ইরানের সব বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ শুরু
এপ্রিল ১৪, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব ডেড স্টক দিয়ে কোনোমতে চালু আছে ইস্টার্ন রিফাইনারি
এপ্রিল ১৫, ২০২৬
ইরানের সব বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ শুরু
এপ্রিল ১৪, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব ডেড স্টক দিয়ে কোনোমতে চালু আছে ইস্টার্ন রিফাইনারি
এপ্রিল ১৫, ২০২৬

সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান চীনের

হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার মধ্যে সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো লক্ষ্য করে অবরোধ কার্যকর করার ঘোষণা দেয়ার পর পরই বেইজিং সতর্ক করে বলেছে, এ সংকট আরো বাড়লে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধাক্কা দেবে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট, তাই এখানে বাধাহীন চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে তারা দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন গতকাল বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের প্রধান রুট। তাই এর নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব।’ তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘‌এ সংকটের মূল কারণ ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং এর একমাত্র সমাধান হলো দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও শত্রুতা বন্ধ করা।

চীন সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তারা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ চেইন সচল রাখতে প্রস্তুত। তবে অগ্রাধিকার হওয়া উচিত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। বেইজিং আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে এটিকে সংকটের মূল উৎস হিসেবে দায়ী করে আসছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে চীনের ওপর চাপ বিশেষ করে ইরানের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র বা ভেনিজুয়েলা থেকে তেল কেনার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে চীন বলেছে, প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব সম্পদ ও অর্থনৈতিক অংশীদার বেছে নেয়ার সার্বভৌম অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন চীনসহ বিভিন্ন দেশকে সতর্ক করে জানিয়েছে, তারা যদি ইরানকে সামরিক সহায়তা দেয়, তবে তাদের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি থাকলেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠক কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে। যার পরই যুক্তরাষ্ট্র অবরোধের ঘোষণা দেয়। চীন এ আলোচনাকে উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, দুই পক্ষেরই উচিত সাময়িক যুদ্ধবিরতি মেনে চলা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে আছে, যা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। কারণ বিশ্বের মোট তেলের বড় একটি অংশ এ রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। চীনের জন্য বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে যাওয়া তেলের প্রায় ৩১ শতাংশই তারা আমদানি করে, মোট সরবরাহের প্রায় ৮৬ শতাংশই এশিয়ার দেশগুলোর দিকে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *