
দেশে শ্রমিকদের অধিকাংশ অধিকারই এসেছে দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে
মে ২, ২০২৬
২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ পুলিশ সদস্য আটক
মে ২, ২০২৬২০২০ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা ওয়াসা থেকে ২৬টি খাল আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উদ্দেশ্য ছিল, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খালগুলোর জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে এনে পুনরুদ্ধার করা। পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো একটি খালও উদ্ধার করতে পারেনি দুই সিটি করপোরেশন। উল্টো খালের অব্যবস্থাপনায় বেড়েছে জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গুর প্রকোপ। এ ধারা চলতে থাকলে আসছে বর্ষায় তীব্র হতে পারে নগরীর জলাবদ্ধতা।
রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের অংশ হিসেবে ঢাকা ওয়াসা ২৬টি খাল (প্রায় ৮০ কিলোমিটার) এবং প্রায় ৩৮৫ কিলোমিটার বড় আকারের নালা ও চারটি পাম্প স্টেশন পরিচালনা করত। দুই সিটি করপোরেশন দেখভাল করে প্রায় ২ হাজার ২১১ কিলোমিটার নালা। ২০২০ সালে ওয়াসার অধীনে থাকা সব নালা ও খাল দুই সিটি করপোরেশনের হাতে যায়। এরপর দ্রুত খালের সীমানা চিহ্নিত করার ঘোষণা দেন মেয়ররা। এছাড়া খালের দুই পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, পুনঃখনন করে পানি ধারণের ক্ষমতা বৃদ্ধি, পাড় বাঁধাই করে সবুজায়ন, ওয়াকওয়ে (হাঁটার পথ) ও সাইকেল লেন তৈরি করার কথা বলেন তারা। যদিও এর কোনোটিই হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার খালগুলো শুধু হাতবদল হয়েছে। প্রকৃত অর্থে কোনো কাজই হয়নি। মালিকানা পাওয়ার পর প্রথম কাজ ছিল সীমানা নির্ধারণ করে পুনরুদ্ধার করা। ডিএসসিসি কিংবা ডিএনসিসি পরিপূর্ণভাবে একটি খালও পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। বিপরীতে খাল পরিষ্কার ও বিশেষ অভিযানের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ হয়েছে।
দুই সিটি করপোরেশনের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াসা ২৬টি খাল হস্তান্তরের পর আরো বেশ কয়েকটি দুই সিটিকে বুঝিয়ে দেয় ওয়াসা। এর মধ্যে ডিএসসিসির তালিকাভুক্ত খালগুলো হলো জিরানী, বাসাবো, কদমতলা, খিলগাঁও বাগিচা, মান্ডা, কাজলাপাড়, শ্যামপুর, তিতাস, উত্তর কুতুবখালী, মৃধাবাড়ী, মাতুয়াইল, ডিএনডি এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক খাল। ডিএনসিসির তালিকাভুক্ত খালগুলো হলো কাঁটাসুর, রামচন্দ্রপুর, কল্যাণপুর, রূপনগর, মিরপুর দিয়াবাড়ি, ইব্রাহিমপুর, বাউনিয়া, বাইশটেকী, সাংবাদিক কলোনি, আবদুল্লাহপুর, দ্বিগুণ, বেগুনবাড়ী, শাহজাদপুর, সুতিভোলা, কসাইবাড়ী, মহাখালী, ডুমনি, উত্তরা দিয়াবাড়ী, বোয়ালিয়া, গোবিন্দপুর ও নরাইল খাল।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানীর খালগুলোর এ দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনাই জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক প্লাবিত হচ্ছে। যাতে ভোগান্তিতে পড়ছে রাজধানীবাসী। গত কয়েক দিন ধরে ভারি বর্ষণে বারবার জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে ঢাকার অলিগলিতে। গতকাল ভোর থেকেও থেমে থেমে হয়েছে ভারি বৃষ্টি। এতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জুরাইন, পোস্তগোলা, যাত্রবাড়ী, ডেমরা, রামপুরা, মালিবাগ ও খিলগাঁও এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে পানি জমেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে আগে থেকেই এসব এলাকার নালা, ডোবা ও মরা খালগুলো টইটম্বুর ছিল। আজকের (শুক্রবার) সকালের বৃষ্টিতে এসব এলাকার জলাবদ্ধতা আরো তীব্র আকার ধারণ করে।
জুরাইন আলমবাগ এলাকার বাসিন্দা আখতার হোসেন জানান, ভোরে বৃষ্টির পর থেকে পুরো আলমবাগ পানিতে ডুবে যায়। নোংরা পানি মাড়িয়ে লোকজনকে চলতে হয়। তবে ছুটির দিন হওয়ায় মানুষজন রাস্তায় কম বের হয়েছে বলে জানান তিনি। যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা কমল সরকার বলেন, ‘যাত্রাবাড়ী প্রধান সড়কও বৃষ্টিতে ডুবে গেছে। অলিগলিতে হাঁটার জো নেই।’ চানখাঁরপুলের বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে বাজার করতে বের হয়ে দেখি রাস্তাঘাট সব পানিতে ডুবে আছে।’
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, খাল-জলাশয়গুলো দখল ও অপরিষ্কার রাখার ফলেই অল্প বৃষ্টিতে নগরী ডুবে যাচ্ছে। দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে ড. আদিল মুহাম্মদ খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকার সবসময় উন্নয়নের গল্প শোনায়। কিন্তু সে গল্পের ভেতরের ভয়াবহতা ফুটে ওঠে বৃষ্টি, বন্যা, আগুন কিংবা যেকোনো দুর্যোগের সময়। আমরা বারবার বলেছি, ঢাকার বাসযোগ্যতা ফেরানোর জন্য কাজ করুন। এজন্য দখলদার, প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার। দখলদারদের অনেকেই সরকারি দলের নামধারীও আছেন। কিন্তু এ ধরনের দখলদাররা সবসময়ই পার পেয়ে যাচ্ছেন। ফলে নতুন নতুন দখলদার তৈরি হচ্ছে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অনেক কর্মকর্তাও দখলদারত্বের সহযোগী, অনেকেই দুর্নীতিবাজ। তাদের বিরুদ্ধেও বড় কোনো আওয়াজ সরকারের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত শোনা যায়নি। ফলে ঢাকার জনগণের দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থার তেমন পরিবর্তন হচ্ছে না।’
সার্বিক বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এখনো আমাদের কার্যক্রম খাল পরিষ্কারের মাঝেই সীমাবদ্ধ। আমরা কোনো খালই পরিপূর্ণ পুনরুদ্ধার করতে পারিনি। আমরা এরই মধ্যে চারটি খাল নিয়ে কাজ শুরু করেছি। এর বাইরে ধারাবাহিকভাবে অন্য খালগুলো নিয়েও কাজ করব। তাহলে আস্তে আস্তে আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাবে আশা করছি।’


