
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর সংশোধন হতে পারে শ্রমবাজার নিয়ে এমওইউর ধারা, গুরুত্ব অভিবাসন ব্যয় হ্রাসে
জুন ২০, ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রমহীন গবেষণা কেন্দ্র, বরাদ্দের প্রায় ৪০ শতাংশ খরচ হচ্ছে না
জুন ২০, ২০২৬জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করছে সরকার।
কিন্তু এ দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না। সরকার নিজেদের ভুল নীতি পরিহার করে জনকল্যাণমূলক, জনবান্ধব নীতিতে ফিরে আসবে—সে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
গতকাল নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর ঈদগাহে কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘এরই মধ্যে সরকার অনেক অঘটন ঘটিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে কালো হাত, বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য ভিসিদের সরিয়ে দিয়ে দলের একান্ত ভিসিদের বসিয়ে দেয়া, জেলা পরিষদের মতো জায়গায় নিজের ক্যাডার ও দলীয় নেতাদের বসিয়ে দেয়া—এভাবে একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা করা হয়েছে।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমানও একদলীয় বাকশাল কায়েম করার চেষ্টা করেছিলেন। অর্ধবছরও ক্ষমতায় থাকতে পারেন নাই। সুতরাং একদলীয় শাসন এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিরোধী দলকে সবচেয়ে বেশি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করত আওয়ামী লীগ। ওই পুরনো আওয়ামী লীগ যা বলত, তাদের কথাগুলো এখন বিএনপিও জপা শুরু করেছে। আমরা আশা করতে চাই, সরকার নিজেদের ভুল নীতি পরিহার করে জনকল্যাণমূলক, জনবান্ধব নীতিতে ফিরে আসবে।’
বাজেট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘গত সাড়ে ১৭ বছরে বাজেট থেকে যেভাবে আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা ২৯ লাখ কোটি টাকা চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল, সেই পথে আপনারা হাঁটবেন না।’
বিএনপি সরকার গঠনের আগে ও পরে দেশে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটা চাঁদাবাজকেও আইনের আওতায় আনতে পারেন নাই। ঘুস-দুর্নীতি বন্ধ করেন নাই; বরং মিটার আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। যদি এ অবস্থা জারি থাকে, তাহলে একটি গোষ্ঠীর ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, জনগণের নয়। জনগণ আর এটা দেখতে চায় না।’
নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাসের নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীরা ভালো নেই। চাঁদাবাজরা তাদের ভালো থাকতে দিচ্ছে না। দখলদারি, হাটবাজার-মহালগুলো হাতবদল হয়েছে। এমনকি ব্যাংক ডাকাতরা ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে, তাদের ব্যবসাগুলো কেউ না কেউ দেখাশোনা করছে।’
এ সময় অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে সরিয়ে দিয়ে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান জামায়াত আমির। পরে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে মহানগর জামায়াতের আমির আবদুল জব্বারকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মঈনুদ্দিন আহমাদ, জেলা জামায়াতের আমির মমিনুল হক সরকার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম প্রমুখ।


