তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, তেল লুটপাটে স্থানীয়দের ভিড়
এপ্রিল ২, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতাদের সাক্ষাৎ
এপ্রিল ২, ২০২৬
তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, তেল লুটপাটে স্থানীয়দের ভিড়
এপ্রিল ২, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতাদের সাক্ষাৎ
এপ্রিল ২, ২০২৬

পারস্য উপসাগরে আটকা ২১৯০ বাণিজ্যিক জাহাজ, ২০ হাজার নাবিক

মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স সংস্থা ‘কেপলার’ জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যে মাত্র ছয়টি জাহাজ প্রণালি পার হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০টি জাহাজ এ প্রণালি পার হয়।

চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় পারস্য উপসাগরে ৩২০টি তেল ও গ্যাস ট্যাঙ্কারসহ অন্তত ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়েছে। এসব জাহাজে আটকে আছেন আনুমানিক ২০ হাজার নাবিক। খবর আরব নিউজ।

বুধবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আটকা পড়া জাহাজগুলোর মধ্যে বিশালাকৃতির ১২টি গ্যাসবাহী এবং ৫০টি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার রয়েছে।

মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স সংস্থা ‘কেপলার’ জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যে মাত্র ছয়টি জাহাজ প্রণালি পার হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০টি জাহাজ এ প্রণালি পার হয়।

‘লয়েডস লিস্ট’-এর হিসাব অনুযায়ী, গত সপ্তাহ থেকে অন্তত ৪৮টি জাহাজ এ পথ ব্যবহার করেছে, যাদের বেশিরভাগেরই ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে অথবা দেশগুলো তেহরানের বন্ধুপ্রতিম।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ এ রুটে অবরোধ দেয় ইরান। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সাধারণত এ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এ পরিস্থিতিতে যাতায়াতের অনুমতি পাওয়া জাহাজ মালিকদের ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি দিতে হচ্ছে, যাকে ‘তেহরান টোল বুথ’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। তবে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, মালয়েশিয়াসহ বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জাহাজের ক্ষেত্রে এ ফি মওকুফ করা হতে পারে।

মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পেট্রোনাস, সাপুরা এনার্জি এবং এমআইএসসির মতো কোম্পানির মালিকানাধীন বেশ কিছু ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তেহরান কুয়ালালামপুরকে আশ্বস্ত করেছে, দ্বিপক্ষীয় সুসম্পর্কের কারণে তাদের জাহাজের ওপর কোনো টোল আরোপ করা হবে না। তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, বিপুল সংখ্যক জাহাজ নোঙর করে অপেক্ষায় থাকায় এ পথ দিয়ে যাতায়াতে বিলম্ব হতে পারে।

চীন নিশ্চিত করেছে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের পর তাদের অন্তত তিনটি জাহাজ সম্প্রতি প্রণালিটি পার হয়েছে। জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, দুটি কন্টেইনার জাহাজ তীব্র গতিতে দলবদ্ধভাবে চলার মাধ্যমে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় পার হতে সক্ষম হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাত শুরু হওয়ার পর এগুলোই প্রথম কোনো অ-ইরানি কন্টেইনার জাহাজ যা উপসাগর ত্যাগ করেছে।

এছাড়া গ্রিস পরিচালিত একটি সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং ভারতের পতাকাবাহী বেশ কিছু এলপিজি ক্যারিয়ারসহ আরো অল্প কিছু জাহাজ বের হতে পেরেছে। শিপিং সূত্রগুলো বলছে, মাইন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার ঝুঁকি এড়াতে কিছু জাহাজ রাতে চলাচল করা কিংবা ট্র্যাকিং ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখার মতো কৌশল অবলম্বন করছে।

এতো কিছুর পরও সৌদি আরব ও কাতারের মতো বড় উৎপাদনকারীদের জ্বালানি রফতানি কার্যত বন্ধ রয়েছে। আনুমানিক ২০ হাজার নাবিকসহ শত শত জাহাজ এখনও উপসাগরীয় এলাকায় আটকা পড়ে আছে।

বুধবার পাকিস্তানের একটি তেলবাহী জাহাজ প্রণালি পার হয়ে করাচি বন্দরে পৌঁছেছে, আর অন্য একটি জাহাজ বিকল্প পথে বন্দরে পৌঁছেছে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, আগামী সপ্তাহগুলোয় আরো বেশ কয়েকটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছাবে।

যুক্তরাজ্য এরই মধ্যে এই সংকট নিরসনে ৩৫টি দেশের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে। চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং নিরাপদ জাহাজ চলাচলের আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার আবার ইরানকে হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে আহ্বান জানিয়েছেন, অন্যথায় তেহরানকে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *