সংঘাতের চার মাস ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারপ্রতি অতিরিক্ত ব্যয় ১ হাজার ডলার
জুলাই ৩, ২০২৬
এটাই কি রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ— বোনের মন্তব্য ঘিরে জল্পনা
জুলাই ৩, ২০২৬
বিদেশী ঋণের মাধ্যমে পণ্য আমদানিকারকদের সুদহারের ঝুঁকি (ইন্টারেস্ট রেট রিস্ক) কমাতে নতুন একটি আর্থিক হেজিং সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলো এখন থেকে আমদানিকারকদের সঙ্গে ফরওয়ার্ড রেট এগ্রিমেন্ট করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে গতকাল এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, সরবরাহকারী বা ক্রেতা ঋণের (সাপ্লাইয়ারস/বায়ারস ক্রেডিট) আওতায় বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ নিয়ে আমদানি করা গ্রাহকরা ভাসমান সুদহারের (ফ্লোটিং ইন্টারেস্ট রেট) ঝুঁকি মোকাবেলায় এ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
প্রজ্ঞাপন জারির সঙ্গে সম্পৃক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক সুদহার, বিশেষ করে এসওএফআরের ওঠানামার কারণে আমদানিকারকদের ঋণের সুদ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। নতুন এ ব্যবস্থার ফলে তারা আগাম সুদহার নির্ধারণ করে ভবিষ্যৎ ব্যয়ের অনিশ্চয়তা কমাতে পারবেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির ব্যবহার বাংলাদেশে বৈদেশিক বাণিজ্য অর্থায়নকে আরো আধুনিক ও কার্যকর করতে সহায়তা করবে।
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে, ফরওয়ার্ড রেট এগ্রিমেন্ট শুধু প্রকৃত সুদহার ঝুঁকি হেজিংয়ের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে। কোনো ধরনের জল্পনামূলক, লিভারেজড বা প্রকৃত লেনদেনবিহীন অবস্থান গ্রহণ করা যাবে না। এছাড়া চুক্তির আওতায় মূল ঋণের অর্থ পরিশোধ হবে না; বরং নির্ধারিত সুদহার ও সংশ্লিষ্ট সময়ের প্রকৃত এসওএফআরের মধ্যে পার্থক্যের ভিত্তিতে নিট অর্থ নিষ্পত্তি করা হবে।
ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি ফরওয়ার্ড রেট এগ্রিমেন্ট (এফআরএ) লেনদেন একই দিনে ব্যাক টু ব্যাক ভিত্তিতে দেশী বা বিদেশী কাউন্টারপার্টির মাধ্যমে সম্পূর্ণ হেজ করতে হবে। ব্যাংক নিজস্ব হিসাবে কোনো বাজারঝুঁকি বহন করতে পারবে না। একই সঙ্গে এফআরএ লেনদেনে ব্যাংকের মূল্য ব্যবধান (স্প্রেড) সর্বোচ্চ ১০ বেসিস পয়েন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এছাড়া কোনো ব্যাংকের মোট অনুমোদিত এফআরএর পরিমাণ বিগত ১২ মাসের গড় মাসিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।
প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, মেয়াদ পূর্তির আগেই কোনো আমদানিকারক চুক্তি বাতিল করতে চাইলে প্রচলিত বাজারদরের ভিত্তিতে চুক্তি নিষ্পত্তি করতে হবে এবং এর সম্পূর্ণ হিসাব ও গ্রাহকের লিখিত সম্মতি সংরক্ষণ করতে হবে।
এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোর জন্য বিস্তারিত ডকুমেন্টেশন, দৈনিক মার্ক টু মার্কেট মূল্যায়ন, আইএসডিএ বা সমমানের চুক্তিপত্র, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা এবং পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত ডেরিভেটিভস নীতিমালা বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি গ্রাহকদের এফআরএর ঝুঁকি ও কাঠামো সম্পর্কে লিখিতভাবে অবহিত করে তাদের সম্মতি নিতে হবে। প্রকৃত অন্তর্নিহিত ঝুঁকি ছাড়া কোনো গ্রাহককে এফআরএ সুবিধা দেয়া বা বিভ্রান্তিকর পরামর্শ দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। এছাড়া প্রতিটি এফআরএ লেনদেনের সাপ্তাহিক প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট সপ্তাহের শেষ দিনে এবং মাসিক সমন্বিত প্রতিবেদন প্রতি মাস শেষে নির্ধারিত ছকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এফইপিডি-১ বিভাগে জমা দিতে হবে বলে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।


