
আগামী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করবে পেট্রোবাংলা
মে ১৯, ২০২৬
১৫ মাসে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার অর্থ ও সম্পত্তি জব্দ
মে ১৯, ২০২৬ইসলামিক সেন্টারটি সান ডিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদ। এর অধীনে আল রশিদ স্কুল পরিচালিত হয়। ওই বিদ্যালয়ে পাঠ্যক্রমে পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য আরবি ভাষা, ইসলামি শিক্ষা ও কোরআন শিক্ষার কোর্স রয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর একটি মসজিদে গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছে। গতকালের ওই ঘটনায় মসজিদ থেকে কয়েক ব্লক দূরে গিয়ে আত্মহত্যা করে দুই কিশোর বন্দুকধারী। ঘটনাটিকে ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ বা হেইট ক্রাইম’ হিসেবে বিবেচনা করছে পুলিশ। খবর এপি।
সান ডিয়েগোর পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল বলেন, ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়াগো সম্পর্কে আগে থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি ছিল না। তবে তদন্তকারীরা এমন প্রমাণ পেয়েছেন যে সন্দেহভাজনরা ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্যে’ জড়িত ছিল। বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, শিগগিরই ঘটনার পেছনে থাকা বিষয়গুলো সামনে আসবে।’
হামলার আগেই পুলিশ এক কিশোরকে খুঁজছিল। তার মা পুলিশকে ফোন করে জানান, তার ছেলে আত্মহত্যাপ্রবণ আচরণ করছিল এবং বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। পুলিশ প্রধান জানান, বাড়ি থেকে কিছু অস্ত্র ও ছেলেটির মায়ের গাড়িও নিখোঁজ ছিল।
পরে পুলিশ জানতে পারে, ওই কিশোর ছদ্মবেশ হিসেবে সামরিক পোশাক পরে ছিল এবং তার সঙ্গে আরেকজন পরিচিত তরুণ ছিল। আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে বের হওয়া কারো ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হওয়ায় পুলিশ তৎপরা বাড়ায়।
১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই সন্দেহভাজনকে খুঁজে বের করতে পুলিশ স্বয়ংক্রিয় লাইসেন্স প্লেট শনাক্তকারী প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে। গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করার পর সেখানে থাকা একটি শপিং মলে কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়। এছাড়া অন্তত একজন সন্দেহভাজন বিদ্যালয় শিক্ষার্থী ছিল, ওই বিদ্যালয়লকেও সতর্ক করা হয় বলে জানান স্কট ওয়াহল।
পুলিশ যখন সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে জানতে কিশোরদের মায়েদের কাছ থেকে আরো তথ্য নিচ্ছিল, তখনই মসজিদে গুলিবর্ষণের খবর আসে।
নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন মসজিদের নিরাপত্তারক্ষী। পুলিশ মনে করছে, ‘আরো ভয়াবহ’ হামলা ঠেকাতে তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ পালন করেছেন।
পরে এক সংবাদ সম্মেলনে স্কট ওয়াহল বলেন, তার কর্মকাণ্ড ছিল বীরত্বপূর্ণ। নিঃসন্দেহে তিনি আজ অনেক মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।
ওই নিরাপত্তারক্ষীর নাম আমিন আবদুল্লাহ। তিনি মসজিদের পরিচিত মুখ ছিলেন এবং এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সেখানে কাজ করছিলেন।
ইসলামিক সেন্টারটি সান ডিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদ। এর অধীনে আল রশিদ স্কুল পরিচালিত হয়। ওই বিদ্যালয়ে পাঠ্যক্রমে পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য আরবি ভাষা, ইসলামি শিক্ষা ও কোরআন শিক্ষার কোর্স রয়েছে।
পুলিশ প্রধান জানান, খবর পাওয়ার চার মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। তারা পৌঁছানোর সময় কাছাকাছি আরেকটি স্থানে গুলির শব্দ শোনা যায়, যেখানে এক উদ্যান কর্মীর ওপর গুলি চালানো হলেও তিনি আহত হননি। পরে রাস্তার মাঝখানে থেমে থাকা একটি গাড়ির ভেতর দুই হামলাকারীর মরদেহ পাওয়া যায়।
মসজিদের পরিচালক ইমাম তাহা হাসান বলেন, ‘উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু বানানো অত্যন্ত ন্যক্কারজনক।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সুন্দর শহরের সব উপাসনালয় সব সময় সুরক্ষিত থাকুক।’
তিনি জানান, ইসলামিক সেন্টারটি আন্তধর্মীয় সম্পর্ক ও সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলার কাজ করে থাকে। হামলার দিনও কিছু অমুসলিম ব্যক্তি ইসলাম সম্পর্কে জানার জন্য মসজিদটি পরিদর্শনে এসেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম নাগরিক অধিকার ও অধিকারভিত্তিক সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ বলে মন্তব্য করেছেন।


