মেসি ম্যাজিকেই শুরু আর্জেিন্টনার বিশ্বকাপ হে নূতন, দেখা দিক আর-বার
জুন ১৮, ২০২৬
মনে হচ্ছিল ১০ জনে খেলছে পর্তুগাল!
জুন ১৮, ২০২৬
মেসি ম্যাজিকেই শুরু আর্জেিন্টনার বিশ্বকাপ হে নূতন, দেখা দিক আর-বার
জুন ১৮, ২০২৬
মনে হচ্ছিল ১০ জনে খেলছে পর্তুগাল!
জুন ১৮, ২০২৬

নিষ্প্রভ রোনালদো কঙ্গোর কাছে পয়েন্ট খোয়াল পর্তুগাল

আর্লিং হালান্ড ও কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল, লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকের পর অপেক্ষা ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর।

কিন্তু পর্তুগিজ মহাতারকা আলো ছড়াতে পারলেন না নিজের শেষ বিশ্বকাপ অভিযানের প্রথম ম্যাচে। যখন তাকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখন একাধিক সুযোগ পেয়েও গোলের ঠিকানা খুঁজে নিতে পারেননি ৪১ বছর বয়সী ফরওয়ার্ড। ফলে ফিফা র‍্যাংকিংয়ে পঞ্চম স্থানে থাকা পর্তুগাল ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে গিয়েও ৪৬তম স্থানে থাকা ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে। হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আধিপত্য দেখিয়েও জয় তুলে নিতে পারেনি রবার্তো মার্তিনেজের দল। বরং ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ডিআর কঙ্গোর কাছে পয়েন্ট খুইয়ে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে পর্তুগালকে।

ম্যাচের শুরুতেই পর্তুগাল এগিয়ে যায়। মাঝমাঠে ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিতিনিয়া ও জোয়াও নেভেসের সমন্বয়ে বলের দখল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে তারা। ফলও আসে দ্রুত। ষষ্ঠ মিনিটে পেদ্রো নেতোর নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ হেডে গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দেন জোয়াও নেভেস। ১ দশমিক ৭৪ মিটার উচ্চতার এ মিডফিল্ডার ডিআর কঙ্গোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে প্রায় বাধাহীনভাবে বল জালে পাঠান।

গোলের পরও পর্তুগালই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। বল দখলে আধিপত্য থাকলেও গোলের দেখা পায়নি দলটি। রোনালদোকে ঘিরে গ্যালারিতে প্রতিবারই উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও আল-নাসরের এ ফরওয়ার্ডকে খুব বেশি কার্যকর অবস্থানে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে ডিআর কঙ্গো ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে। অ্যারন ওয়ান-বিসাকা ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে গতি আনেন, আর সেদ্রিক বাকাম্বু ও ইয়োয়ান উইসা নিয়মিতই পর্তুগিজ রক্ষণকে ব্যস্ত রাখেন। ১০ মিনিটে উইসার একটি শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। এর পরও আফ্রিকান দলটি সীমিত বল দখলকে কার্যকর আক্রমণে রূপ দিতে থাকে।

প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে তাদের প্রচেষ্টার পুরস্কার আসে। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে কর্নার থেকে ছোট পাসে বল পান আর্থার মাসুয়াকু। বাঁ পায়ের নিখুঁত ক্রসে পেছনের পোস্টে ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা উইসা শক্তিশালী হেডে গোল করে সমতায় ফেরান ডিআর কঙ্গোকে। গোলটি ম্যাচের গতিপথই বদলে দেয়।

বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়াতে বার্নার্দো সিলভার পরিবর্তে ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওকে নামান মার্তিনেজ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পর্তুগাল কিছুটা বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও ডিআর কঙ্গো পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক ছিল। ৫০ মিনিটে বাকাম্বু গোল পেয়েই গিয়েছিলেন, যদিও পরে অফসাইডের পতাকা ওঠে।

৫৪ মিনিটে পর্তুগালের সমর্থকদের উল্লাসে ভাসিয়েছিলেন জোয়াও ক্যানসেলো। জোয়াও নেভেসের নিয়ন্ত্রণের পর দুর্দান্ত এক অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে বল জালে পাঠান তিনি। কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। সিদ্ধান্তটি ছিল সঠিক। এর পরও সুযোগ তৈরি হয়েছে দুই প্রান্তেই। ৫৬ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বাকাম্বু গোলের দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিলেন, কিন্তু তার শট পোস্টের বাইরের অংশে লেগে বেরিয়ে যায়।

এরপর ৬৯ মিনিটে ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওয়ের পাস থেকে রোনালদো গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেলেও সঠিক সংযোগ করতে না পারায় বল চলে যায় পোস্টের বাইরে। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো দর্শক তখন গোলের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু হতাশাই সঙ্গী হয় ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ মহাতারকার।

৭১ মিনিটে আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করার লক্ষ্যে রাফায়েল লেয়াও ও নেলসন সেমেদোকে মাঠে নামান পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। পেদ্রো নেতো ও নুনো মেন্দেসকে তুলে এনে তিনি ম্যাচের শেষভাগে আরো গতিময় ফুটবলের ইঙ্গিত দেন।

২ মিনিট পর সেই পরিবর্তনের প্রভাবও দেখা যায়। ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও ডান প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে গিয়ে বক্সের ভেতরে বল ফেরান রোনালদোর উদ্দেশে। তবে শেষ মুহূর্তে ডিআর কঙ্গোর এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল বাইরে চলে যায়।

৭৭ মিনিটে কর্নার থেকে আক্রমণে উঠে গিয়ে উল্টো বিপদে পড়ে পর্তুগাল। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যায় কঙ্গো। শেষ পর্যন্ত বল পেয়ে যান সেদ্রিক বাকাম্বু, কিন্তু বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেয়া তার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। অল্পের জন্য রক্ষা পায় পর্তুগাল।

৮০ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের উঁচু পাস থেকে ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছে গেলে তাকে ফাউল করা হয়েছে বলে দাবি তোলে পর্তুগাল। তবে রেফারি অফসাইডের সিদ্ধান্ত দিলে সম্ভাবনাময় আক্রমণটি থেমে যায়। অন্যদিকে ৮২ মিনিটে আবারো উঁচু জায়গা থেকে বল কেড়ে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ গড়ে ডিআর কঙ্গো, যদিও এদো কায়েম্বের শেষ পাসটি ঠিকঠাক না হওয়ায় সুযোগ হাতছাড়া হয়। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিতে না পেরে ৮৩ মিনিটে আরো আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করেন রবার্তো মার্তিনেজ। মিডফিল্ডার ভিতিনিয়াকে তুলে স্ট্রাইকার গনসালো রামোসকে নামান পর্তুগাল কোচ।

৮৮ মিনিটে জোয়াও ক্যানসেলোর নিচু ক্রস ছয় গজ বক্সে বিপদ তৈরি করলেও ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলটি ধরে ফেলেন। ৯০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ব্রুনো ফার্নান্দেজ দূরপাল্লার শটে ভাগ্য পরীক্ষা করলেও বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পাঁচ মিনিট যোগ করা সময়েও ডিআর কঙ্গো সহজে হার মানেনি। ৯৩ মিনিটে ইয়োয়ান উইসা দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণে বল এগিয়ে নিয়ে গেলে তাকে থামাতে অবৈধভাবে বাধা দেন তোমাস আরাউজো, ফলে হলুদ কার্ড দেখেন পর্তুগিজ ডিফেন্ডার। শেষ পর্যন্ত আর কোনো দলই গোলের দেখা না পাওয়ায় ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।

ফলে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করার সুযোগ হাতছাড়া করল পর্তুগাল। আর ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ডিআর কঙ্গো দেখিয়ে দিল, তারা শুধু অংশগ্রহণ করতেই আসেনি। রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম ধাক্কাটা দিয়ে দিল আফ্রিকার ‘লিওপার্ডস’রাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *