
‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী কৃষক ভালো থাকলে সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকবে
এপ্রিল ১৫, ২০২৬
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা
এপ্রিল ১৫, ২০২৬যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা আবারো শুরু হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ইসলামাবাদে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা আবারো আলোচনায় বসতে পারেন।
এর আগে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তবে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে এবং তেলের দাম আবার ১০০ ডলারের নিচে নেমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, একটি স্থিতিশীল চুক্তিতে পৌঁছতে ইরান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেয়া হয়—এমন কোনো চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না। অন্যদিকে তেহরান বলছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃত না হলে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব নয়।
এ দরকষাকষির মধ্যেই হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। সমুদ্রপথে চলাচলকারী ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এ অবরোধ চলাকালেই কয়েকটি ট্যাংকার এরই মধ্যে ওই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি অতিক্রম করেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজ সরাসরি আটকের খবর পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা ও ইরানের বন্দর অবরোধকে ‘বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছে চীন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করে একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
দ্রুত কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, সরাসরি অবরোধ অভিযানে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য অংশ নেবে না, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আন্তর্জাতিক নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে বহুপক্ষীয় উদ্যোগে যুক্ত হতে পারে ফ্রান্স। একই সঙ্গে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক চাপ কমিয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। জলপথকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে কাতারও।
যুদ্ধ ও অবরোধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে যাচ্ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, উচ্চমূল্যের কারণে কভিড-পরবর্তী সময়ের মধ্যে তেলের চাহিদায় সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতন ঘটতে পারে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দৈনিক চাহিদা প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল কমে যেতে পারে বলে সংস্থাটির আশঙ্কা। বছরজুড়ে গড় চাহিদাও হ্রাসের পূর্বাভাস দিয়েছে তারা।
এদিকে বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকর হওয়ায় ইরানের অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। দেশটির মোট তেল রফতানির প্রায় ৮০ শতাংশই হরমুজ প্রণালি দিয়ে সম্পন্ন হয়। যুদ্ধের শুরুতে এ পথ কার্যত নিয়ন্ত্রণে নিলেও ইরান সীমিতভাবে রফতানি অব্যাহত রাখে। মার্চে দৈনিক প্রায় ১৮ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল এবং এপ্রিলের প্রথমার্ধে প্রায় ১৭ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি করেছে দেশটি। গত এক মাসে মোট রফতানি ৫৫ মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি, যার বাজারমূল্য ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ওপরে থাকায় আয় দাঁড়ায় প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধকালেও তেল বিক্রি থেকে ইরানের আয় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছিল। কিন্তু নতুন অবরোধ পরিস্থিতিতে এ আয় ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। যদিও কিছু পরিমাণ তেল ভাসমান ট্যাংকারে মজুদ রয়েছে, যার বড় অংশই চীনের দিকে পাঠানো। তবে তা দীর্ঘমেয়াদে বিকল্প সমাধান নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তেল ছাড়া পেট্রোকেমিক্যাল, প্লাস্টিক ও কৃষিপণ্যের রফতানিও সমুদ্রপথনির্ভর হওয়ায় ইরানের ওপর বাণিজ্যিক চাপ আরো বাড়তে পারে। একইভাবে শিল্পপণ্য, খাদ্য ও প্রযুক্তিপণ্য আমদানিও ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইরান ও চীন যৌথভাবে রেলপথ উন্নয়নে কাজ করলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় পরিসরে জ্বালানি পরিবহনে তা কার্যকর বিকল্প নয়।


