দেশের তিন জেলায় বজ্রপাতে ৭ জনের মৃত্যু
জুন ১৯, ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক আজ হচ্ছে না সমঝোতা হলেও অনেক প্রশ্ন অমীমাংসিত
জুন ১৯, ২০২৬
দেশের তিন জেলায় বজ্রপাতে ৭ জনের মৃত্যু
জুন ১৯, ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক আজ হচ্ছে না সমঝোতা হলেও অনেক প্রশ্ন অমীমাংসিত
জুন ১৯, ২০২৬

৪১ শতাংশের বেশি ঘাটতি জনবল নিয়ে চলছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের কার্যক্রম

রাজস্ব আহরণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকারের ক্রমবর্ধমান বাজেটে অর্থায়ন নিশ্চিতের দায়িত্বটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি)।

বিভাগটির এ-সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয় অধীন চার সংস্থা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনাল এবং ট্যাক্সেস আপিলাত ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভাগটির জনবল সংকট বেশ প্রকট হয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সর্বশেষ প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগটি এবং এর অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থাগুলোয় মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২৭ হাজার ৯৪৯। এর বিপরীতে শূন্যপদের সংখ্যা ১১ হাজার ৫৩০। সে অনুযায়ী, বিভাগের মোট জনবল ঘাটতি রয়েছে অনুমোদিত পদের বিপরীতে ৪১ দশমিক ২৫ শতাংশের বেশি।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের আদায় কার্যক্রমে প্রধানতম ভূমিকা রাখে এনবিআর। কর, ভ্যাট ও শুল্ক আদায়ের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আহরণের প্রধানতম হাতিয়ারের ভূমিকাও পালন করে থাকে সংস্থাটি। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও এর অধীন সংস্থাগুলোর মধ্যে জনবল সংকটও এনবিআরেই সবচেয়ে বেশি প্রকট। সংস্থাটিতে শূন্যপদের সংখ্যা এখন ১১ হাজার ২৪৫। সে অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের মোট জনবল ঘাটতির প্রায় ৯৮ শতাংশই বহন করতে হচ্ছে এনবিআরকে।

প্রতি বছরই ধারাবাহিকভাবে বাজেটের আকারের সঙ্গে বাড়ছে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যও। প্রবৃদ্ধি থাকলেও নিয়মিতভাবেই সংস্থাটিকে বেধে লক্ষ্য ও রাজস্বের প্রকৃত আহরণের মধ্যে থেকে যাচ্ছে বড় ধরনের ব্যবধান। এজন্য কর কাঠামো ও নীতিগত প্রতিবন্ধকতাগুলোর পাশাপাশি জনবল সংকটকেও এনবিআরের রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ জনবল ঘাটতি শুধু এনবিআরের বর্ধিত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে না, একই সঙ্গে বিদ্যমান জনবলের ওপরও বড় চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাপে পড়ছে তাদের কাজের উদ্দীপনা ও উৎপাদনশীলতাও। ত‌বে বিষয়‌টি নি‌য়ে নাম প্রকাশ ক‌রে এন‌বিআ‌রের কেউ কথা বল‌তে রাজী হননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এটি সরকারি সব সংস্থারই একটি চিরাচরিত সমস্যা। সবার জন্যই বিষয়টি ক্ষতিকর। তবে এনবিআরের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরো বেশি। কারণ সংস্থাটির রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নিয়মিতভাবেই বাড়ছে। অথচ সংস্থাটিতে জনবলের ঘাটতি এখন বেশ প্রকট। দেশের রাজস্ব আহরণ বাড়াতে এ কাজে নিয়োজিত সংস্থাটির প্রতিটি পর্যায়ে সঠিক লোক ও সঠিক দক্ষতার সঠিক সংমিশ্রণ প্রয়োজন। শুধু রাজস্ব আহরণ নয়, ব্যবস্থাপনার জন্যও এটি জরুরি। কারণ জনবলের ঘাটতি বেশি প্রকট হয়ে পড়লে কাজের মান ও স্বচ্ছতাও ব্যাহত হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি এনবিআরের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি সেখানে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক মেধাবী ও দক্ষ লোকজন রয়েছেন। তাদের দক্ষতা আসলেই প্রশংসনীয় পর্যায়ের। কিন্তু জনবল ঘাটতির কারণে একজনকে যদি বাড়তি কাজ করতে হয়, তাহলে এমনিতেই চাপে পড়তে হয়। যদি সিস্টেম থেকে এর যথাযোগ্য প্রণোদনা না পাওয়া যায়, তখন কাজের উদ্দীপনা ও উৎপাদনশীলতাও চাপে পড়ে যায়। এসব কর্মকর্তার কাছ থেকে সর্বোচ্চ আউটপুট পেতে হলে দক্ষতা ও জনবলের যথাযথ মিশ্রণটিকে নিশ্চিত করতে হবে।’

এনবিআরের সর্বশেষ প্রকাশিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটিতে মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২২ হাজার ২১৪। এর মধ্যে এনবিআর সদর দপ্তরে অনুমোদিত পদসংখ্যা ৬১৫। প্রত্যক্ষ কর খাতে অনুমোদিত পদসংখ্যা ৮ হাজার ৯৩১। পরোক্ষ কর খাতে তা ১২ হাজার ৬৬৮। এছাড়া গত বছরের অক্টোবরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসনে নতুন করে আরো ৩ হাজার ৫৯৭টি পদ সৃষ্টি করা হয়। সে অনুযায়ী, বর্তমানে এনবিআরে অনুমোদিত মোট পদের সংখ্যা অন্তত ২৫ হাজার ৮১১।

এনবিআরের জনবল ঘাটতি রাজস্ব প্রশাসনের সক্ষমতা, করজাল সম্প্রসারণ, কর নিরীক্ষা, ভ্যাট তদারকি ও শুল্ক ব্যবস্থাপনার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

রাজস্ব আহরণ বাড়িয়ে কর-জিডিপি অনুপাত উন্নীত করা, করজাল সম্প্রসারণ, কর প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তর ও করদাতাবান্ধব সেবা নিশ্চিতে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের দায়িত্ব এনবিআরের। আবার কর, ভ্যাট ও রাজস্ব-সংক্রান্ত বিরোধ ও অভিযোগ নিষ্পত্তির কাজগুলো সম্পন্ন হয় ট্যাকসেস আপিলাত ট্রাইব্যুনালে এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে। আবার জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মাধ্যমে আহরণ ও জাতীয় বাজেট ঘাটতি পূরণে তা কাজে লাগানোর কাজটি সঞ্চয় অধিদপ্তরের।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *