
আবারো হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের
মার্চ ২৮, ২০২৬জ্বালানি তেলের দাম ২০০ ডলার ধরে ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলগত প্রস্তুতি
মার্চ ২৮, ২০২৬নেপালের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ও ৪৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন র্যাপার থেকে রাজনীতিতে আসা বালেন্দ্র শাহ।
রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠা ও কর্মসংস্থান তৈরির মতো বড় চ্যালেঞ্জ নিয়েই দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ৩৫ বছর বয়সী এ রাজনীতিবিদ। দেশটির প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল গতকাল দুপুরে তাকে শপথ পাঠ করান।
প্রেসিডেন্ট ভবনে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশী-বিদেশী কূটনীতিক ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। শপথের সময় বালেন্দ্র শাহের পরনে ছিল আঁটসাঁট ট্রাউজার্স ও জ্যাকেট, মাথায় কালো নেপালি টুপি এবং চোখে সানগ্লাস; যা তার স্বতন্ত্র স্টাইলকেই সামনে নিয়ে আসে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটে দীর্ঘদিন ধরে ভুগতে থাকা নেপালের জন্য বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্ব নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। রাজনৈতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন তার সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিয়ে তাই ১৪ সদস্যের একটি ছোট মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। নতুন সরকারে অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হার্ভার্ডশিক্ষিত অর্থনীতিবিদ স্বর্ণিম ওয়াগলে।
বালেন্দ্র শাহের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ৫ মার্চের নির্বাচনে ২৭৫ সদস্যের সংসদে ১৮২টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। দুর্নীতিবিরোধী জেন-জি আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।
রাজধানী কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র, বালেন্দ্র শাহ নেপালের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে মাধেসি নৃগোষ্ঠী থেকে উঠে আসা প্রথম নেতা হিসেবে দেশটির শীর্ষ পদে বসলেন তিনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হচ্ছে দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সময়কার সহিংসতার তদন্ত বাস্তবায়ন করাও তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
তিন কোটি মানুষের দেশ নেপালে বেকারত্ব ও দুর্নীতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। বর্তমানে দেশের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। চরম দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের সংকট এবং বিদেশমুখী জনশক্তি—সব মিলিয়ে কঠিন বাস্তবতায় দায়িত্ব নিয়েছেন বালেন্দ্র শাহ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ও চীনের মাঝে অবস্থিত নেপালে দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন কিছু নয়। ১৯৯০ সালের পর থেকে ৩২টি সরকার গঠিত হলেও কোনো সরকারই পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করতে পারেনি। সেই বাস্তবতায় বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে নতুন সরকার কতটা স্থিতিশীলতা আনতে পারে, সেদিকেই এখন নজর সবার।
এদিকে নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে প্রতিবেশী ভারত ও চীন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরদার করার আশা প্রকাশ করেছেন। চীনও নেপালের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে।


