সুনামগঞ্জে পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙে ডুবছে দেখার হাওর
এপ্রিল ১২, ২০২৬
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৭ জনের
এপ্রিল ১২, ২০২৬
সুনামগঞ্জে পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙে ডুবছে দেখার হাওর
এপ্রিল ১২, ২০২৬
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৭ জনের
এপ্রিল ১২, ২০২৬

কৃষিতে সৌরবিদ্যুৎ নড়াইলে সেচ পাম্পে প্রতিদিন উত্তোলন ১২ লাখ লিটার পানি

নড়াইলে সৌরবিদ্যুচ্চালিত সেচ পাম্পের মাধ্যমে প্রতিদিন ১২ লাখ লিটার পানি উত্তোলন করা হচ্ছে।

এ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে নড়াইলের কৃষকরা কম খরচেই বোরো, ভুট্টা, তিল, সবজিসহ বিভিন্ন প্রকার ফসল চাষ করছেন। নিরবচ্ছিন্ন সেচের কারণে এবার ফসল নিয়ে আশাবাদী এ জনপদের পাঁচ শতাধিক প্রান্তিক কৃষক। পরিবেশবান্ধব এ পদ্ধতিতে একদিকে যেমন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষকদের খরচও কমেছে অর্ধেক।

সরজমিন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের অধীনে তুলারামপুর ইউনিয়নের মিতনা ও তুলারামপুর বিল এবং কালিয়া উপজেলার একটি বিলে বিভিন্ন প্রকার ফসলে সেচ প্রদানে আট কিলোওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে, যার সাহায্যে প্রতিটিতে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট শক্তির সেচ পাম্পে সেকেন্ডে ১৭ লিটার পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। শুধু সূর্যের আলো থাকলে বিরামহীনভাবে চলে সেচযন্ত্রটি।

বর্তমানে দৈনিক ১৬ ঘণ্টায় ১২ লাখ লিটার পানি উত্তোলন হচ্ছে। এতে একদিকে ডিজেল সাশ্রয় হচ্ছে ৩৬ লিটার, অন্যদিকে ১৩২ ইউনিট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে। পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের ফলে বোরো ধানসহ কৃষকদের কষ্টার্জিত বিভিন্ন ফসল হৃষ্টপুষ্ট হয়ে উঠেছে। বাতাসে দোল খাওয়া সবুজ সেই খেতের আশা জাগানো হাতছানিতে খুশির দোলা লেগেছে চাষীদের মনেও।

কৃষকেরা জানান, কৃষি অফিসের সহযোগিতায় উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের দুটি বিলে সোলার প্যানেলের সাহায্যে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। শুরুতে অনেকের মধ্যে সংশয় থাকলেও এখন এ পদ্ধতির সুফল পাচ্ছেন সবাই। উপকারভোগীদের নেই কোনো ডিজেল বা বিদ্যুতের চিন্তা। স্বল্প খরচে চাহিদামতো পানি পাওয়ায় খুশি এ এলাকার কৃষক।

চাচড়া গ্রামের কৃষক মো. হোসেন আলী বলেন, ‘বোরো মৌসুমে অন্যান্য জায়গার কৃষকেরা যেমন সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন, আমাদের কোনো দুশ্চিন্তা নেই।’ বামনহাটি গ্রামের প্রান্তিক কৃষক নারান বিশ্বাস বলেন, ‘শুধু ধান না, এখানে পাট ও শাকসবজিতেও সুন্দরভাবে পানি দিতে পারছেন চাষীরা। স্যালো মেশিনের তুলনায় সৌরপাম্পে সেচ খরচ অর্ধেক।’

নড়াইল সদরের তুলারামপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুদীপ্ত বিশ্বাস বলেন, ‘জ্বালানি তেলের যে সংকট রয়েছে, তা মোকাবেলা করার জন্য এ পদ্ধতি খুবই সময়োপযোগী। কৃষকদের কাছে এটি জনপ্রিয় করার জন্য তাদের বিভিন্নভাবে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।’

নড়াইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘সোলার পাম্পগুলো এলাকার কৃষকেরা যৌথভাবে পরিচালনা করছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এ ধরনের ব্যবস্থা আরো সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং তারা উপকৃত হবেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *