
সাড়ে তিন মাস পর ৯০ ডলারের নিচে জ্বালানি তেলের দাম
জুন ১৫, ২০২৬গহনা বিক্রি কমে বিনিয়োগ বেড়েছে স্বর্ণের বার ও কয়েনে
জুন ১৫, ২০২৬স্পেসএক্সের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও বাজারে আসার পর রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন প্রতিষ্ঠানটির হাজার হাজার কর্মী।
একই সঙ্গে তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকজন নতুন বিলিয়নেয়ার বা শতকোটিপতি। বিপুল এ অর্থ কীভাবে খরচ হবে তা নিয়ে এরই মধ্যে পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছেন কর্মীরা। খবর সিএনবিসি।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন ধনকুবেরের কারণে আবাসন খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে স্পেসএক্সের কার্যালয়গুলোর আশপাশের এলাকার বিলাসবহুল বাড়ির বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠবে। পাশাপাশি দামি ঘড়ি, ব্যক্তিগত জেট বিমান ভাড়া করা ও অন্যান্য বিলাসবহুল জীবনযাত্রায় এ অর্থের একটি বড় অংশ খরচ হতে পারে। সিএনবিসির ইনসাইড ওয়েলথ নিউজলেটারে এ তথ্য উঠে আসে।
ক্যালিফোর্নিয়ার সাউথ বে এলাকার রিয়েল এস্টেট এজেন্ট জেরার্ড বিসিগনানো জানান, সম্প্রতি তিনি স্পেসএক্সের বেশ কয়েকজন দীর্ঘদিনের কর্মীর কাছ থেকে বাড়ি কেনার বিষয়ে খোঁজখবর পেয়েছেন। এসব কর্মীর বেশির ভাগের বয়স ৩৫-৪০ বছরের মধ্যে। তাদের কেউ কেউ এখন নিজের বাবা-মায়ের জন্য নতুন বাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখছেন।
ভিস্তা সদবিস’র অংশীদার বিসিগনানো বলেন, ‘ক্যালিফোর্নিয়ায় স্পেসএক্সের প্রধান কার্যালয়টি ম্যানহাটন বিচ, রেডোন্ডো বিচ, হারমোসা বিচ ও পালোস ভার্দেস এস্টেটসের মতো ধনী উপকূলীয় এলাকাগুলোর খুব কাছে অবস্থিত।’
তিনি ধারণা করছেন, কর্মীরা এসব এলাকায়ই বিলাসবহুল বাড়ি কেনার দিকে ঝুঁকবেন। এর আগে ২০১২ সালে ফেসবুকের আইপিও আসার পর সদর দপ্তরের আশপাশের এলাকায় বাড়ি কেনার এমন ধুম পড়েছিল। তখন ওই অঞ্চলের বাড়ির দাম প্রায় ২১ শতাংশ বেড়ে যায়।
বিসিগনানো মনে করেন, এবার একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার ম্যামথ লেকস, পাম স্প্রিংস ও তাহোর মতো পর্যটন এলাকাগুলোয়ও স্পেসএক্স কর্মীরা তাদের দ্বিতীয় বাড়ি কিনতে পারেন বলে তিনি ধারণা করছেন।
একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যেও। রিয়েল এস্টেট এজেন্ট গ্যারি ডলচ জানান, গ্রেটার অস্টিন এলাকায় বাড়ি কেনার জন্য স্পেসএক্স কর্মীরা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অস্টিন শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৩০ মাইল দূরে স্পেসএক্সের ব্যাস্ট্রপ ক্যাম্পাস অবস্থিত।
ডলচ জানান, কিছু কর্মী এখনই মার্জিন লোন (শেয়ারের বিপরীতে ঋণ) নিয়ে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন। আবার কেউ কেউ আইপিওর নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট লক-ইন পিরিয়ড বা শেয়ার বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন।
প্রতিবেদন বলছে, ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় বৈচিত্র্য রয়েছে। কেউ লেক অস্টিন বা লেক ট্রাভিসের পাশে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট খুঁজছেন, আবার কেউ শহর থেকে দূরে এক হাজার একরের বিশাল খামারবাড়ি কিনতে আগ্রহী।
তিন-চার বছর ধরে কিছুটা মন্দা যাচ্ছিল অস্টিনের বিলাসবহুল বাড়ির বাজার। তবে স্পেসএক্সের আইপিও আবাসন খাতকে আবার চাঙ্গা করবে বলে ডলচ অত্যন্ত আশাবাদী।
তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি খাতের এ উত্থানের হাত ধরে অস্টিন শহর সম্প্রসারণের এক নতুন ধাপে পদার্পণ করতে যাচ্ছে।’


