ডব্লিউজিসির জরিপ প্রতিবেদন বৈশ্বিক অস্থিরতা সত্ত্বেও স্বর্ণের মজুদ বাড়াবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো
জুন ২০, ২০২৬
সরকার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করছে —জামায়াত আমির
জুন ২০, ২০২৬
ডব্লিউজিসির জরিপ প্রতিবেদন বৈশ্বিক অস্থিরতা সত্ত্বেও স্বর্ণের মজুদ বাড়াবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো
জুন ২০, ২০২৬
সরকার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করছে —জামায়াত আমির
জুন ২০, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর সংশোধন হতে পারে শ্রমবাজার নিয়ে এমওইউর ধারা, গুরুত্ব অভিবাসন ব্যয় হ্রাসে

 

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২১ ও ২২ জুনের এ সফরে শ্রমবাজারের দীর্ঘদিনের সংকটগুলোর টেকসই সমাধানের পথ খোঁজা হতে পারে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটি বারবার বন্ধ ও খোলার যে চক্রে পড়েছে, তা থেকে বেরিয়ে এসে একটি দীর্ঘমেয়াদি, নিয়মিত ও স্বচ্ছ কাঠামো দাঁড় করানো এ শীর্ষ বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কর্মী পাঠাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আগের এমওইউ সংশোধন, বন্ধ হওয়া শ্রমবাজার চালু, অভিবাসন ব্যয় কমানোসহ অনিয়মিত কর্মীদের বৈধ করার বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবে ঢাকা।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটি বাংলাদেশের জন্য এ পর্যন্ত তিনবার বন্ধ হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া বন্ধ করে দেয় দেশটি। ২০২১ সালে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) একটি নির্দিষ্ট ধারার কারণে বাংলাদেশ নিজ দেশ থেকে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে রিক্রুটিং এজেন্সি নির্ধারণ করতে পারছিল না। চুক্তিতে পরিষ্কার বলা ছিল, মালয়েশিয়া সরকারই বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করবে। এ ধারার সুযোগ নিয়েই মালয়েশিয়ায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পুরো বাজার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন সফরে এমওইউর এ ধারা সংশোধন করে বাজারটি সব এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পাঠানো ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির সবাইকে সুযোগ দেয়ার জন্য মালয়েশিয়াকে প্রস্তাব দেয়া হতে পারে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এর আগে ‘জিরো কস্ট’ বা বিনা খরচে কর্মী নেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। বাংলাদেশ সরকার এবার এ ‘জিরো মাইগ্রেশন কস্ট’-কে ভিত্তি করে একটি স্বচ্ছ নিয়োগ পদ্ধতি চালুর ওপর সর্বোচ্চ জোর দেবে। এছাড়া প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কর্মীদের ন্যূনতম প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে পাঠানো হবে, যাতে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী তারা মালয়েশিয়ায় ন্যায্য বেতন ও মর্যাদা পান।

জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অবৈধ বা অনিয়মিত বাংলাদেশীদের বৈধকরণের বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় উঠে আসতে পারে, তবে এক্ষেত্রে সরকারের নীতি অত্যন্ত স্পষ্ট। যারা বৈধ উপায়ে ওয়ার্কিং ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন কিন্তু পরে নানা পরিস্থিতির কারণে অবৈধ হয়ে পড়েছেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের পুনরায় সুযোগ দেয়ার জন্য মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ জানানো হবে। তবে যারা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছে, তাদের বৈধ করার সুপারিশ করা হবে না।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। তাদের উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃ‌তিসংক্রান্ত দু‌টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও কাউন্টার টেরোরিজম এবং এফটিএ নেগোসিয়েশন-সংক্রান্ত দু‌টি নোট অব এক্সচেঞ্জ সই হতে পারে। তবে বৈঠকে মূল অগ্রাধিকার থাকবে শ্রমবাজার। বিশেষ করে বন্ধ শ্রমবাজার চালু করা। সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইবনে আলমারহুম সুলতান ইসকান্দারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করতে পারেন। এছাড়া মালয়েশিয়ার বন্দর ব্যবস্থাপনাকারী বৃহত্তম গ্রুপ এমএমসি পোর্টসের চেয়ারম্যান, এয়ার এশিয়ার চেয়ারম্যান ও পেট্রোনাস গ্রুপের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে নতুন কোনো সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি সই হবে কিনা জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সাধারণত কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী সফরে গেলে বিভিন্ন খাতে একাধিক এমওইউ সই হয়। এমওইউর কিছু ধারা সংশোধন করার বিষয়ে দুই দেশের ওয়ার্কিং কমিটির অনেকদিন ধরেই আলাপ-আলোচনা হচ্ছিল। ওই এমওইউর কারণে দেশ থেকে কোন এজেন্সিগুলো লোক পাঠাবে সেটা আমরা ঠিক করতে পারি না। চুক্তিতে পরিষ্কার বলা আছে মালয়েশিয়ান গভর্নমেন্ট শ্যাল সিলেক্ট দ্য বিআরএ অব বাংলাদেশ। এ ধারাটা থাকার জন্য আমরা সবার জন্য বাজার উন্মুক্ত করতে পারছি না। ওই চুক্তিটা সংশোধনের জন্য জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটি অনেকদিন ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছে।’

মালয়েশিয়া যাওয়ার ক্ষেত্রে উচ্চ অভিবাসন ব্যয় কমানোর চেষ্টা থাকবে জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘শ্রমবাজার চালুর পাশাপাশি আমাদের প্রবাসী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানোর একটা সুরাহা হতে পারে। প্রবাসীদের বিদেশযাত্রার প্রক্রিয়াটি আরো সহজ ও স্বচ্ছ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *