
আন্দামান সাগরে ১০০ টিসিএফের বেশি গ্যাস পেল মিয়ানমার
জুন ১৭, ২০২৬
মোবাইল ও মাদকাসক্তি থেকে যুবসমাজকে রক্ষায় কর্মশালার আয়োজন চলছে —যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
জুন ১৭, ২০২৬
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে নিজের সঙ্গে যা হয়েছে তার প্রতিবাদ হিসেবে ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
গতকাল সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
ভারতীয় বিমানবন্দরের ঘটনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, ‘পত্রপত্রিকায় যা যা দেখছেন, নানা সূত্র থেকে বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার মিডিয়ায় যা যা এসেছে, আসলে ঘটনাগুলো ঠিক এ রকমই ঘটেছে। আমি আমার জায়গা থেকে খুব অল্প কথা বলি। আমি ওখানে একটা ব্যক্তি হিসেবে যাইনি—এ সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছি, এ রাষ্ট্রের একজন প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছি। ফলে আমার সঙ্গে সেখানে যা হয়েছে, আমার কাছে মনে হলো যে আমাদের ইনস্ট্যান্ট একটা প্রতিবাদ করা দরকার। সে কারণেই আমি আসলে ব্যাক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘যদিও আপনারা মিডিয়ায় দেখেছেন, একটা পর্যায়ে তারা খুবই চেষ্টা করেছেন আমি যেন ভারতে প্রবেশ করি এবং আমার যে নিয়মিত কর্মকাণ্ড, সেটায় অংশগ্রহণ করি। কিন্তু আমি সেটা আর করিনি। কারণ আমার মনে হয়েছে, আবারো বলছি, এটা আমি ব্যক্তি হিসেবে মনে করেছি তা না, আমি মনে করেছি এ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা হিসেবে, তখন আমার মনে হয়েছে এ রাষ্ট্র বা সরকারের পক্ষ থেকে একটা সিগনেচার থাকা দরকার।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমার কখনো এ উদ্দেশ্য নেই যে এটার মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি কোনো নেগেটিভ পরিস্থিতি তৈরি হোক। আমার মনে হয়েছে একটা মেসেজ এই দেশ ও এই দেশের বাইরে সবার কাছে যাওয়া দরকার, সেটা হচ্ছে এটা শেখ হাসিনার সরকার না। এটা জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত একটা সরকার।’
এ ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কে চাপ তৈরি করবে কিনা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা নিয়ে চাপ তৈরি করা কোনোভাবেই উচিত না। আমি অলরেডি বলেছি যে এখানে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেটার একটা ইনস্ট্যান্ট রিঅ্যাকশন হিসেবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে, সরকারের পক্ষ থেকে আমি এ পদক্ষেপ নিয়েছি। এটা আমি মনে করি আমাদের জায়গা থেকে এর পরবর্তীতে যা যা হচ্ছে, এখন আমরা আর কী করব না করব, সেই ব্যাপারে আমি আসলে বলব না, বলছি না।’
কারণ হিসেবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এটা আপনারা অলরেডি দেখেছেন আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এটা চলে গেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যা যা করণীয় করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন, আপনারা দেখেছেন হাইকমিশনের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করছেন। এটা তারা আসলে বলবেন, এ সরকার কতটা প্রতিক্রিয়া দেখাবে। কিন্তু আমি এক্সপেক্ট করব, এ ঘটনার প্রভাব দুই দেশের ভবিষ্যতের এনগেজমেন্টের জন্য, আমি এনগেজমেন্ট কথাটা বলছি, এ ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এনগেজমেন্ট ইজ ইম্পর্ট্যান্ট, এনগেজমেন্টের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে না।’
প্রতিবেশী পাল্টানো যায় না উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এটা সত্য কথা। কিন্তু এ কথাটা ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রেও সত্য। তারা চাইলেও আমাদের পাল্টাতে পারছেন না। আমরা তার প্রতিবেশী হিসেবে থেকেই যাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি তাদের সরকার এ ব্যাপারটা বোঝেন, বুঝবেন। যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, এটাকে আসলে আমি মনে করি একধরনের বার্তা, পজিটিভ বার্তা হিসেবেই নেয়া দরকার। একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ বাংলাদেশ। ওভারওয়েলমিং মেজরিটি নিয়ে জেতা একটা সরকার ক্ষমতায় আছে, দায়িত্বে আছে, যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সিট পেয়েছে। যে ৫০ শতাংশের বেশি পাবলিক ম্যান্ডেট পেয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে এটা কোথায় যেত, এটার একটা হিসাবও আছে। সেই সরকারের সঙ্গে তার আত্মমর্যাদা ঠিক রেখে এনগেজ করতে হবে। এটা আমি বিশ্বাস করি ইন্ডিয়ার প্রশাসন, নীতিনির্ধারকরা বুঝতে পারবেন। এ ঘটনা হয়তো তাদের একটু সতর্ক করবে। কিন্তু আমি মনে করি না এটা সম্পর্ককে কোনো খারাপ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে।’


