আন্দামান সাগরে ২৫০ রোহিঙ্গা-বাংলাদেশী নিখোঁজ
এপ্রিল ১৫, ২০২৬
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারো আলোচনার সম্ভাবনা
এপ্রিল ১৫, ২০২৬
আন্দামান সাগরে ২৫০ রোহিঙ্গা-বাংলাদেশী নিখোঁজ
এপ্রিল ১৫, ২০২৬
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারো আলোচনার সম্ভাবনা
এপ্রিল ১৫, ২০২৬

‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী কৃষক ভালো থাকলে সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকবে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে কৃষককে আত্মনির্ভরশীল ও সচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলা। কৃষক যদি ভালো থাকে সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকবে।’

গতকাল টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাটন টিপে কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এর পরই সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে ২ হাজার ৫০০ টাকা পৌঁছে যায়। পরে প্রধানমন্ত্রী ১৫ জনের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড তুলে দেন এবং উপহার হিসেবে গাছের চারা প্রদান করেন। প্রাক-পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের ১০টি জেলার ১১ উপজেলায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অন্যান্য উপজেলা থেকে সুবিধাভোগী কৃষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার (এফএও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াকুন শি।

উদ্বোধন শেষে বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘এ দেশে প্রধান পেশা কৃষি। দেশের চার কোটি পরিবার আছে, প্রত্যেকটি পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত। আমরা বিশ্বাস করি এ দেশের কৃষক যদি সচ্ছল থাকে, কৃষক যদি বেঁচে থাকে এবং ভালো থাকে তাহলে সমগ্র বাংলাদেশ ও দেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবে। সেজন্যই আজ কৃষক কার্ড প্রদান শুরু করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘১১টি উপজেলায় পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কৃষক কার্ড প্রদানের অনুষ্ঠানটি হচ্ছে। প্রায় ২২ হাজার (২২ হাজার ৬৫ জন) কৃষককে প্রথম পর্যায়ে এ কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দিতে চাচ্ছি। নির্বাচনের আগে দেশের মানুষের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তার মধ্যে এ কৃষক কার্ডও ছিল। এর বাইরেও বলেছিলাম কৃষকদের জন্য সুদসহ ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ আমরা মওকুফ করব। নির্বাচনের পর সরকারের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সেই কাজটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। যার মাধ্যমে দেশের প্রায় ১২ লাখ কৃষক সুবিধাটি পেয়েছে। আজ আমরা হয়তো মাত্র ২২ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ডের সুবিধা এ মুহূর্তে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে থাকা ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে পর্যায়ক্রমিকভাবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ সুবিধা পৌঁছে দেব।’

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কৃষিবিষয়ক নানা উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া যখন সরকার গঠন করলেন তিনি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, ২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষিজমির খাজনাও মওকুফ করেছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর কৃষকদের ফসল ফলানোর ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা ছিল। তার মধ্যে সেচ একটি বড় সমস্যা। কৃষকরা সময়মতো পানি পেত না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যার মাধ্যমে এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষিতে মোটামুটিভাবে ফসলে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল। যে বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে দুর্ভিক্ষে না খেয়ে প্রায় সাত থেকে আট লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল, সেই বাংলাদেশেই আমরা দেখেছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুধু খাল খনন করার ফলে কৃষক সেচ সুবিধা পাওয়ায় কৃষির উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছিল এবং অল্প পরিমাণে হলেও বিদেশে রফতানি করতে সক্ষম হয়েছিল।’

সরকার তার দেয়া সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেগুলো পূরণে কাজ শুরু করেছি। সমগ্র বাংলাদেশে আমরা খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। আগামী পাঁচ বছর প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব ইনশা আল্লাহ। এর মাধ্যমে কৃষককে সেচের পানি পৌঁছে দিতে চাই। শুধু তা-ই নয়, খাল খননের মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হচ্ছে বন্যার সময় যে অতিরিক্ত বর্ষণ হয় কিংবা হঠাৎ করে সীমান্তের ওপার থেকে যে পানি চলে আসে এ সমস্যাগুলোকে যাতে ম্যানেজ করতে পারি। সেই পানিকে যাতে পরবর্তী সময়ের জন্য ধরে রাখা যায় সেটিই আমাদের খাল খননের একটি লক্ষ্য। বিগত ৫০ বছর ধরে ডিপ টিউবওয়েল, টিউবওয়েল ব্যবহারের ফলে মাটির নিচের পানির স্তর অনেক নিচে চলে গেছে, যা সামগ্রিকভাবে দেশ এবং মানুষের জন্য একটি ভয়াবহ ব্যাপার। যদি এ পানিও শেষ হয়ে যায়, তাহলে দেশে বসবাসকারী প্রত্যেকটি মানুষ কষ্টে পড়বে। সেজন্য খাল খননের মাধ্যমে আমরা সেই আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল যেটি আছে, সেটিকে আস্তে আস্তে রিচার্জ করতে চাই এবং আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চাই।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘কৃষক অনেক ফসল ফলায় কিন্তু সেগুলো প্রিজার্ভ করতে পারে না। কৃষকের ফসলটা যখন বেশি হয়, তখন অনেক সময় দাম পায় না। কিন্তু আমরা যদি কোল্ড স্টোরেজে রাখতে পারি তাহলে কৃষকরা পরবর্তী সময়ে দাম পায়। শুধু দামই পায় না, একই সঙ্গে মানুষ সিজনের পরও সেই ফসলটির সুবিধা পায়, খেতে পারে। সেজন্য এরই মধ্যে আমরা বাইরের দেশের সঙ্গেও কথা বলেছি। বিভিন্ন দেশ এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে উৎসাহী। দেশের অনেক ব্যবসায়ীরা উৎসাহী। এ বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। কৃষকদের সুবিধার জন্য আমরা কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। সেজন্যই আমরা বলে থাকি, “‍করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।” এ দেশের প্রত্যেকটি নাগরিক আমরা রাজনীতি করি বা না করি। কৃষক হই বা না হই, আমরা ছাত্র হই বা না হই, আমরা ব্যবসায়ী হই বা না হই যে পেশার মানুষই হয়ে থাকি না কেন, প্রত্যেকের একটি আকাঙ্ক্ষা—নিজের দেশটিকে ভালো দেখতে চাই। আমরা দেখতে চাই এ দেশের মানুষ নিরাপদে বসবাস করছে, এ দেশের সন্তানরা দেশেই স্বচ্ছন্দে বড় হচ্ছে, খেয়ে-পরে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি করে নিরাপত্তার সঙ্গে বড় হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য সেটাই। আমরা সেই লক্ষ্য অর্জন করতে চাই। সেই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব একমাত্র যদি জনগণের সহযোগিতা থাকে। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চলতে, সামনের দিকে বাড়তে, দেশ গঠন করতে চাই।’ এ সময় তিনি সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে দেশ গঠনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *