
আবারো ১০০ ডলার ছাড়াল জ্বালানি তেলের দাম
এপ্রিল ১৪, ২০২৬
সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান চীনের
এপ্রিল ১৪, ২০২৬মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত সময় অনুযায়ী ইরানের সব বন্দর অবরোধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অবরোধের আওতাভুক্ত জলসীমায় কোনো জাহাজ গেলে তা আটক, দিক পরিবর্তন বা জব্দ করা হতে পারে।
বাংলাদেশ সময় গতকাল রাত ৮টায় মার্কিন বাহিনীর এ অবরোধ শুরু হয়। মার্কিন অবরোধের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানও। তারা পারস্য ও ওমান উপসাগরের সব বন্দরকে অনিরাপদ করে তোলার হুমকি দিয়েছে।
অবরোধের অংশ হিসেবে ইরান উপকূল থেকে মাত্র ১২৪ মাইল দূরে অবস্থান নিয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকন। উপগ্রহের ছবি বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর এটাই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো যুদ্ধজাহাজের সবচেয়ে কাছের অবস্থান।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, অবরোধ ভাঙতে এলে ইরানের ‘অ্যাটাক শিপ’ ধ্বংস করে দেয়া হবে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় গতকাল ট্রাম্প লিখেছেন, ইরানের নৌবাহিনী সমুদ্রের তলদেশে পড়ে আছে, তাদের ১৫৮টি জাহাজ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। তাদের স্বল্পসংখ্যক তথাকথিত ফাস্ট অ্যাটাক শিপে আমরা এতদিন আঘাত করিনি, কারণ সেগুলোকে আমরা খুব একটা বড় হুমকি মনে করিনি। এ জাহাজগুলোর কোনোটি যদি আমাদের অবরোধের আওতায় থাকা এলাকার ধারেকাছেও আসে, তবে সেগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ অবরোধের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী। ওয়াশিংটনের অবরোধকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে একে ‘দস্যুতার শামিল’ বলে অভিহিত করেছে তারা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখবে তেহরান। শত্রুপক্ষ-সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজকে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা অতিক্রম করতে দেয়া হবে না। এছাড়া উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের উদ্দেশে সতর্কবার্তায় ইরানের সেনাবাহিনী বলেছে, এ অঞ্চলের বন্দরগুলোর নিরাপত্তা ‘সবার জন্য, নতুবা কারো জন্যই নয়’। যদি ইরানের বন্দরগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্যবস্তু করে, তাহলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।
গতকাল অবরোধ শুরুর আগে এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ অবরোধের আওতায় থাকা এলাকায় প্রবেশ করলে বা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তা পথিমধ্যে আটক, পথ পরিবর্তন কিংবা জব্দ করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট জাহাজটি কোন দেশের পতাকাবাহী, সেটি এখানে বিবেচনা করা হবে না।
নাবিকদের জন্য জারি করা এক সতর্কবার্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান উপকূলে কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপের অংশ হিসেবে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরে চলাচলকারী যেকোনো জাহাজকে গতিরোধ ও জব্দের হুঁশিয়ারি দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সেন্টকমের ওই বার্তায় নাবিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির পূর্ব দিকে আরব সাগরে যেকোনো পতাকাবাহী জাহাজের ওপর এ অবরোধ বলবৎ থাকবে। বার্তায় আরো বলা হয়েছে, অনুমোদন ছাড়া অবরোধকৃত এলাকায় প্রবেশ বা সেখান থেকে প্রস্থানকারী যেকোনো জাহাজকে পথিমধ্যে আটক, পথ পরিবর্তন ও জব্দ করা হতে পারে।
তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী স্পষ্ট করেছে যে এ অবরোধের ফলে সাধারণ জাহাজ চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। সেন্টকম বলেছে, ইরান নয় এমন গন্তব্যে যাতায়াতকারী কোনো নিরপেক্ষ জাহাজের হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারাপারে এ অবরোধ কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।
হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করার কার্যক্রমেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেয়নি কোনো মিত্র দেশ। অবরোধে অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। বিবিসির খবরে বলা হয়, ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ ও সেনা ইরানি বন্দর অবরোধে ব্যবহৃত হবে না। তবে অঞ্চলটিতে যুক্তরাজ্যের মাইন অপসারণকারী ইউনিটের তৎপরতা ও ড্রোনবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, তারা নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ও হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার নীতিকে সমর্থন করে যাবেন, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিসহ যুক্তরাজ্যের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধকে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছে স্পেন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মারগারিতা রোবেলস বলেছেন, এমন পদক্ষেপের কোনো মানে হয় না। স্প্যানিশ সম্প্রচারমাধ্যম টিভিইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রোবেলস বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সবকিছুই কাণ্ডজ্ঞানহীনভাবে চলছে। কেউ জানে না কেন এ যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। অথচ বলা হয়েছিল এটি দ্রুত শেষ হবে। এটি মূলত একটি নিম্নগামী সর্পিল গতির নতুন অধ্যায়, যার মধ্যে আমাদের টেনেহিঁচড়ে নামানো হয়েছে এবং তারা পুরো বিশ্বকেও এর মধ্যে টেনে নামানোর চেষ্টা করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি যেকোনো মুহূর্তে শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু। গতকাল ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে। তার মতে, জেডি ভ্যান্স তাকে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো ইরান থেকে সব ধরনের পরমাণুসামগ্রী সরিয়ে ফেলা। ওয়াশিংটন নিশ্চিত করতে চায়, আগামী কয়েক বছর, এমনকি কয়েক দশকেও যেন ইরানের ভেতরে কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ না ঘটে। ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থনও জানান নেতানিয়াহু।


