ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা তোলার পরও বিশ্ববাজারে কমেনি তেলের দাম
মার্চ ২২, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ঝুঁকিতে দক্ষিণ এশিয়ার ১০৭ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি প্রকল্প
মার্চ ২২, ২০২৬
ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা তোলার পরও বিশ্ববাজারে কমেনি তেলের দাম
মার্চ ২২, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ঝুঁকিতে দক্ষিণ এশিয়ার ১০৭ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি প্রকল্প
মার্চ ২২, ২০২৬

ঈদে বিদ্যুতের চাহিদা নেমেছে ৬ হাজার মেগাওয়াটে

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে দেশে অফিস-আদালতের পাশাপাশি শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা অনেকটা কমে গেছে। গতকাল বিকাল ৪টায় সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৬ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি।

এক সপ্তাহ আগে এ চাহিদা ছিল প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বিদ্যুতের চাহিদা নেমে এসেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশে। বিদ্যুতের চাহিদা কমায় গ্যাস ও জ্বালানি নিয়ে সাময়িক সময়ের জন্য স্বস্তিতে আছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গ্যাস। চলতি মৌসুমে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে অন্তত সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি বিদ্যুৎ সরবরাহ নেয় বিপিডিবি। বতর্মানে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকায় গ্যাসের ওপর চাপও অনেকটা কমেছে।

বিদ্যুতের ঘণ্টাপ্রতি উৎপাদন থেকে দেখা গেছে, গতকাল বিকাল ৪টায় বিদ্যুতের সরবরাহ ছিল ৬ হাজার ৩৯ মেগাওয়াট। সেখানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ৩১৯ মেগাওয়াট। ফার্নেস অয়েল বা তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ব্যবহার করেনি বিপিডিবি। অন্যদিকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সরবরাহ দেড় হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে। গতকাল দুপুর ১২টার পর থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সরবরাহ ছিল ১ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াটের আশপাশে।

বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাওয়ায় ভারত থেকে আমদানি বিদ্যুতের সরবরাহ কমিয়ে আনা হয়েছে। আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সাধারণ সময়ে দিনে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট সরবরাহ নেয় বিপিডিবি। চলমান ছুটিতে তা কামিয়ে সাড়ে ৮০০ মেগাওয়াট করা হয়েছে। এছাড়া ভারত থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় বিদ্যুতের সরবরাহও সাময়িক সময়ের জন্য কমিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে ভেড়ামারা এইচএসভিডিসি সেন্টারের মাধ্যমে যেখানে ছুটির আগে দৈনিক ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ নেয়া হতো, সেখানে গতকাল বিকাল ৫টা পর্যন্ত সরবরাহ নেয়া হয়েছে ২৩৫ মেগাওয়াটের কিছু বেশি। অন্যদিকে ভারতের ত্রিপুরা থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি চুক্তির আওতায় গতকাল সরবরাহ নেয়া হয়েছে ৪০-৪৫ মেগাওয়াট।

বিপিডিবির প্রাক্কলন অনুযায়ী, দেশে গতকাল দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। আর রাতের বেলায় এ চাহিদা দেখানো হয় ৯ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। গতকাল বিকাল ৫টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সরবরাহ ছিল ৬ হাজার ১৬৩ মেগাওয়াট।

বতর্মানে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক হারে কমে যাওয়ার পেছনে ঈদের ছুটির পাশাপাশি বৃষ্টিকেও অন্যতম কারণ বলছেন বিদ্যুৎ বিভাগসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা জানান, তাপমাত্রার পারদ চড়লে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) যন্ত্রের ব্যবহার বেশি হয়। যেখানে বিদ্যুতের বড় চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে বৃষ্টির কারণে সারা দেশে গরমের তীব্রতা কমে আসায় এসির ব্যবহার কম হচ্ছে। যে কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও কমেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *