রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ে নিয়োগ পেলেন পিআইডির দুই কর্মকর্তা
মার্চ ২৬, ২০২৬
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ
মার্চ ২৬, ২০২৬
রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ে নিয়োগ পেলেন পিআইডির দুই কর্মকর্তা
মার্চ ২৬, ২০২৬
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ
মার্চ ২৬, ২০২৬

জ্বালানি তেল মজুদ করে লাভ নেই দাম বাড়বে না

জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ফলে পেট্রল পাম্পের মালিকসহ কেউ তেল মজুদ করে লাভবান হতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি) ডা. জাহেদ উর রহমান।

গতকাল সচিবালয়ে সরকারের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘‌আমি পাম্প মালিকদের উদ্দেশে বলতে চাই, মজুদ করার যদি প্রবণতা কারো থাকে, তারা মনে করছেন যেকোনো মুহূর্তে দাম বেড়ে যাবে। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না। সুতরাং এ মজুদ করে রাখার প্রবণতা তাদের জন্য লাভজনক হবে না।’

তিনি বলেন, ‘‌বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে অল্প সময়ের মধ্যে আমরা একটি বৈশ্বিক সংকটে পড়েছি, এমনকি ধনী দেশগুলোও এ চাপের মধ্যে রয়েছে।’

আতঙ্কে বেশি করে জ্বালানি কেনা ও মজুদের প্রবণতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন সবার দায়িত্ব মানুষকে বোঝানো—প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটা যেন না করা হয়। পাম্প পর্যায়ে কেউ কেউ মজুদ করার চেষ্টা করছেন, সরকার সেগুলো নজরে রাখছে।’

জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘‌যদি একদিন সকালে সবাই ব্যাংকে গিয়ে একসঙ্গে সব টাকা তুলতে চান, তাহলে ব্যাংক ধসে পড়বে। কারণ ব্যাংক ধরে নেয়, সবাই একসঙ্গে টাকা তুলবে না। একইভাবে জ্বালানির ক্ষেত্রেও সরকার নির্দিষ্ট পরিমাণ মজুদ ও সরবরাহ চেইন বজায় রাখে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌প্যানিক বায়িংয়ের বিষয়টি বাস্তব। আমরা যুদ্ধের খবর শুনছি, পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে অনেকেই শুধু ট্যাংক ফুল করছেন না, অতিরিক্ত মজুদ করার চেষ্টাও করছেন।’

ঈদের আগে জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘‌যে পরিমাণ তেল কয়েক দিন চলার কথা ছিল, তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এটা মূলত সরকারের অব্যবস্থাপনা নয়, বরং মানুষের ভীতি ও অসচেতনতার ফল।’

তবে এ আতঙ্ককে অস্বীকার না করে তিনি বলেন, ‘‌বিশেষ করে বাইক রাইডারদের মতো যাদের জীবিকা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের উদ্বেগটা বাস্তব। কিন্তু সবাই মিলে সচেতন না হলে এ পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হবে।’

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘‌সরকার চাইলে অভ্যন্তরীণভাবে জ্বালানির দাম বাড়াতে পারত। আমরা এখন বেশি দামে জ্বালানি কিনছি।’

নতুন যে সরবরাহ আসবে, তার মূল্য আরো বেশি হবে। কিন্তু দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপের কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। এ অবস্থায় জ্বালানির দাম বাড়ালে মূল্যস্ফীতি আরো বেড়ে যেত।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌সেই কারণে সরকার এখনো দাম বাড়ানোর পথে যায়নি। আমরা মনে করি, এ পরিস্থিতিতে মানুষকে আরো সচেতন হওয়া প্রয়োজন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *