
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে
মে ২০, ২০২৬সরকারি থেকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার সফল উদাহরণ পূবালী ও উত্তরা ব্যাংক
মে ২০, ২০২৬হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
একই সঙ্গে দেশের সব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন চিকিৎসকদের দুই বেলা রাউন্ড দিতে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।
এদিকে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরো ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে। এর মধ্যে নয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। আর দুই শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
দেশে শিশুদের মধ্যে হামজনিত নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও এর আওতাধীন সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশে বলা হয়, আপৎকালীন নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও অধিদপ্তরাধীন সব প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের অর্জিত ছুটি ও নৈমিত্তিক ছুটি স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে আবশ্যিকভাবে হাম ও হামের উপসর্গের রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ওয়ার্ড অথবা কেবিন নির্ধারণ করতে হবে। সব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসা দিতে হবে এবং প্রয়োজনে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হবে। হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করতে হবে। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সকাল-বিকাল দুই বেলা রাউন্ড দিতে হবে।
ee
এতে বলা হয়, প্রত্যেক ভর্তি রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ একজন অভিভাবক অথবা দর্শনার্থী হাসপাতালে অবস্থান করতে পারবেন।
এছাড়া ভর্তি রোগীদের তথ্য প্রতিদিন এমআইএস সার্ভারে আপলোড করারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে হটলাইন নম্বর ০১৭৫৯১১৪৪৮৮-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭৫-এ। এর মধ্যে ৭৭ জনের হামে মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে যে নয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে তিনজন করে রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে একজন করে মারা গেছে। জেলা হিসেবে ঢাকা ও মৌলভীবাজারে সবচেয়ে বেশি দুজন করে মারা গেছে।
দেশে ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৬৪। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১১৫ জন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১১০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৫৪৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর চট্টগ্রামে ২৩০ ও বরিশালে ১৪৭ জন। নিশ্চিত হাম শনাক্তের ক্ষেত্রেও ঢাকা বিভাগে সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৫৪ জন।
হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ জানাতে ৩০ দিন সময়: হামের প্রার্দুভাব মোকাবেলা তথা শিশুদের বাঁচানোর জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে—সে বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল এ-সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
একই সঙ্গে দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রতিনিধি সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি কেন গঠন করা হবে না এবং হামের প্রাদুর্ভাবে মারা যাওয়া শিশুদের প্রত্যেকের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও আইইডিসিআরের পরিচালককে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন।


