
আরব আমিরাতে ড্রোন হামলায় বাংলাদেশী নিহত
এপ্রিল ২, ২০২৬
সংকটে কমেছে রেলে জ্বালানি সরবরাহ, মজুদ ডিজেল দিয়ে ট্রেন চলবে ১৫-২০ দিন
এপ্রিল ২, ২০২৬মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বেশি ব্যয় হচ্ছে জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ হচ্ছে, তা বাংলাদেশের জন্য একটা বড় সমস্যা।
যুদ্ধের কারণে সরকারকে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে আমাদের জ্বালানি তেল কিনতে হচ্ছে। তবে জ্বালানির এ সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে।’
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যালয়ে আসন্ন বাজেট ও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
বর্তমান সরকারের সামনে তিন ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী। চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে—প্রথমত, সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে সেটি পুনর্গঠন করা। দ্বিতীয়ত, দেশের রাজস্ব আদায় তথা কর-জিডিপি খুবই কম এবং তৃতীয়ত, এর সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ। কীভাবে সম্পদ আহরণ বৃদ্ধির মাধ্যমে এ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে পারি, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
আসন্ন বাজেটের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আমির খসরু বলেন, ‘আমাদের বাজেট আর ঋণনির্ভর করতে চাই না, চাই বিনিয়োগনির্ভর। সেটাকে সামনে রেখে বাজেট পরিকল্পনা হবে। যাতে বিনিয়োগকারীরা আস্থা রাখতে পারে। আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে, নীতিগুলো দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে পারি না। নীতির পরিবর্তন হলে বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল বার্তা যায়। আমরা চাই নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্য স্থিতিশীল থাকুক নীতিগুলো, যাতে বিনিয়োগকারীরা পরিকল্পনা করে বিনিয়োগ করতে পারেন। এ আস্থা না থাকলে কেউ বিনিয়োগ করবে না। না দেশী, না বিদেশী। বিষয়গুলো আমরা পর্যালোচনা করছি।’
বাজেটে সমাজের পিছিয়ে পড়াদের বিবেচনার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য হলো সমাজের বঞ্চিত ও সাধারণ মানুষকে অর্থনীতির মূল ধারায় নিয়ে আসা। নারীদের পিছিয়ে রাখা হয়। সেগুলো আর হবে না। ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো চালু থাকবে। বাজেটের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে উন্নয়নের সুবিধার বাইরে রাখা হবে না। তাদের পাওনা নিশ্চিত করেই সামগ্রিক বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে।’
অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ট্যাক্স-জিডিপি রেশিওর গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘জিডিপির আকারের সঙ্গে কর-জিডিপি রেশিও সবই সম্পর্কিত। অর্থনীতিকে যদি আমরা চাঙ্গা করতে না পারি, দিনের শেষে ট্যাক্স-জিডিপি বাড়ানো কঠিন। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি। আমরা টাকা ছাপাতে চাই না। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে। দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘রফতানি খাতে কেবল গার্মেন্টসের ওপর নির্ভর না থেকে অন্যান্য সেক্টরকেও বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ও ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মতো সুবিধা দেয়ার কথা ভাবছে সরকার। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় জাপান ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে। এছাড়া এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পেছানোর প্রক্রিয়াটিও চলমান রয়েছে।’
এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নেয়া বড় প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকি নিয়ে অনুসন্ধান, এনবিআরকে দুই ভাগে ভাগ করার প্রক্রিয়া পর্যালোচনার পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনীতির সংকট মোকাবেলা, নির্বাচনী ইশতাহার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলমান থাকবে বলে জানান এ মন্ত্রী।


