এগারো সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৮ জনের
জুন ৭, ২০২৬
স্টার্টআপ থেকে ১৬ হাজার কোটি টাকা সম্পদের প্রতিষ্ঠান ‘বিকাশ’
জুন ৭, ২০২৬যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি ফের চাপে পড়েছে। হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের ড্রোন ভূপাতিত করার পর দেশটির উপকূলীয় সামরিক নজরদারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তেহরান। এতে তিন মাস ধরে চলা সংঘাত বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরো জটিল হয়ে উঠেছে। খবর রয়টার্স।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দিকে উড়ে আসা চারটি ইরানি ড্রোন তারা গুলি করে ভূপাতিত করে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, ড্রোনগুলো ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করেই পাঠানো হয়েছিল। এরপর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত নজরদারি ও রাডার স্থাপনায় হামলা চালায়। দুটি স্থানই হরমুজ প্রণালির পাশে অবস্থিত।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ হামলাকে গত ৮ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে। এক বিবৃতিতে তেহরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে ওয়াশিংটনের উত্তেজনা কমানোর কোনো বাস্তবে আগ্রহ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ কর্মকাণ্ড’ এবং ভবিষ্যৎ যেকোনো উত্তেজনা বৃদ্ধির দায় তাদেরই বহন করতে হবে বলে সতর্ক করেছে ইরান।
এদিকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। একই সঙ্গে অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা চারটি তেলবাহী ট্যাংকারের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বিষয়টি স্বীকার করেছে কুয়েতের সেনাবাহিনী। তারা জানিয়েছে, শনিবার ভোরে দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ কয়েকটি আবাসিক এলাকায় পড়ে কিছু সম্পদের ক্ষতি করলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে বাহরাইনে সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
কুয়েত ও বাহরাইন উভয় দেশই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের হামলা দেশটির নাগরিক, বিদেশী বাসিন্দা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে। যদিও পরে ইরান পুনরায় দাবি করে যে তারা উভয় দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে সফলভাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হেনেছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে প্রতিহত করা হয়েছে এবং সপ্তমটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছতে পারেনি।
যুদ্ধ থামাতে তিন মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। তেহরানের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে জব্দকৃত তেল থেকে আয়ের অর্থছাড়, তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল, বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির ওপর প্রভাব বজায় রাখা। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার ভিত্তি তৈরি করতে চায়।
এ প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান আবারো মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি শনিবার তেহরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। পাকিস্তানি সূত্রের দাবি, তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছে ইসলামাবাদের একটি বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেবেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও যুদ্ধ বন্ধে ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে রয়েছেন। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং যুদ্ধ ব্যয়ের কারণে তার প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়েছে। এনবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে। তবে দেশটির হাতে এখনো প্রায় ২১-২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এখনো ক্ষেপণাস্ত্র আছে, ড্রোন আছে। সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কম হলেও তা মোটেই সামান্য নয়।’
ইরান কেন এখনো সমঝোতায় রাজি হচ্ছে না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা শক্তিশালী ও অহংকারী। এমন কিছু করতে হচ্ছে, যা তারা কখনো করতে চায়নি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের সামনে অন্য কোনো পথ নেই।’
এদিকে আঞ্চলিক সংঘাত আরো বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। লেবাননে পৃথক ইসরায়েলি হামলায় দেশটির সেনাবাহিনীর দুই কর্মকর্তা ও এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের বাহিনীর ওপর সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির তথ্য পাওয়ার পর ওই সামরিক যানকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। হিজবুল্লাহ একে লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসনের অংশ বলে অভিহিত করেছে।
তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত না হলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি সম্ভব নয়। ফলে হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক সংঘর্ষ শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অস্থির করে তুলেছে।


