বুড়িপোতা সীমান্ত দিয়ে ৪ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা
জুন ২০, ২০২৬
শেরপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৭৭০ বস্তা চাল জব্দ, আটক ১
জুন ২০, ২০২৬
বুড়িপোতা সীমান্ত দিয়ে ৪ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা
জুন ২০, ২০২৬
শেরপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৭৭০ বস্তা চাল জব্দ, আটক ১
জুন ২০, ২০২৬

ইউটিউব দেখে হাঁস পালন করে ভাগ্য বদলেছেন মাহফুজার

দিনাজপুরের হিলিতে হাঁস পালন করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি এলাকার বেকার যুবকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মাহফুজার রহমান নামে এক যুবক।

মাত্র ১০০টি হাঁস নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রা শুরু করা মাহফুজারের খামারে বর্তমানে হাঁসের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজারে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা এ খামার থেকে তার বছরে আয় হচ্ছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। এতে শুধু নিজের ভাগ্যবদলই নয়, এলাকার বেশকিছু বেকার যুবকের নিয়মিত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

হিলির আলীহাট ইউনিয়নের রিকাবি চকচকা গ্রামের বাসিন্দা মাহফুজার রহমান জানান, সম্পূর্ণ বেকার অবস্থায় ঘরে বসে না থেকে ২০২২ সালে ইউটিউবে হাঁস পালনের ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হন। এরপর রানীগঞ্জ হাট থেকে মাত্র ১০০টি দেশী হাঁসের বাচ্চা কিনে খামার শুরু করেন। প্রথমবারেই ভালো লাভ হওয়ায় তিনি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। এরপর ধাপে ধাপে ৫০০, দুই হাজার ও সবশেষে ১০ হাজার হাঁস লালন-পালন শুরু করেন। মাহফুজার বলেন, ‘‌হাঁসের বাচ্চা তোলার পর থেকে আড়াই মাস পর্যন্ত লালন-পালন করতে হয়। আড়াই মাসে এগুলো মাংস হিসেবে বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে। পাইকারি বাজারে বর্তমানে প্রতিটি হাঁস ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি হাজার হাঁসে তার ৬০-৭০ হাজার টাকা লাভ থাকে। বাজার দর ভালো থাকলে লাভের পরিমাণ আরো বাড়ে।’

স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান ও আবদুল রাজ্জাক জানান, বর্তমানে বাজারে ব্রয়লার মুরগি বা গরুর মাংসের দাম অনেক বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে সুস্বাদু দেশী হাঁসের চাহিদা ব্যাপক। ধান কাটার পর মাঠের খোলা জলাশয়ে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে হাঁসগুলো পালন করায় এগুলোর রোগবালাই কম হয়, মাংসের স্বাদও দারুণ। মাহফুজারের এ সাফল্য দেখে এলাকার অন্য বেকার যুবকরাও এখন হাঁস পালনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

মাহফুজারের এ উদ্যোগ কেবল তার নিজের আর্থিক সচ্ছলতাই আনেনি, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। বর্তমানে তার খামারে প্রতিদিন পাঁচজন বেকার শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। খামারে কর্মরত আব্দুল রহিম জানান, সকালে হাঁসগুলোকে খাবার দিয়ে মাঠে নিয়ে যাওয়া, দেখভাল করা এবং দিনে তিনবার খাবার দেয়ার দায়িত্ব তারা পালন করেন। আগে বেকার থাকলেও এখন খামারের উপার্জিত বেতন দিয়ে তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ পরিবার ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ ভালোভাবে চালাতে পারছেন।

এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে হাকিমপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোনতাসির মামুন বলেন, ‘‌প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে খামারিদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে সুলভমূল্যে হাঁসের ভ্যাকসিন সরবরাহ করার পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদের হাঁস পালনের আধুনিক পদ্ধতি, সুষম খাদ্য তৈরি এবং রোগবালাই দমনে বিভিন্ন পরামর্শ ও লিফলেট দেয়া হচ্ছে।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *