বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকে ‘পুশ ইন’ ইস্যু আলোচনা করতে চায় না ভারত
জুন ৯, ২০২৬
মিরপুরে আজ বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া প্রথম ওয়ানডে
জুন ৯, ২০২৬
বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকে ‘পুশ ইন’ ইস্যু আলোচনা করতে চায় না ভারত
জুন ৯, ২০২৬
মিরপুরে আজ বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া প্রথম ওয়ানডে
জুন ৯, ২০২৬

উত্তর আমেরিকায়ও কি থাকছে আফ্রিকান চমক

২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর দোহার আল থুমামা স্টেডিয়ামে ইউসেফ এন-নেসিরির একমাত্র গোলে পর্তুগালকে হারিয়ে দেয় মরক্কো।

এটি শুধুই একটি জয় ছিল না; এ জয়ে রচিত হয় নতুন ইতিহাস। প্রথম আফ্রিকান ও প্রথম আরব দেশ হিসেবে ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নাম লেখায় ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’রা। অর্থাৎ, বিশ্বকাপের প্রায় শতবর্ষের ইতিহাসে কাতারের মাঠেই প্রথমবার সেমিফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব দেখায় আফ্রিকার কোনো দল। এবার উত্তর আমেরিকার আসরেও কি থাকবে আফ্রিকান চমক?

বিশ্বকাপের দল ৩২ থেকে বেড়ে ৪৮ হওয়ায় এবার আফ্রিকা মহাদেশের প্রতিনিধিও বেড়েছে। ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ’খ্যাত আফ্রিকায় ফুটবলের আলো জ্বালাতে চায় মরক্কো, সেনেগাল, মিসর, আইভরি কোস্ট, ঘানা, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ডিআর কঙ্গো ও কেপ ভার্দে। কাতার আসরে আফ্রিকার গৌরব বয়ে আনে মরক্কো। তারা বেলজিয়াম, কানাডা, স্পেন ও পর্তুগালকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়ে। আশরাফ হাকিমি, নেসিরিরা মরক্কোর পতাকা পৌঁছে দেন বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে। এ লায়নরা কখনই আত্মসমর্পণ করে না। বিশ্বকাপে রূপকথা লেখার পর তারা এ বছর আফ্রিকান নেশন্স কাপেরও শিরোপা জিতে নেয়। যদিও ফাইনালে সেনেগালের কাছে পরাজিত দলটি আফ্রিকান শ্রেষ্ঠত্ব পায় আদালতের রায়ে।

নেশন্স কাপের শিরোপা না জিতলেই বা কী! ফাইনালে ওঠাও বড় কৃতিত্বের দাবি রাখে।

১৯৭০ সালে মেক্সিকোর মরুভূমিতে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নামে মরক্কো। তার ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর ২০২৬ সালে এসে লায়নরা বিশ্বমঞ্চে প্রথমবার গর্জে উঠল। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালিস্ট ও আফ্রিকান নেশন্স কাপের চ্যাম্পিয়ন মরক্কো এবার আরো আত্মবিশ্বাসী হয়ে নামছে ২৩তম বিশ্বকাপে। ‘সি’ গ্রুপে তারা লড়বে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, ইউরোপের দেশ স্কটল্যান্ড ও ক্যারিবীয় দেশ হাইতি। এই গ্রুপ পেরিয়ে নকআউট পর্বে ওঠা কঠিন হবে না মোহাম্মদ ওয়াহবির দলের জন্য।

মরক্কো ছাড়াও আফ্রিকার দলগুলোর মধ্যে সেনেগাল, মিসর, আইভরি কোস্ট কিংবা ঘানাকে ঘিরে প্রত্যাশা বেশি। আদালতের রায়ে আফ্রিকান নেশন্স কাপের শিরোপা হারানো সেনেগাল পড়েছে ফ্রান্সের গ্রুপের সঙ্গে ‘আই’ গ্রুপে। এছাড়া আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে আর ইরাককে মোকাবেলা করতে হবে সাদিও মানের দলকে। ২০০২ আসরে অভিষেকেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল সেনেগাল। সেই থেকে আফ্রিকান পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ক্রমেই সুসংহত করেছে ‘লায়ন্স অব তেরাঙ্গা’রা।

মরক্কোর আগেই আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে খেলার ইতিহাস গড়তে পারত ঘানা। তবে ভাগ্যের পরশ তারা পায়নি। ২০১০ আসরে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তারা পেনাল্টি পায়। গোললাইন থেকে হাত দিয়ে বল ঠেকিয়ে লাল কার্ড পান লুইস সুয়ারেজ। আবারো পেনাল্টি পায় ঘানা। এ যাত্রায় আসামোয়া জিয়ানের শট ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে। এরপর টাইব্রেকারে হেরে যায় ঘানা। আফ্রিকার ফুটবল ইতিহাসে এটিকে ধরা হয় অন্যতম বেদনাদায়ক মুহূর্ত হিসেবে। নতুন প্রজন্মের হাত ধরে শুরু হয়েছে ঘানার নতুন লড়াই। এবার ‘এল’ গ্রুপে তাদের খেলতে হবে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার মতো পরাশক্তি আর উত্তর আমেরিকার দেশ পানামার সঙ্গে।

সাতবারের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মিসর বিশ্বকাপে উজ্জ্বল নয়। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে তারা। ১৯৩৪ সালে ইতালিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশগ্রহণ করে ‘ফারাও’রা। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে তারা। আফ্রিকা মহাদেশে রাজত্ব করলেও বিশ্বকাপে তাদের দৈন্য অব্যাহত থাকে। ১৯৯৪ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ছয় আসরে অনুপস্থিত থাকে তারা। ২০১৮ সালে রাশিয়া আসরে ফিরলেও প্রথম পর্বের বৈতরণী পার হতে পারেনি মোহাম্মদ সালাহর দল। দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে নামী তারকা সালাহ এবার খেলবেন সম্ভবত ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। নিশ্চিতভাবেই দেশের জন্য গৌরবগাথা লিখতে নিজেকে নিংড়ে দেবেন দীর্ঘদিন লিভারপুলের হয়ে খেলা এ ফরওয়ার্ড।

তিনবারের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন আইভরি কোস্ট ‘ই’ গ্রুপে খেলবে জার্মানি, একুয়েডর ও নবাগত দল কুরাসাওয়ের বিপক্ষে। বিশ্বকাপে তাদের সেরা ফল গ্রুপ পর্ব। ২০০৬ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত তিনবার অংশ নিয়ে কখনই গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি ‘দি এলিফ্যান্ট’রা। চতুর্থ মিশনে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউট পর্বে ওঠার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে ফ্রাঙ্ক কেসিদের।

এছাড়া বিশ্বকাপে আফ্রিকার পতাকা ওড়াবে তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দল। ১১ জুন রাতে উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নামছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মেক্সিকোর এজটেকা স্টেডিয়ামে ওইদিন তারা মুখোমুখি হবে স্বাগতিকদের। গ্রুপে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক রিপাবলিক।

‘জে’ গ্রুপে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে রিয়াদ মাহরেজের আলজেরিয়া। আর তিউনিসিয়া পড়েছে ‘এফ’ গ্রুপে। তাদের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস, সুইডেন ও জাপান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *