
সাভার ট্যানারি শিল্পনগরীতে ঢুকেছে সোয়া ৫ লাখের বেশি কাঁচা চামড়া
মে ৩১, ২০২৬
ক্রেতা না পেয়ে নদী-খালে ফেলে দেয়া হয় কোরবানির শত শত পশুর চামড়া
মে ৩১, ২০২৬বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে দীক্ষিত হয়ে দেশ গঠনের কাজে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রাজধানীর ইসিবি চত্বর ও কুড়িল এলাকায় গতকাল দুস্থ মানুষের মাঝে বস্ত্র ও শুকনা খাবার বিতরণ কর্মসূচির আগে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনীতির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল দেশের সেবা করা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একই সঙ্গে তিনি আমাদের দীক্ষা দিয়ে গেছেন, কীভাবে দেশের জন্য কাজ করতে হয় ও দেশ গঠন করতে হয়। সেই আদর্শের অংশ হিসেবে আমরা আজ দুস্থ মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছি।’
তারেক রহমান বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে মহান আল্লাহ আমাদের দেশ গঠন করার ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছেন। আমরা যাতে সেই কাজটি সুন্দরভাবে করতে পারি, সে জন্য আমরা আল্লাহর রহমত কামনা করি। এটাই হোক আজকের দিনের আমাদের শপথ। এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’
বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী দুস্থ মানুষের মধ্যে বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন। জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে এ কর্মসূচির আয়োজন করেছে বিএনপি। ঢাকা মহানগরীতে ১৭টি জায়গায় বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন তারেক রহমান।
নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অসহায় মানুষের পাশে থাকতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে আছেন তারা জানেন, প্রতি বছরই এ দিনটিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। বিভিন্ন স্থানে যেসব মানুষ অসহায় অবস্থায় এবং অসুবিধায় আছেন যতটুকু সম্ভব তাদের সহায়তা করার চেষ্টা করেছি।’
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার আহ্বান থাকবে, শুধু দলের পক্ষ থেকে নয়; সম্ভব হলে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন। এটাই শহীদ জিয়ার শিক্ষা। তাই আসুন, সবাই শপথ গ্রহণ করি যে যার যার অবস্থান থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব। আজকের দিনে এটিই হোক আমাদের প্রত্যাশা, এটিই হোক আমাদের অর্জন।’
এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল আলম মিল্টন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে খিলগাঁওয়ের জোড়পুকুর মাঠে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণের অনেকগুলো স্থান গাড়ি নিয়ে ঘুরে দেখেছি। শুধু কোরবানির বর্জ্য নয়; অন্যান্য আবর্জনা কতটুকু পরিষ্কার করা হচ্ছে তারও তদারকি করতে হবে। আমরা যারা এ শহরে বসবাস করি এবং বাংলাদেশের নাগরিক তাদেরকে বলতে চাই, এ দেশ যেমন আমাদের, এ শহরটাও তেমনি আমাদেরই। এ কথাটি সবাইকে উপলব্ধি করতে হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব, অবশ্যই তারা পালন করবে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু নাগরিক হিসেবে আমাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। যতটুকু সম্ভব শহরটাকে কম নোংরা করা উচিত। তাহলেই এ মহানগর আরো পরিচ্ছন্ন থাকবে। এ শহর পরিষ্কার থাকলে সবার হাঁটাচলার যেমন সুবিধা, তেমনি পরিবেশটাও বাসযোগ্য ও সুন্দর থাকবে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্যও যথাযথভাবে পরিষ্কার রাখার কাজটা সহজ হবে।’
বাবার স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘জিয়াউর রহমান এ দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্যই রাজনীতি শুরু করেছিলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে আল্লাহর রহমতে দেশের জনগণ আবারো বিএনপিকে নতুন বাংলাদেশ গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমাদের সব ক্ষমতার উৎস তারাই। কাজেই জনগণের সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত থাকলে সরকার দ্রুতই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারবে।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকালে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে তার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


