যমুনা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় টোল আদায় ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা
জুন ৬, ২০২৬
হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু
জুন ৬, ২০২৬
যমুনা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় টোল আদায় ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা
জুন ৬, ২০২৬
হামের উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু
জুন ৬, ২০২৬

নরওয়ের ভাইকিং বিশ্বকাপ ফটোশুট: ইতিহাস, শিল্প আর ফুটবলের অনন্য সংমিশ্রণ

ইতিহাসনির্ভর ফটোশুটের জন্য পরিচিত ইয়্যারো। সেপ্টেম্বর মাসে বেতপেজ ব্ল্যাক-এ অনুষ্ঠিত রাইডার কাপ ২০২৩-এর আগে তিনি ইউরোপীয় দলকে ম্যানহাটন ব্রিজের সামনে নিষিদ্ধ যুগের পোশাকে ফ্রেমবন্দি করেছিলেন, যা পরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং দাতব্য কাজে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করে।

বিশ্ব ফুটবলের নজর যখন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের দিকে, ঠিক তখনই দলটির বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে একটি ব্যতিক্রমী ফটোশুট। ব্রিটিশ খ্যাতিমান ফটোগ্রাফার ডেভিড ইয়্যারো নরওয়ে জাতীয় দলের ২৬ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে দলীয় ছবির প্রচলিত ধারণা ভেঙে তৈরি করেছেন এক সিনেমাটিক দৃশ্য—শিরোনাম “ভাইকিংস আর কামিং”। খবর বিবিসি।

সাধারণত যেখানে খেলোয়াড়দের বিমানের সিঁড়িতে দাঁড় করিয়ে দলীয় ছবি তোলা হয়, সেখানে ইয়্যারো বেছে নিয়েছেন নরওয়ের বিখ্যাত ফিয়র্ড অঞ্চল। সেখানে পুরো দলকে ভাইকিং যোদ্ধার পোশাকে, ঢাল ও অস্ত্রসহ দাঁড় করিয়ে তোলা হয়েছে একটি ঐতিহাসিক আবহের ছবি।

ব্যতিক্রম ফটোশুটটির ধারণা প্রথম আসে ২০২৩ সালের এক আন্তর্জাতিক বিরতির সময়, যখন ইয়্যারো হালান্ডকে ওসলো ফিয়র্ডে কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে ভাইকিং পোশাকে ছবি তোলেন। সেই অভিজ্ঞতাই পরে পুরো জাতীয় দলকে নিয়ে বৃহৎ প্রকল্পে রূপ নেয়। ইয়্যারো বলেন, বিশ্বে যদি একজন খেলোয়াড় বেছে নিতে হয়, যাকে খুব বেশি সাজসজ্জা ছাড়াই ভাইকিং মনে হয়, তবে সে হলো আর্লিং হালান্ড। তাই তার সঙ্গে কাজ করাটা সহজ ছিল।

ইতিহাসনির্ভর ফটোশুটের জন্য পরিচিত ইয়্যারো। সেপ্টেম্বর মাসে বেতপেজ ব্ল্যাক-এ অনুষ্ঠিত রাইডার কাপ ২০২৩-এর আগে তিনি ইউরোপীয় দলকে ম্যানহাটন ব্রিজের সামনে নিষিদ্ধ যুগের পোশাকে ফ্রেমবন্দি করেছিলেন, যা পরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং দাতব্য কাজে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করে।

নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন প্রায় চার মাস আগে ইয়্যারোর সঙ্গে যোগাযোগ করে এ প্রকল্পের জন্য। হালান্ডের আগ্রহ ও আস্থার কারণে পুরো দল এতে যুক্ত হয় এবং প্রকল্পটি নরওয়েজিয়ান দাতব্য সংস্থার জন্য তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যও বহন করে। তবে বাস্তবে এ ধারণা বাস্তবায়ন ছিল জটিল। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড তখন আর্সেনালের সঙ্গে ব্যস্ত থাকায় তাকে পৃথকভাবে ফটোশুটে অংশ নিতে হয় এবং পরে তাকে মূল ছবির সঙ্গে যুক্ত করা হয়, যাতে পুরো দৃশ্যটি একত্রিতভাবে তৈরি করা যায়।

ইয়্যারোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল দলগত ভারসাম্য বজায় রাখা। তিনি বলেন, ছবিতে যেন কেবল হালান্ড বা ওডেগার্ড-ই কেন্দ্রবিন্দু না হন। তার ভাষায়, যদি একদিকে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের খেলোয়াড় থাকে এবং অন্যদিকে ২৫০ হাজার পাউন্ডের গোলরক্ষক, তবুও ছবিতে তাদের সমান গুরুত্ব থাকতে হবে। সবাই একই ফ্রেমে সমান।

তিনি আরো বলেন, নরওয়ে দলকে অনেকেই শুধু দুইজন তারকার দল হিসেবে দেখে, কিন্তু বাস্তবে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ দল, যারা টুর্নামেন্টে ভালো কিছু করার সক্ষমতা রাখে। ইয়্যারো আশা করছেন, এই “ভাইকিং” থিমের ফটোশুট যেমন দলীয় ঐক্য ও পরিচয় তুলে ধরেছে, তেমনি মাঠেও নরওয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে বিশ্ব ফুটবলের বড় আসরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *