ক্ষমতার নতুন কেন্দ্র মার্কিন পুঁজিতে বদলে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবল
জুন ৮, ২০২৬
দুই বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে সর্বোচ্চ লেনদেন
জুন ৮, ২০২৬
ক্ষমতার নতুন কেন্দ্র মার্কিন পুঁজিতে বদলে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবল
জুন ৮, ২০২৬
দুই বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে সর্বোচ্চ লেনদেন
জুন ৮, ২০২৬

রফতানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকার স্কিম গঠন ৭% সুদে ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা দেশীয় কাঁচামালভিত্তিক শিল্পে অগ্রাধিকার

দেশের রফতানি খাতকে তৈরি পোশাকনির্ভরতা থেকে বের করে বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

‘এক্সপোর্ট ডাইভার্সিফিকেশন রিফাইন্যান্স স্কিম’ শীর্ষক এ তহবিল থেকে ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন রফতানিমুখী শিল্প উদ্যোক্তারা। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগ সম্প্রতি একটি বিস্তারিত নীতিমালা জারি করেছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের রফতানি আয়ের বড় অংশই তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। এতে বাজার ও পণ্যের ঘনত্বজনিত ঝুঁকি রয়েছে। রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে রফতানি বহুমুখীকরণ অপরিহার্য। এ লক্ষ্যেই ৩ হাজার কোটি টাকার আবর্তনশীল পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, রফতানি নীতি ২০২৪-২৭-এর ষষ্ঠ অধ্যায়ে উল্লেখিত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ও বিশেষ উন্নয়নমূলক খাতের শিল্পগুলো এ তহবিলের আওতায় অর্থায়নের সুযোগ পাবে। বিশেষ করে দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে রফতানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনকারী ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রাধিকার পাবে।

স্কিমের আওতায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে পৃথক অংশগ্রহণ চুক্তি করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব ব্যাংককে ৪ শতাংশ সুদ বা মুনাফা হারে অর্থ দেবে। আর গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদ বা মুনাফার হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ হবে। সুদ হিসাব করা হবে রিডিউসিং ব্যালান্স পদ্ধতিতে।

ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের নিজস্ব মূলধন বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ঋণ ও মূলধনের অনুপাত ন্যূনতম ৭০:৩০ হতে হবে। অর্থাৎ প্রকল্প ব্যয়ের অন্তত ৩০ শতাংশ উদ্যোক্তাকে নিজস্ব উৎস থেকে জোগান দিতে হবে।

নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, এ তহবিলের আওতায় কেবল মেয়াদি ঋণ বা বিনিয়োগ পুনঃঅর্থায়নের সুযোগ পাবে। স্কিমের মেয়াদ তিন বছর এবং সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড রাখা যাবে।

ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। খেলাপি ঋণগ্রহীতা বা যাদের বিরুদ্ধে ঋণ অবলোপনের ইতিহাস রয়েছে, তারা এ সুবিধা পাবেন না। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ সিআইবি প্রতিবেদন সংগ্রহ করে খেলাপিমুক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠানের রফতানি বিল অনাদায়ী বা প্রত্যাবাসন হয়নি, তাদের ক্ষেত্রেও পুনঃঅর্থায়নের আবেদন বিবেচনা করা হবে না।

ব্যাংকগুলোকে ঋণ বিতরণের ৯০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পুনঃঅর্থায়নের আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র পর্যালোচনার পর পুনঃঅর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে ত্রৈমাসিক কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে পুনঃঅর্থায়নের সুদের হারের চেয়ে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ হারে অর্থ আদায় করা হবে। তবে গ্রাহক যদি নির্ধারিত সময়ের আগেই ঋণ পরিশোধ করেন, তাহলে কোনো ধরনের আগাম পরিশোধ ফি বা চার্জ আরোপ করা যাবে না।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প ও নথিপত্র পরিদর্শন করবে। কোনো ব্যাংক ভুল তথ্য দিয়ে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করলে বা ঋণের অর্থ নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার না হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই সুবিধা বাতিল করতে পারবে। একই সঙ্গে আদায়কৃত অর্থের ওপর অতিরিক্ত ৫ শতাংশ সুদসহ অর্থ ফেরত নেয়ার ক্ষমতাও থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংকের।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *