
নিষ্প্রভ রোনালদো কঙ্গোর কাছে পয়েন্ট খোয়াল পর্তুগাল
জুন ১৮, ২০২৬
টার্মিনাল স্থানান্তর পরিকল্পনা বাস থামবে উপকণ্ঠে চ্যালেঞ্জ নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক নগর প্রবেশ
জুন ১৮, ২০২৬
একসময় রোনালদোকে বেঞ্চে বসিয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন জাতীয় দলের কোচ ফের্নান্দো সান্তোস। পরে দায়িত্ব নেয়া রবার্তো মার্তিনেজ ঘোষণা করেছিলেন, তার দল গড়ে উঠবে রোনালদোকে কেন্দ্র করেই। সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা গেছে এ ম্যাচেও
বিশ্বকাপের শুরুটা মোটেও প্রত্যাশামাফিক হলো না পর্তুগালের। কাবো ভার্দের কাছে স্পেনের পয়েন্ট হারানোর পর প্রতিবেশী দেশ পর্তুগালও হোঁচট খেল প্রথম ম্যাচে। গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হওয়া ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে রোনালদোর নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছিল, ১১ জন নয় ১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলছিল ফেভারিট দলটি।
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত তারকাদের মধ্যে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ড নিজেদের প্রথম ম্যাচেই গোল পেয়েছেন। মেসি তো করেছেন হ্যাটট্রিক। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নজর ছিল রোনালদোর দিকে। কিন্তু ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড পুরো ম্যাচে ছিলেন প্রায় অদৃশ্য।
ম্যাচজুড়ে রোনালদোকে খুব কমই বলের সংস্পর্শে দেখা গেছে। আক্রমণ গড়তে পারেননি, আবার সতীর্থদের তৈরি করে দেয়া সুযোগও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন। দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সিসকো কনসেসাওয়ের দুটি বিপজ্জনক ক্রস পেয়েও ঠিকমতো শট নিতে পারেননি তিনি। দু’বারই বল মিস করে পড়ে যান।
রোনালদোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বয়সের কারণে আগের মতো গতিময় ফুটবল খেলতে না পারাটা স্বাভাবিক। কিন্তু বল হারানোর পর তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টাও প্রায় দেখা যায়নি। প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা কিংবা নিচে নেমে খেলা তৈরির কাজেও ছিলেন অনুপস্থিত। অনেক সময় মনে হয়েছে, পর্তুগাল যেন ১০ জন নিয়ে খেলছে।
একসময় রোনালদোকে বেঞ্চে বসিয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন জাতীয় দলের কোচ ফের্নান্দো সান্তোস। পরে দায়িত্ব নেয়া রবার্তো মার্তিনেজ ঘোষণা করেছিলেন, তার দল গড়ে উঠবে রোনালদোকে কেন্দ্র করেই। সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা গেছে এ ম্যাচেও। অধিনায়কের আর্মব্যান্ড হাতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঠে ছিলেন রোনালদো। কিন্তু তার পারফরম্যান্স সেই আস্থার প্রতিদান দিতে পারেনি।
অথচ পর্তুগালের মিডফিল্ডে ছিল ব্রুনো ফের্নান্দেজ, ভিটিনহা ও বের্নার্দো সিলভার মতো তারকা। ক্লাব ফুটবলে যারা ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন, জাতীয় দলের জার্সিতে তাদের মধ্যে সেই বোঝাপড়া দেখা যায়নি। ভিটিনহা নিরলস পরিশ্রম করে খেলা গড়ার চেষ্টা করলেও ম্যাচের শেষ দিকে তাকেই তুলে নেয়া হয়। মাঠে থেকে যান রোনালদো।
শুধু আক্রমণ নয়, রক্ষণভাগেও ভুগেছে পর্তুগাল। কঙ্গোর সমতাসূচক গোলের সময় ইয়োনে উইসাকে হেড নিতে কার্যত বিনা বাধায় সুযোগ দেয়া হয়। রেনাতো ভেগা ও টমাস আরাউখোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও স্পষ্ট ছিল।
অন্যদিকে কঙ্গো শুরু থেকেই রক্ষণভিত্তিক কৌশল নেয়। যদিও ম্যাচের ছয় মিনিটেই জোয়াও নেভেসের দুর্দান্ত হেডে পিছিয়ে পড়ে তারা। পেদ্রো নেতোর ক্রস থেকে পাওয়া সেই গোলের পর আরো সংগঠিত হয়ে রক্ষণভাগ সামলায় আফ্রিকার দলটি। লম্বা ডিফেন্ডারদের সামনে পর্তুগালের সেট-পিস ও ক্রস বারবার ব্যর্থ হয়। ছোট কর্নার, ছোট পাস—কোনো কৌশলই কাজে আসেনি।
ফলাফল ১-১। কিন্তু ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা থেকে গেছে অন্য জায়গায়— পর্তুগালের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকা রোনালদো কি এখনও দলের সবচেয়ে বড় শক্তি, নাকি তিনি এখন দলের জন্য বাড়তি বোঝা?


