
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াবের আলোচনা সভা
মে ৪, ২০২৬
বৈদ্যুতিক গ্রিড ও ডিজিটাল নেটওয়ার্কে ৭০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি এডিবির
মে ৪, ২০২৬আমার বিশ্বাস ছিল, আজ এই মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে অপতথ্য ছড়ানো হবে না। কিন্তু এখানে আসার সময় আমি খোঁজ নিয়ে দেখলাম আজকেই প্রায় ২৫০টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে শুধু বাংলাদেশেই। বাইরের কথা বলছি না। এই যে পরিস্থিতি, এটি এখন মহামারীর রূপ নিয়েছে।
এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রীকে আমরা আজ বলেছি, তিনি চেষ্টা করছেন, বিভিন্ন পরামর্শও নিচ্ছেন কীভাবে এটি মোকাবেলা করা যায়। কিন্তু এটি কোনোভাবেই শুধু আইনের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়; একটি সামাজিক আন্দোলন ছাড়া এটি ঠেকানো অসম্ভব। কারণ এখন প্রায় প্রত্যেক বাড়িতেই একজন সাংবাদিক রয়েছে। যে যা দেখছে, তাই লিখছে বা প্রচার করছে। এ পরিস্থিতিতে আইন করে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না; এজন্য একটি সামগ্রিক আন্দোলন দরকার।
আমি একটু আগেই মন্ত্রীকে বলছিলাম, আপনারা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে বসুন, তাদের সঙ্গে কথা বলুন। এতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়তে পারে। মানুষ সজাগ হতে পারে। না হলে বিপদ শুধু আমাদের নয়, সবার। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট, কেউই নিরাপদ নন।
এ অবস্থায় আমরা সঠিক সংবাদ পাব কীভাবে? সামনে আরো বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। ইউটিউব বা ফেসবুকে লাইক ও ভিউ বাড়ানোর যে প্রতিযোগিতা, এটি যদি না থামে তাহলে অপতথ্য থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।
আজকের এই মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে আরেকটি বিষয়ও উল্লেখযোগ্য—সেলফ সেন্সরশিপ। এটি আমাদের অনেকটাই কাবু করে ফেলছে। আমরা স্বাধীন, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কেউ আমাদের এখন সরাসরি ফোন করে নির্দেশ দেয় না, ডিজিএফআই বা তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে এমন চাপ আর আসে না। এটি বাস্তবতা এবং তা স্বীকার করতে হবে। বর্তমান সরকার মাত্র আড়াই মাস হলো এসেছে। এখনো সেই পুরনো সংস্কৃতি পুরোপুরি ফিরে আসেনি। আমি আশা করি, আমরা এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে পারব।


