
সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ জনকে মনোনয়ন বিএনপির
এপ্রিল ২১, ২০২৬
অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে পুলিশ
এপ্রিল ২১, ২০২৬বড় জয়ে ওয়ানডে সিরিজে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ উইকেটের বড় জয়ে সিরিজে সমতা আনল টাইগাররা।
৮৭ বল হাতে রেখে জিতেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। তিন ম্যাচের সিরিজের মীমাংসা হবে চট্টগ্রামে। বৃহস্পতিবার বন্দরনগরীতে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড।
শেষ ২৫ ওভারে মাত্র ৪৪ রানের প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের! শেষ পর্যন্ত টাইগাররা জিতেছে ১৪.৩ ওভার হাতে রেখে। অব্যবহৃত বলের হিসাবে ওয়ানডেতে এটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড় জয়। ২০২৩ সালে নেপিয়ারে কিউইদের বিপক্ষে ২০৯ বল হাতে রেখে জিতেছে বাংলাদেশ।
গতকাল টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেয় কিউইরা, যারা প্রথম ম্যাচ জিতে ১-০তে এগিয়ে ছিল। কিউইরা সিরিজ জয়ের আশায় ব্যাট করতে নামলেও খুব বড় পুঁজি পায়নি। অতিথি দলকে ১৯৮ রানে অলআউট করে দেন নাহিদ রানা, শরীফুল ইসলামরা।
নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে দুইশর আগে অলআউট করে দেয় বাংলাদেশ। ১০ ওভারে ৩২ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। বাউন্সার, ইয়র্কারে নাস্তানাবুদ করেন কিউইদের। চলতি বছর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ৫ উইকেট নিলেন নাহিদ। মিরপুরে গত ১১ মার্চ পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৪ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন ২৩ বছর বয়সী এ পেসার।
এছাড়া ছন্দে থাকা শরীফুল ইসলাম ৩২ রানে ২টি উইকেট শিকার করেন। তাসকিন আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ ও রিশাদ হোসেনও ভালো বোলিংয়ে যোগ্য সাপোর্ট দিয়ে যান নাহিদ ও শরীফুলকে। কিউইদের হয়ে নিক কেলি সর্বোচ্চ ৮৩ রান করেন ১০২ বলে, বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন ১৪টি।
নিউজিল্যান্ডের বোলাররা ১৯৯ রানের পুঁজি নিয়েও দুর্দান্ত লড়াই করে। যদিও এদিন টাইগার ব্যাটারদের আটকাতে পারেননি নাথান স্মিথ, ব্লেয়ার টিকনাররা। ব্যাটাররা যখন নির্ভার হয়ে খেলতে থাকে, প্রয়োজনে ডট দেয় ও সিঙ্গেল নেয় কিংবা ‘ক্যালকুলেটেড রিক্স’ নেয়, তখন তাদের আটকানো কঠিনই। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ঠিক তেমনটাই ঘটেছে।
তবে শুরু আর শেষের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া ভার। ১৯৯ রান তাড়া করতে নেমে ২১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিকরা। দ্রুত সাজঘরে ফিরে যান ওপেনার সাইফ হাসান (৮) ও আফিফ হোসেনের জায়গায় একাদশে আসা সৌম্য সরকার (৮)। এরপর তানজিদ হাসান তামিম (৫৮ বলে ৭৬) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (৭১ বলে ৫০) কিউইদের হতাশ করে ১১০ বলে ১২০ রানের অনবদ্য এক জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। এর মধ্যে তানজিদের অবদান ৫১ বলে ৭১ রান ও শান্তর ৫৯ বলে ৪০ রান।
মাত্র ৩৩ বলে ফিফটি করেন দারুণ ছন্দে থাকা তানজিদ। সর্বশেষ পাকিস্তান সিরিজের শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরি করা তানজিদ ওই সিরিজের প্রথম ম্যাচে করেছিলেন হার না মানা ৬৭ রান। গতকাল ঝড়ো গতিতে করেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি। সেঞ্চুরি করেছেন একটি। দ্বিতীয় সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগানো এ বামহাতি ব্যাটার মাত্র ৫৮ বলে ১০ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় ৭৬ রান করে জেইডেন লেনক্সের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরে যান। লেনক্সের পরের ওভারেই বিদায় নেন শততম ওয়ানডে খেলা লিটন দাস। তিনি করতে পেরেছেন ১১ বলে ৭ রান।
লিটনের বিদায়ের পর জয় থেকে ৪৫ রান দূরে ছিল বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে শান্ত মেজাজেই এগোচ্ছিলেন শান্ত। ২০ বলে ১৩ রান তোলার পর শান্ত ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে গেলে এ জুটি ভেঙে যায়। বাংলাদেশের প্রয়োজন তখন মাত্র ৩২ রান, হাতে ছিল ২০ ওভারেরও বেশি বল। কিউইরা এ সময় চাপ তৈরি করলেও অভিজ্ঞ হৃদয় (৩১ বলে ৩০) ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের (২৫ বলে ৮) ব্যাটে ভর করে ৮৭ বল বাকি থাকতে জয়ের লক্ষ্য ছুঁয়েছে লাল-সবুজরা।
প্রথম ওয়ানডেতে হারের পর প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে পড়েন মিরাজ ও তার দল। গতকাল সহজ এক জয় তুলে নেয়ার পর স্বস্তি ফিরেছে ড্রেসিংরুমে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলনায়ক বলেন, ‘দলের জন্য আনন্দের এক মুহূর্ত। আমি মনে করি ছেলেরা ভালো করেছে, নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করেছে। রানা, শরীফুল আর তাসকিন দারুণ বোলিং করেছে। এ উইকেটে ভালো বল করা কঠিন।’
ম্যাচসেরা নাহিদ রানা বলেছেন, ‘অনেক ভালো লাগছে। আজ আমরা ভালো ক্রিকেট খেলে জয় তুলে নিয়েছি। আমরা দলকে আরো সফল করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’ নিজের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এনেছি। আগের ম্যাচে আমি বেশকিছু রান দিয়েছি, কিন্তু আজ শুধু উইকেটই নিইনি, ভালো লাইন ও লেংথে বল করে ১০ ওভারে রানও অনেক কম দিয়েছি। আমি নিশ্চিত করতে চেয়েছি, যেন প্রথম ম্যাচের ভুল আর না হয়। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে আমি খুশি। আশা করি ভবিষ্যতেও এমনটি করে যাব।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড: ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮/১০ (নিক কেলি ৮৩, আব্বাস ১৯; রানা ৫/৩২, শরীফুল ২/৩২)।
বাংলাদেশ: ৩৫.৩ ওভারে ১৯৯/৪ (তানজিদ ৭৬, শান্ত ৫০, হৃদয় ৩০*; লেনক্স ২/৩৬)।
ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।
প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: নাহিদ রানা।
সিরিজ: ১-১-এ সমতা।


