
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার
জুন ১৫, ২০২৬
জমজমাট লড়াই জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়াল অস্ট্রেলিয়া
জুন ১৫, ২০২৬জার্মান ফুটবলের নির্মম ও নির্দয় রূপ বহুবার দেখেছে বিশ্ব। ২০০২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জালে ৮ গোল কিংবা ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলকে ৭-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করার স্মৃতি আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়।
সেই বেলো হরিজন্তের রাত যেন ফিরে এল যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে। পার্থক্য শুধু প্রতিপক্ষের নাম। সে সময় জার্মান গোলের ভারে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল সেলেসাওরা। এবার একই নির্মমতার শিকার বিশ্বকাপে অভিষিক্ত কুরাসাও। দেড় লাখ জনসংখ্যার ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটি প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই জার্মানির গোলঝড়ে ৭-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়েছে। শুরুতে গোল হজমের পর কুরাসাও একবার সমতায় ফিরেছিল বটে, কিন্তু এরপর যেন জেগে ওঠে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রুদ্রমূর্তি। একের পর এক আক্রমণ, নিখুঁত পাসিং, সেট-পিসে ধারাবাহিক সাফল্য আর গোলের অবিরাম মিছিলে প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি ছিন্নভিন্ন করে বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারো নিজেদের শক্তিমত্তার ঘোষণা দিল জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল।
হিউস্টনে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘ই’র ম্যাচে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখে জার্মানি। ষষ্ঠ মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভির্টজের পাস থেকে ফেলিক্স এনমেচা গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। বিশ্বকাপ অভিষেকেই গোল করে ২০১৪ সালে ম্যাটস হুমেলসের পর প্রথম জার্মান ফুটবলার হিসেবে এ কীর্তি গড়েন তিনি।
তবে ২১ মিনিটে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোল পেয়ে চমক দেখায় কুরাসাও। জার্গেন লোকাদিয়ার শট প্রতিহত হওয়ার পর ফিরতি বলে লিভানো কোমেনেনসিয়ার শট যোশুয়া কিমিখের গায়ে লেগে জালে জড়ালে স্কোরলাইন ১-১ হয়ে যায়। কুরাসাও সমতা ফিরিয়ে কিছু সময় জার্মানদের অস্বস্তিতে রাখলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দ্রুতই নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
৩৮ মিনিটে নাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নার থেকে নিকো শ্লোটারবেকের হেডে আবারো এগিয়ে যায় জার্মানি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে এনমেচাকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় নাগেলসম্যানের দল। স্পট কিক থেকে কাই হাভার্টজ গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন।
বিরতির পর মাঠে নেমেই জার্মানদের আক্রমণ আরো ধারালো হয়ে ওঠে। ৪৭ মিনিটে কিমিখের নিখুঁত থ্রু পাস থেকে জামাল মুসিয়ালা গোল করলে ম্যাচ কার্যত কুরাসাওয়ের নাগালের বাইরে চলে যায়। এরপর একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে ইউরোপিয়ানরা।
৬৮ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা দেনিজ উনদাভের দারুণ ফ্লিক থেকে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করেন নাথানিয়েল ব্রাউন। ১০ মিনিট পর উনদাভ নিজেই গোলের খাতা খোলেন। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে উনদাভের পাস থেকে দ্বিতীয় গোল করেন হাভার্টজ। তাতেই ৭-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয় জার্মানদের।
কুরাসাওয়ের জন্য এটি ছিল স্বপ্নের মঞ্চে প্রথম পদচারণা, আর জার্মানির জন্য ছিল শক্তির প্রদর্শনী। বিশ্বকাপের দীর্ঘ যাত্রা মাত্র শুরু। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই ৭ গোল করে জার্মানি জানিয়ে দিল, দুই দশক পর আবারো তারা বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে নিজেদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে প্রস্তুত, লক্ষ্য এখনো ট্রফির দিকেই।


