হাম ও উপসর্গে প্রাণ গেল আরো চার শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০৫
জুন ৫, ২০২৬
সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করতে জ্বালানি সংকট নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
জুন ৫, ২০২৬
হাম ও উপসর্গে প্রাণ গেল আরো চার শিশুর, মোট মৃত্যু ৬০৫
জুন ৫, ২০২৬
সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করতে জ্বালানি সংকট নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
জুন ৫, ২০২৬

তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আদ্-দ্বীনের ভবন চিকিৎসা কার্যক্রমের জন্য উপযুক্ত নয়

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালের ভবনটি চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয় এবং দায়িত্বরত নার্সদের চরম অবহেলা ও অসহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গতকাল বিকালে তদন্ত প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘‌হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে তদন্তে প্রমাণ হয়েছে। তাছাড়া প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা হাসপাতাল পরিচালনার প্রাথমিক শর্তগুলো পূরণেও সক্ষম ছিলেন না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘‌তদন্তে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে কোনো দায়িত্বরত চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার রোববারের মধ্যে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে এবং বিদ্যমান আইনে হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে গত ২৭ মে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষ নম্বর-২-তে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকায় এবং পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন না থাকায় সেখানে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। একই সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়।

কমিটি সংশ্লিষ্ট কক্ষের দায়িত্বরত সেবিকা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মৃত নবজাতকের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে। তদন্তে দেখা যায়, নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার আকস্মিক অবনতি হলেও হাসপাতালের কোনো জরুরি চিকিৎসা সাড়া (ইমার্জেন্সি মেডিকেল রেসপন্স) ছিল না। অভিভাবকদের আহ্বানে সংশ্লিষ্ট নার্স সাড়া দেননি এবং কোনো চিকিৎসককেও বিষয়টি জানাননি। ফলে সময়ক্ষেপণ হয় এবং নবজাতকদের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় ৯০০ বর্গফুট আয়তনের কক্ষে ১১ রোগী, নবজাতক ও তাদের স্বজনসহ প্রায় ৫০ জন উপস্থিত ছিলেন, যা ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি। তদন্তে আরো দেখা গেছে, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় নার্সদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছিল না। কক্ষে আলো-বাতাস চলাচল বা পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এবং অতিরিক্ত লোকজনের উপস্থিতিও নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি।

এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দিন শেষ। আইনে যতটুকু কঠোর হওয়ার সুযোগ আছে, তার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করা হবে।’

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ঘটনার পর দেশের সব বেসরকারি হাসপাতালের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিভাগীয় পরিচালক, জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া ভবিষ্যতে নতুন হাসপাতালের লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে ভবন পরিদর্শন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করা হবে।’

নিহত নবজাতকদের ময়নাতদন্ত না হওয়া প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। পুলিশ ও সিআইডির চেষ্টা সত্ত্বেও শোকাহত পরিবারের আবেগের কারণে ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হয়নি।’ তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আদালত বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।

হাসপাতালটির অনুমোদন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক অনুমোদন ছিল। তবে রাজউকের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পরবর্তী সময়ে ভবনে অবৈধভাবে বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়েছে। নবম তলায় বেকারি স্থাপনের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এ বিষয়ে রাজউক পৃথক ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ডা. শেখ মহিউদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নোটিসের জবাব দিতে তাকে রোববার বিকাল ৫টা পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *