
কোরবানির ছাগলের ৬০–৮০ শতাংশ ও গরুর ৩০–৪০ শতাংশ চামড়া সংগ্রহের বাইরে রয়ে যাচ্ছে
জুন ৬, ২০২৬
ডিসিদের নির্লিপ্ততায় বাড়ছে না করের পরিধি
জুন ৭, ২০২৬ঈদের ছুটির পর গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে।
এ সময় প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ৪ শতাংশ বেড়েছে। বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ায় এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন আগের সপ্তাহের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৫৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ডিএসইর পাশাপাশি দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তাহে সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও সংস্কারের প্রত্যাশার কারণে বাজারে গতি ফিরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ২১১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৭৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৭৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৯৯৫ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ৩৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৬৯ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৮টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩২৮টির, কমেছে ৪৯টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১১টির। আর লেনদেন হয়নি ২৪টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, পূবালী ব্যাংক, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ ও বিএসআরএম লিমিটেডের শেয়ার।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ১৫৬ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৭৯৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৪৫ দশমিক ২৬ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ঈদের ছুটি-পরবর্তী চাঙ্গা ভাব বজায় রেখে চলতি সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়নে ধারাবাহিক রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের আশায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে। ফলে প্রতিটি কার্যদিবসেই প্রধান মূল্যসূচক ৩০ পয়েন্টের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক আকর্ষণীয় মূল্যে থাকা শেয়ারগুলো বেছে বেছে নিজেদের পোর্টফোলিওতে যুক্ত করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং আসন্ন বাজেট নিয়ে নানামুখী শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীরা সেসব এড়িয়ে বাজারের ওপর আস্থা রেখেছেন। ফলে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিকট ভবিষ্যতে পুঁজিবাজারের ভালো করার সম্ভাবনাকে আরো জোরালো করেছে।
বিশেষ করে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে নিয়ন্ত্রক সংস্থায় বহুল প্রতীক্ষিত ‘কমিশন সংস্কার’সংক্রান্ত গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়ে দেয়। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, এ সংস্কারের মাধ্যমে বাজারের নিয়ন্ত্রণ কাঠামো আরো শক্তিশালী হবে, লেনদেনের স্বচ্ছতা ও সততা বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিক পুঁজিবাজারের গভীরতা আরো বাড়বে।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে প্রকৌশল খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ২ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে প্রকৌশল খাত। ১১ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বস্ত্র খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। ব্যাংক খাত ১০ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা সাধারণ বীমা খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৯ দশমিক ৭ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি ৮ দশমিক ৪ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে সেবা ও আবাসন খাতে। এছাড়া কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ, সিমেন্ট খাতে ৬ দশমিক ২ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সাধারণ বীমা খাতে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। গত সপ্তাহে শুধু পাট খাতে ২ দশমিক ২ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ২৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৪ হাজার ৯১০ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৩৮২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ১৭০ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ১৩৩ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪৬ কোটি টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩১৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৩৯টির, কমেছে ৫৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২২টির বাজারদর।


