
আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির ১১৬তম গোল
এপ্রিল ১, ২০২৬
ক্রিমিয়ায় রুশ সামরিক উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, নিহত ২৯
এপ্রিল ১, ২০২৬ইতালির উইঙ্গার লিওনার্দো স্পিনাৎজোলা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেছেন, ‘ইতালির শিশুদের আরেকটি বিশ্বকাপ কাটবে ইতালিকে ছাড়া। আমার এখনো বিশ্বকাপ হচ্ছে না যে আমরা এভাবে বিদায় নেব, এমনকি ১০ জন নিয়ে খেলেও। পেনাল্টিতে আমরা আরো তিন-চারটি গোল পেতে পারতাম। এটা সত্যিই বড় হতাশার।’
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল দল ইতালি চারবার জিতেছে বিশ্বকাপ শিরোপা। অথচ সেই দলটি কিনা টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে যেতে ব্যর্থ হলো। ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্বে একেবারে শেষ ধাপে একে পেনাল্টি শ্যুটআউটে হেরে বসল আজ্জুরিরা। বসনিয়া-হার্জেগোভিনার মাঠে ১-১ গোলে ড্র করার পর টাইব্রেকারে ৪-১ গোলে হেরেছে ইতালি।
এর আগে ২০১৮ সালে রাশিয়া ও ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে দর্শক ছিল ইতালি। আগের কোনো চ্যাম্পিয়ন দলের টানা এতবার বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়ার রেকর্ড নেই।
ময়েজ কিন ১৫ মিনিটে এগিয়ে দেন ইতালিকে। ৪১ মিনিটে আলেসান্দ্রো বাস্তোনি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে পরের সময়টুকু একজন কম নিয়ে খেলতে হয় ইতালিকে। এই সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগায় বসনিয়া। হারিস তাবাকোভিচ ৭৯ মিনিটে গোল করে সমতা আনেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে অতিরিক্ত সময়ের খেলায় গোল করতে পারেনি কোনো দল। এরপর টাইব্রেকারের পরীক্ষায় হেরে যায় ইতালি। পিও এসপোসিতো মারেন বারের উপর দিয়ে, ক্রসবারে মেরেছেন ব্রায়ান ক্রিসতান্তে। বিপরীতে কোনো ভুল করেনি বসনিয়া-গার্জেগোভিনা।
বসনিয়া-হার্জেগোভিনা ও ৪০ বছর বয়সী অধিনায়ক এডিন জেকোর জন্য এটা ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ। ২০১৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার গৌরব অর্জন করে দেশটি। আগামী গ্রীষ্মের আসরে তারা ‘বি’ গ্রুপে খেলবে কানাডা, কাতার ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে।
ইতালির ফুটবলে এখন রাজ্যের বিষাদ নেমে এসেছে। দলটির কোচ জেনারো গাত্তুসোর চোখে জল। তিনি অবশ্য নিজের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবছেন না। ইতালি ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েলে গ্রাভিনা কোচ গাত্তুসোকে থাকার জন্য বলেছেনও। বিদায়ের কষ্ট নিয়ে গাত্তুসো বলেন, ‘এটা ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে। কেননা এটা আমাদের জন্য, ইতালির জন্য আর আমাদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল। লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন হলে আমি আমার জীবনের কিছু অংশ, টাকাও দিতে রাজি ছিলাম।’
গ্রাভিনা বলেছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। তবে এটা স্বীকার করেছেন, ইতালির ফুটবল এখন গভীর সংকটে।
দলটির উইঙ্গার লিওনার্দো স্পিনাৎজোলা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেছেন, ‘ইতালির শিশুদের আরেকটি বিশ্বকাপ কাটবে ইতালিকে ছাড়া। আমার এখনো বিশ্বকাপ হচ্ছে না যে আমরা এভাবে বিদায় নেব, এমনকি ১০ জন নিয়ে খেলেও। পেনাল্টিতে আমরা আরো তিন-চারটি গোল পেতে পারতাম। এটা সত্যিই বড় হতাশার।’
১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে বিশ্বকাপ জয় করে ইতালি। এর বাইরে ১৯৭০ ও ১৯৯৪ সালের আসরে তারা রানার্সআপ হয়। বিশ্বকাপের অন্যতম সফলতম এ দলটি এবার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাঠে অনুষ্ঠেয় আসরে দর্শক হয়ে থাকবে, যেমনটি ছিল তারা রাশিয়া ও কাতারেও।
মঙ্গলবার রাতে পোল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়ে সুইডেন, কসোভোকে ১-০ গোলে হারিয়ে তুরস্ক ও ডেনমার্ককে টাইব্রেকারে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে উঠে যায় চেক রিপাবলিক। এছাড়া মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হয় দুটি অন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ। বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইরাক ও জ্যামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ডিআর কঙ্গো উঠেছে বিশ্বকাপে। কঙ্গো ৫২ বছর পর বিশ্বকাপ খেলবে, আর ইরান বিশ্বকাপে যাচ্ছে ৪০ বছর পর। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোয় প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেছে ইরাক। এবার সেই মেক্সিকোতেই প্লে-অফে সাফল্য পেল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। কঙ্গোও দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলবে, যারা ১৯৭৪ সালে প্রথমবার বৈশ্বিক আসরে খেলেছে।


