই একা ছেড়ে দিলে চলবে না। উইঙ্গারদেরও নিয়মিত নেমে এসে রক্ষণে সাহায্য করতে হবে।
বেলজিয়ামের আক্রমণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ত্রোসার। ওপেন প্লে থেকে সুযোগ তৈরিতে তিনি এ বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা। তিনি ভেতরে ঢুকে খেলতে ভালোবাসেন। ফলে বেলজিয়াম প্রায়ই বাঁ দিকে সংখ্যাগত আধিপত্য তৈরি করে। সেই জায়গায় যুক্তরাষ্ট্রের রাইট ব্যাক ও ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের সমন্বয় ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হয়ে উঠতে পারে।
রোমেলু লুকাকুও এ ম্যাচে বড় ফ্যাক্টর। পুরোপুরি ফিট না হলেও সেনেগালের বিপক্ষে বদলি নেমে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছেন। যদি শুরু করেন, তাহলে বেলজিয়ামের আক্রমণ আরো সরাসরি হবে। তখন ডি ব্রুইনার ক্রস ও ত্রোসারের কাটব্যাকের লক্ষ্য থাকবেন লুকাকু। আর যদি বেঞ্চ থেকেই নামেন, তাহলে শেষ আধাঘণ্টায় ক্লান্ত যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণকে চাপে ফেলার অস্ত্র হিসেবে তাকে ব্যবহার করতে পারেন গার্সিয়া।
সেট-পিসও ম্যাচের বড় নির্ধারক হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এ বিশ্বকাপে চারটি সেট-পিস গোল করেছে। কর্নার ও ফ্রি-কিক থেকে তাদের বৈচিত্র্য চোখে পড়ার মতো। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ওপেন প্লেতে জায়গা কম মিললে সেই অস্ত্রই আবার ভরসা হতে পারে। অন্যদিকে বেলজিয়ামের উচ্চতা ও শারীরিক শক্তিও কর্নারে সবসময় বিপজ্জনক।
সিয়াটলের গর্জনে যুক্তরাষ্ট্র নামবে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় লেখার স্বপ্ন নিয়ে। আর বেলজিয়াম লড়বে তাদের ক্ষয়িষ্ণু সোনালি প্রজন্মের শেষ আলোটুকু আরো কিছুটা সময় ধরে রাখার জন্য।


