
ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ তুলে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের বড় ঘোষণা
মে ৩০, ২০২৬
আগামী বাজেট হবে যুব ও ব্যবসাবান্ধব
মে ৩০, ২০২৬ঈদের দিন কোরবানির ব্যস্ততা শেষ করে ঈদের পরদিনও রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন অনেক মানুষ।
কেউ মাংসের বস্তা, কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের পথে রওনা হয়েছেন। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, অনেক পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। গতকাল সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ড, সায়েদাবাদ, দোলাইরপাড় ও আশপাশের এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, দূরপাল্লার বাসে যাত্রীদের চাপ এখনো বেশি। বাস কাউন্টারগুলোতে ছিল ভিড়, সড়কের পাশ থেকেও যাত্রী তুলতে দেখা গেছে বিভিন্ন পরিবহনকে। কেউ ব্যাগ-বস্তা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ আবার ছোট শিশু কোলে বাসের অপেক্ষা করছেন।
পটুয়াখালীর দশমিনার বাসিন্দা বশির আহমেদ ঈদের দিন দুটি গরু কোরবানির মাংস নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো মাংসের বস্তা মাথায় নিয়ে যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। বশির আহমেদ বলেন, ‘দুটি গরু কাটাকুটি করছিলাম। ১০-১২ কেজি মাংস পাইছি। তাই নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি।’
মানিকনগর থেকে পরিবার নিয়ে যাত্রাবাড়ীতে আসা আসিয়া বেগম জানান, প্রতি বছরই ঈদের দিন ঢাকায় কাটিয়ে পরে গ্রামের বাড়ি যান তারা। তিনি বলেন, ‘ঢাকায় ঈদ করে পরে স্বামী-সন্তান নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাই। এতে আলাদা মজা হয়।’ বরিশালের চাকরিজীবী রিতা বলেন, ‘ঈদের আগে অনেক ভিড় ছিল। তাই একটু স্বস্তিতে যাওয়ার জন্য আজ রওনা হয়েছি।’
যদিও যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদের মৌসুমকে কেন্দ্র করে অনেক পরিবহন বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। এ প্রসঙ্গে বরিশালগামী যাত্রী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণ সময়ে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা ভাড়া নেয়। আজ সিট ছাড়াই ৮০০ টাকা নিচ্ছে।’ একই অভিযোগ করেছেন খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনা ও পিরোজপুরগামী যাত্রীরাও। তাদের দাবি, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে।
পরিবহনসংশ্লিষ্টরা অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নড়াইল এক্সপ্রেসের সুপারভাইজার জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা সরকার নির্ধারিত ভাড়াতেই যাত্রী পরিবহন করছি।’ যদিও পাশে থাকা কয়েকজন যাত্রী তখনই বেশি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ তোলেন। পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, ঈদের সময় ঢাকা থেকে যাত্রী পাওয়া গেলেও ফেরার পথে অনেক সময় গাড়ি ফাঁকা আসে। তাই এ সময়ে কিছুটা বেশি ভাড়া নেয়া হয়।
ঢাকার ভেতরে যানজট না থাকলেও রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ছিল তুলনামূলক বেশি। তবে যানজট কম থাকায় অনেক বাস স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে বলে জানিয়েছেন চালকরা।
শুধু বাস নয়, ঈদের পরদিন ট্রেনেও রাজধানী ছাড়ছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। গতকাল সকালে কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ আবার কোরবানির মাংস ও প্রয়োজনীয় মালামাল সঙ্গে নিয়ে গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। অনেক যাত্রীকে নির্ধারিত টিকিট ছাড়াও দাঁড়িয়ে কিংবা দরজার পাশে বসে ভ্রমণ করতে দেখা গেছে।
যাত্রীরা বলছেন, ঈদের আগের অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে অনেকেই ঈদের পরদিন ট্রেনে বাড়ি ফিরছেন।


