বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশন ইভি গাড়ি ক্রয়ে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলবে
মে ৬, ২০২৬
বৃষ্টির মরদেহ ৯ মে ঢাকায় পৌঁছাবে
মে ৬, ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশন ইভি গাড়ি ক্রয়ে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলবে
মে ৬, ২০২৬
বৃষ্টির মরদেহ ৯ মে ঢাকায় পৌঁছাবে
মে ৬, ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেট ৭৪ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দের প্রস্তাব

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেট বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৩ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

শিগগিরই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এ উন্নয়ন বাজেট অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। প্রস্তাবে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ এবং বাকি ৭৪ হাজার কোটি টাকা বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা বাবদ থোক বরাদ্দ হিসেবে থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বণিক বার্তাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের সচিব এসএম শাকিল আখতার।

পরিকল্পনা সচিব বলেছেন, ‘আসন্ন বাজেটে ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা থেকে আসবে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি এবং বাকি ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা সরকারি অর্থায়ন। আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে চাহিদা চেয়েছিলাম। তারা উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ হিসেবে মোট ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকার চাহিদা দিয়েছে। বাকি ৭৪ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে। এখন যেহেতু বরাদ্দের ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা থাকবে, তাই বাকি টাকা আমরা এমনি দিয়ে দেব না। সেটা থোক বাবদ রাখা হয়েছে।’

জানা গেছে, এনইসি সভায় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। আগামী ১১ মে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি ভবনে বর্তমান সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ বা এনইসি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে সচিব এসএম শাকিল আখতার বলেন, ‘আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় উন্নয়ন বাজেট প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হবে। তিনি কিছু কাটছাঁট করতে পারেন। মন্ত্রণালয় প্রকল্পে বরাদ্দের যে চাহিদা দিয়েছে তা দিয়ে বাস্তবায়ন সম্ভব না হলে তখন থোক থেকে বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে। আবার অনেক সময় অনুমোদিত বরাদ্দ ব্যয় নাও হতে পারে।’

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো এডিপির উৎসওয়ারি অর্থায়ন নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশন। এডিপি প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, থোক বরাদ্দ বেশি রাখা হয়েছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা খাতের বিভিন্ন বিভাগ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্য। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে ৬ হাজার ৮ কোটি টাকা এবং থোক বরাদ্দ হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে ২০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সরকার ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। ফলে সেখানে থোক অর্থের প্রয়োজন হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে ৫ হাজার ৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, আর থোক বরাদ্দ ১৬ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে চলমান প্রকল্পের জন্য ৯ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা এবং থোক হিসেবে ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগে ৭ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ৩ হাজার ৭৯ কোটি টাকা বিশেষ প্রয়োজনে থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

উন্নয়ন বাজেটের প্রস্তাব বিষয়ে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘থোক বরাদ্দের আকার যদি খুব বড় হয়ে যায়, তাহলে এতে ‘ডিসক্রিশনারি’ বা ইচ্ছাধীন ব্যয়ের প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে। এমনকি এটি রাজনৈতিক প্রভাব বা পছন্দনির্ভর প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দের জন্যও ব্যবহৃত হয়। এটি একটি সীমিত মাত্রায় রাখা যেতে পারে—শুধু নমনীয়তার জন্য। কিন্তু এটি বড় হয়ে গেলে সেটি পরিকল্পনার দুর্বলতা বা অপর্যাপ্ততার ইঙ্গিত দেয়। অর্থাৎ আগে পরিকল্পনা না করে পরে করার প্রবণতা তৈরি হয়, যা এড়িয়ে চলা উচিত। তবে স্বাস্থ্য খাতে বর্তমান সরকারের বড় কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। এসব পরিকল্পনা এখনো পূর্ণাঙ্গ প্রকল্পে রূপ না পাওয়ায়, ভবিষ্যৎ বাস্তবায়নের সুযোগ রেখে থোক বরাদ্দ রাখা হতে পারে। তবে সবকিছুর আগে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতি নজর দেয়া দরকার।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *