দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত —মির্জা ফখরুল
জুন ২৮, ২০২৬
ব্র্যাক ব্যাংকের ‘আমরাই তারা’ কর্মসূচি প্রশিক্ষণ পেলেন তিন জেলার ৯০ নারী উদ্যোক্তা
জুন ২৮, ২০২৬
দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত —মির্জা ফখরুল
জুন ২৮, ২০২৬
ব্র্যাক ব্যাংকের ‘আমরাই তারা’ কর্মসূচি প্রশিক্ষণ পেলেন তিন জেলার ৯০ নারী উদ্যোক্তা
জুন ২৮, ২০২৬

আইন সংশোধনে সংসদে বিল মাদক মামলার বিচারে হবে পৃথক আদালত

মাদক মামলার বিচারে আবার পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনে ২০১৮ সালের আইনে সংশোধন আনা হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনে গতকাল সংসদে বিল উত্থাপন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বিলটি আইনে পরিণত হলে সরকার সব জেলা ও মহানগরে মাদকের মামলার বিচারে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মীরা অভিযান পরিচালনায় অস্ত্র, ডগ স্কোয়াড পাবেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়গুলোতে হাজত স্থাপন করা হবে।

বিলটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ সামাজিক কাঠামো ও জননিরাপত্তার জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকিতে পরিণত হয়েছে। তা মোকাবেলায় পৃথক মাদক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করা আবশ্যক। মাদকাসক্তি ও মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের প্রভাবে মাদকসেবীরা খুন, ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ নানাবিধ গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে। সাধারণ আদালতে বিদ্যমান মামলার চাপে মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার কাজে কাঙ্ক্ষিত গতি আনা সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত বিচারের অনুপস্থিতিতে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরো গভীর শিকড় গেড়ে বসছে।

বিলের বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার ত্বরান্বিত, কেন্দ্রীভূত ও ফলপ্রসূ করতে বিদ্যমান আইন সংশোধন সময়ের দাবি। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে, এখতিয়ারসম্পন্ন সাধারণ আদালতে বিচারের বিধান অক্ষুণ্ন রেখে মাদক অপরাধপ্রবণ এলাকায় ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিধান সংযোজন করা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার ফলে মাদক-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত হবে। মাদকদ্রব্যসংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ রোধে নতুন বিধান সংযোজন করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধ, অভিযান পরিচালনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাধিকার ও ডগস্কোয়াড গঠনের বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

এদিকে বিল উত্থাপনে পদ্ধতি মানা হয়নি অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘আইনে কী পরিবর্তন আসছে সে সম্পর্কিত তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেয়া হলে ভালো হয়।’

স্বরাস্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আইন পাসের জন্য যখন প্রস্তাব করা হবে, তখন যেকোনো সদস্য বলতে পারেন, তিনি তিনদিন আগে নোটিস পাননি। এখন বিল উত্থাপন হচ্ছে। আইনে কী পরিবর্তন আসছে সে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা আছে। সেটা দেয়া হয়নি কারণ সেটা সংসদীয় কমিটিতে যাবে।’

কণ্ঠভোটে বিলটি আইন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটি সংসদে প্রতিবেদন দেবে।

বিদ্যমান আইনে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে মাদকের বিচার হবে। আইন সংশোধনের খসড়ায় বলা হয়েছে, ৪৪ ধারায় পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান যুক্ত করা হবে। পাঁচ বছর এবং বেশি কারাদণ্ড হতে পারে, এমন বিচারে সরকার প্রত্যেক জেলা বা মহানগর এলাকার ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ নামে এক বা একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারে। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিয়োগ করবে। যে জেলা এবং মহানগরে ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা হবে, সেখানে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের এখতিয়ার বিলুপ্ত হবে। এসব আদালতের বিচারাধীন মামলা ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হবে।

খসড়ার ৩৫(খ) ধারায় বলা হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্যের চোরাচালান, পাচার, পরিবহন ও বিস্তার প্রতিরোধে অগ্রাধিকার কার্যক্রম হিসেবে গণ্য হবে। সীমান্ত নিরাপত্তার বাহিনী মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে। অধিদপ্তরের ডগস্কোয়াড দিয়ে বিমানবন্দর, স্থলবন্দরসহ তল্লাশিযোগ্য যেকোনো জায়গায় তল্লাশি চালাতে পারবে।

খসড়ার ২৫(খ) ধারায় বলা হয়েছে, মাদক আইনে গ্রেফতার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানোর আগ পর্যন্ত অধিদপ্তরের হাজতখানায় রাখা যাবে। অধিদপ্তরের সব কার্যালয়ে হাজতখানা স্থাপন করা যাবে।

সাইবার সুরক্ষা আইনে সংশোধনে বিল: সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনে গতকাল সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিলটি উত্থাপন করেন। বিলে সাইবার সুরক্ষা আইনের ২০ ধারা বিলুপ্তের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ডেপুটি স্পিকার কায়সাল কামালের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে আইনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। তিন কার্যদিবসে প্রতিবেদন দেবে কমিটি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *