তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবে ভারত থেকে ফিরে এসেছি —উপদেষ্টা জাহেদ
জুন ১৭, ২০২৬
শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল —স্বাস্থ্যমন্ত্রী
জুন ১৭, ২০২৬
তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবে ভারত থেকে ফিরে এসেছি —উপদেষ্টা জাহেদ
জুন ১৭, ২০২৬
শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল —স্বাস্থ্যমন্ত্রী
জুন ১৭, ২০২৬

মোবাইল ও মাদকাসক্তি থেকে যুবসমাজকে রক্ষায় কর্মশালার আয়োজন চলছে —যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

 

দেশের যুবসমাজকে মোবাইল আসক্তি, মাদকাসক্তিসহ বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে সচেতন করার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়াধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিটি জেলায় জনসচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

গতকাল সংসদে নওগাঁ-৬ আসনের সরকারি দলের সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের টেবিলে উত্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

আমিনুল হক বলেন, ‘যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত যুব সংগঠনের মাধ্যমে যুব ও যুব নারীদের মোবাইল আসক্তি, মাদকাসক্তিসহ বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করা হয়ে থাকে।’

তিনি জানান, যুবসমাজকে মোবাইল আসক্তি ও মাদক সেবন থেকে দূরে রেখে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়াধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের মাধ্যমে এক থেকে ছয় মাস মেয়াদি পোশাক তৈরি, ব্লক-বাটিক, মৎস্য চাষ, মডার্ন অফিস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন কোর্স, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউজওয়্যারিং, ইলেকট্রনিকস, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং, মোবাইল সার্ভিসিং ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

এছাড়া আবাসিক যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্য চাষ ও এর প্রাথমিক চিকিৎসা এবং কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রতিটি জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী আরো জানান, দেশের সব উপজেলার বেকার যুব ও যুব নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মকর্মী হওয়ার লক্ষ্যে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে নিয়মিতভাবে অপ্রাতিষ্ঠানিক ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। উপরন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই যুবসমাজকে মোবাইল আসক্তি ও মাদক সেবন থেকে দূরে রেখে তাদের কর্মসংস্থানের জন্য ১৮০ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিভিন্ন প্রকল্প-কর্মসূচি প্রণয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

এর মধ্যে রয়েছে দেশের সব মহানগরে কর্মহীন যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। দেশের সব মহানগরে কর্মহীন যুবদের মোবাইল সার্ভিসিং ও ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

দেশের সব মহানগরে কর্মহীন যুবদের কেয়ারগিভিং ও বিদেশী ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বেকার যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

এছাড়া জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সব জেলার বেকার যুব ও যুব নারীদের জন্য আইসিটি, ফ্রিল্যান্সিং, কৃষি, ট্যুরিজম, আরএমজি, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ও ভাষাবিষয়ক বিভিন্ন মেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স চালু রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের (পাবনা-৩) সরকারি দলের আরেক সদস্য আরিফা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়াধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় সব জেলা ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয় এবং যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান কর্মসূচি চালু রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাতিষ্ঠানিক ট্রেডে রয়েছে ৪১টি ট্রেড, যার মেয়াদ এক থেকে ছয় মাস। এসব ট্রেডের মধ্যে রয়েছে পোশাক তৈরি, ব্লক বাটিক, মৎস্য চাষ, মডার্ন অফিস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কম্পিউটার বেসিক ট্রেনিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড হাউজওয়্যারিং, ইলেকট্রনিকস রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং, মোবাইল সার্ভিসিং অ্যান্ড রিপেয়ারিং ইত্যাদি। এসব ট্রেডে অনাবাসিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

এছাড়া আবাসিক যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি পালন, গরু মোটাতাজাকরণ, মৎস্য চাষ এবং কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এসব ট্রেড জেলা পর্যায়ে পরিচালিত হয় বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণে রয়েছে ৪২টি ট্রেড, যা উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে দেয়া হয়। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পারিবারিক হাঁস-মুরগি পালন, ব্রয়লার ও ককরেল পালন, বাড়ন্ত মুরগি পালন, ছাগল পালন, গরু মোটাতাজাকরণ, পারিবারিক গাভী পালন, কবুতর পালন, মৌমাছি চাষ করে মধু আহরণ, বসতবাড়িতে সবজি পালন, নার্সারি, সোলার প্যানেল স্থাপন, নকশি কাঁথা তৈরি, বাঁশ ও বেতের সামগ্রী তৈরি ইত্যাদি।

এছাড়া জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে ১৮-৩৫ বছর বয়সী সব জেলার বেকার যুব ও যুব নারীদের জন্য আইসিটি, ফ্রিল্যান্সিং, কৃষি, ট্যুরিজম, আরএমজি, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ও ভাষাবিষয়ক বিভিন্ন মেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স চলমান রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *