অর্থনৈতিক সংকটের গভীরে প্রশাসনিক আস্থার প্রশ্ন
এপ্রিল ২২, ২০২৬
অর্থনৈতিক সংকটের গভীরে প্রশাসনিক আস্থার প্রশ্ন
এপ্রিল ২২, ২০২৬

নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করতে চায় সরকার

দেশে এখন পর্যন্ত রাজস্ব আহরণের সর্বোচ্চ রেকর্ড ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরে এসেছে। এ আয়ের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত করের পাশাপাশি এনবিআর-বহির্ভূত করও রয়েছে।

রাজস্ব আহরণ কিছুটা বাড়লেও লক্ষ্যের চেয়ে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে। এর মধ্যেই আগামী অর্থবছরের (২০২৬-২৭) জন্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে আলাপ-আলোচনা চলছে।

এমন এক সময়ে সরকার ইতিহাসের এ সর্বোচ্চ আকারের বাজেট প্রণয়নের কথা ভাবছে, যখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতেই চলছে মন্দা। দেশের জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধির হার ৪ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। বিপরীতে মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে ৯ শতাংশের ঘরে। রেমিট্যান্স ছাড়া অর্থনীতির মৌলিক সব সূচকই নিম্নমুখী। রফতানি খাতও প্রসারিত না হয়ে সংকোচনের মুখে পড়েছে। স্থবিরতা বিরাজ করছে বেসরকারি বিনিয়োগে। এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৬ শতাংশের ঘরে। ব্যাংক খাত ধুঁকছে ৩০ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণের ভারে। নেতিবাচক এত সব সংবাদের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, যার প্রভাবে ভেঙে পড়েছে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা। জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি বিপদের মুখে বিদ্যুৎ খাতও।

অর্থনীতিবিদ ও উদ্যোক্তারা বলছেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিচারে এখন সময় হলো দেশের অর্থনীতি ও মানুষকে রক্ষা করার। এজন্য নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হতে হবে বাস্তবসম্মত, সংস্কার ও কর্মসংস্থানমুখী এবং আস্থা ফেরানোর। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার গত দেড় দশকে বাছবিচার ছাড়াই বাজেটকে টেনে লম্বা করেছে। ঘোষিত বাজেটের ২০-২৫ শতাংশ অবাস্তবায়িত থাকলেও পরবর্তী অর্থবছরের জন্য দিয়েছে আরো বড় বাজেট। বিএনপি সরকারকে অতীতের এ পথ অনুসরণ করলে হবে না। নির্বাচিত এ সরকারের প্রথম বাজেট হতে হবে দেশের অর্থনীতিকে নতুন পথে এগিয়ে নেয়ার একটি রোডম্যাপ।

যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক মন্দার এ সময়কে ‘বেঁচে থাকার’ ও ‘ভেসে থাকার’ বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক এ মুখ্য অর্থনীতিবিদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বের জন্যই একটি দুঃসময় চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও বাংলাদেশের অর্থনীতির ঝুঁকি শিগগিরই কাটবে না। এ খাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিম্নগামী। বিপরীতে মূল্যস্ফীতি বহুদিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী। এ পরিস্থিতিতে উচ্চাভিলাষী কোনো বাজেটের চিন্তা করাই উচিত নয়। যদিও আমরা শুনছি, সরকার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের পথে এগোচ্ছে।’

নতুন বাজেটে আলোচিত রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যের বিষয়ে ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স মিলিয়ে সরকারকে ৫ লাখ কোটি টাকা আয় করতেই ঘাম ছুটে যায়। সেখানে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের চিন্তা করা অলিক কল্পনা। আমরা ধরে নিচ্ছি, সরকার তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা ছাপাবে না, রিজার্ভে হাত দেবে না। তাহলে বড় বাজেটের অর্থ আসবে কোথা থেকে? সরকার যদি বাজেট বাস্তবায়নের কথা বলে টাকা ছাপায়, তাহলে মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। অতীতে আমরা দেখেছি, লোকদেখানো বড় একটি বাজেট দিয়ে ছয় মাস না যেতেই কাটছাঁট শুরু করে। এটা করতে গিয়ে প্রয়োজনীয় অনেক বরাদ্দও বাদ পড়ে যায়। তাই যে বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়, সেটি আমরা কেন করব?’

বাজেট প্রণয়নের আগে প্রতি বছরই অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসে এনবিআর। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের জন্য এখন এনবিআরে চলছে প্রাক-বাজেট আলোচনা। আর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে চলছে আগামী বাজেটের রূপরেখা তৈরির কাজ। এনবিআরে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশগ্রহণকারী প্রায় সব পক্ষই অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিচারে ভ্যাট-ট্যাক্স কমিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে সীমা অতিরিক্ত কর চাপিয়ে দেয়া বিভিন্ন খাত থেকে কর প্রত্যাহারের দাবিও উঠছে। অংশীজনদের সমস্যা ও সংকট নিরসনে কিছু দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের তরফে সুপারিশও রয়েছে। এটি হলে আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার ছোট হবে।

যদিও একেবারেই বিপরীত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে। বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত অর্থ বিভাগের একাধিক সূত্র বলছে, বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটের আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা থাকবে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের দায়িত্ব পড়বে এনবিআরের ঘাড়ে। বাকি ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি হিসেবে দেশী-বিদেশী উৎস থেকে সংস্থান করা হবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকসহ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা। আর বিদেশী উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোট টাকা ঋণ প্রাপ্তির চিন্তা করা হচ্ছে।

বিগত এক দশকের বাজেট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতি বছর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বাজেট বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেটি চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু বাজেট পাসের মাত্র এক মাস পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ঘোষিত সে বাজেটকেই টেনে নিয়ে যায় অন্তর্বর্তী সরকার। যদিও বছর শেষে মাত্র ৬ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়িত হয়েছে। সে হিসাবে ঘোষিত বাজেটের ২০ শতাংশের বেশি অবাস্তবায়িত থেকে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য বাজেটের আকার না বাড়িয়ে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিল। যদিও ঘোষিত এ বাজেটও অতীতের মতোই ব্যর্থ হতে চলেছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এনবিআরের মাধ্যমে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল সরকার। এর মধ্যে মার্চ পর্যন্ত অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) সংস্থাটি মোট ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা আহরণ করতে পেরেছে। এ সময় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে নয় মাসে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকায়। মার্চে সংস্থাটির জন্য আহরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ছিল ৬০ হাজার ৫০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর বিপরীতে মাত্র ৩৩ হাজার ৫২২ কোটি টাকা আহরণ হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে অর্থবছরের বাকি অর্থাৎ শেষ প্রান্তিকে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকা করে রাজস্ব আহরণ করতে হবে সংস্থাটিকে।

সৎ ব্যবসায়ীদের ওপর করের চাপ না বাড়িয়ে একটি ব্যবসায়ীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক তপন চৌধুরী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করতে চাই, নতুন বাজেটে সরকার অর্থনীতির প্রকৃত অংশীদারদের প্রতি আরো আন্তরিক ও সহনশীল হবে। কেবল কিছু কর সুবিধা প্রদানই যথেষ্ট নয়, বরং যারা এ দেশের অর্থনীতিতে সত্যিকারের অবদান রাখছে, তাদের সম্মান ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা গেলে তবেই বাজেট সফল এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রেখে যাওয়া সম্ভব হবে।’

তপন চৌধুরী বলেন, ‘বাজেট কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাব নয়, এটি হতে হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও কর্মসংস্থানমুখী একটি পথনকশা বা রূপরেখা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তরুণরা দেশে থাকতে অনীহা প্রকাশ করছে, কারণ তারা সামাজিক সম্মান ও মেধার মূল্যায়ন নিয়ে শঙ্কিত। শিল্প ও বিনিয়োগের স্বার্থে এ আস্থার সংকট দূর করা বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত, যাতে আমাদের সন্তানরা বিদেশে না গিয়ে দেশেই সম্মানজনক পেশা ও ব্যবসার সুযোগ খুঁজে পায়।’

দেশের অর্থনীতিতে যে সংকট চলছে, সেটির সূত্রপাত বেশ কয়েক বছর আগে। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশের অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হয়। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা ওই শ্বেতপত্র প্রণয়ন করেছিলেন। প্রকাশিত শ্বেতপত্রে দেখানো হয়, আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে দেশ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এ সময়ে ভুয়া তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির উচ্চ হার দেখানোর পাশাপাশি দেশের জিডিপির আকারও টেনে লম্বা করা হয়েছিল। বিপরীতে জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সত্ত্বেও কম দেখানো হয়েছিল মূল্যস্ফীতির হার।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। বিপরীতে একই অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির গড় হার ছিল দুই অংকের ঘরে। সর্বশেষ মার্চেও দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের রফতানি প্রবৃদ্ধির হারও নেতিবাচক। অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল ঋণাত্মক ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। একই সময়ে আমদানি খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ শতাংশের নিচে। অর্থনীতিতে ইতিবাচক রয়েছে কেবল রেমিট্যান্স প্রবাহ।

অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের এ দৈন্যের মধ্যেও উচ্চ হারে সরকারের ঋণ বাড়ছে। ঘাটতি বাজেট মেটাতে এ মুহূর্তে অনেকটাই ব্যাংক ঋণনির্ভর হয়ে পড়েছে সরকার। ঘোষিত বাজেট অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারের ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। যদিও অর্থবছর শেষ হওয়ার প্রায় তিন মাস আগেই এ লক্ষ্যের চেয়ে বেশি ঋণ সরকারি কোষাগারে চলে গেছে। জুলাই থেকে গত ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা, যা বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। এর মধ্যে বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ৫২ দিনে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। বিপরীতে দেশের বেসরকারি খাতে ঋণখরা চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক বছরে সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। যেখানে একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার মাত্র ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ ছিল। দেশী-বিদেশী উৎস থেকে বর্তমান সরকারের নেয়া ঋণের স্থিতি প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।

বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অবশ্য দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতি বিনির্মাণের কথা বলে আসছেন। আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর। আমরা টাকা ছাপাতে চাচ্ছি না। দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট এবং এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। বিনিয়োগনির্ভরতাকে সামনে রেখে বাজেট পরিকল্পনাটি এমন হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের ওপর আস্থা রাখতে পারেন। আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে নীতিগুলো দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে পারি না। নীতি পরিবর্তন হলে বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল বার্তা যায়। আমরা চাই নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য স্থিতিশীল থাকুক নীতিগুলো, যাতে বিনিয়োগকারীরা পরিকল্পনা করে বিনিয়োগ করতে পারেন। এ আস্থা না থাকলে কেউ বিনিয়োগ করবেন না। বিষয়গুলো আমরা পর্যালোচনা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *