গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে জাতীয় ঈদগাহে মুসল্লির ঢল
মার্চ ২১, ২০২৬
ইরানের হামলায় এলএনজি খাতে বছরে ২০ বিলিয়ন ডলারের আয় হারাবে কাতার
মার্চ ২১, ২০২৬
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে জাতীয় ঈদগাহে মুসল্লির ঢল
মার্চ ২১, ২০২৬
ইরানের হামলায় এলএনজি খাতে বছরে ২০ বিলিয়ন ডলারের আয় হারাবে কাতার
মার্চ ২১, ২০২৬

এলএনজি সরবরাহে চুক্তির বাধ্যবাধকতা থেকে দায়মুক্তি চেয়েছে কাতার

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ কারণে এলএনজি সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিগুলোয় সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ‘ফোর্স মাজর’ [দৈব বা অনিবার্য কারণবশত চুক্তি পালনের (সরবরাহ) বাধ্যবাধকতা থেকে দায়মুক্তি] ঘোষণা করতে হবে বলে জানিয়েছে কাতার সরকার। এরই মধ্যে ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাতারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ও কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাদ আল-কাবি। বাংলাদেশের জন্য ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত কাতারএনার্জির ফোর্স মাজর ঘোষণা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে দ্বিতীয় দফায় রাস লাফান সিটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এ ঘোষণার সময়সীমা আরো বাড়বে কিনা সে বিষয়ে আপাতত কিছু জানাতে পারেননি তারা।

ফোর্স মাজর—ফরাসি শব্দগুচ্ছ। এর মাধ্যমে কোনো চুক্তিতে এমন একটি ধারাকে বোঝায়, যেখানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনো ঘটনার কারণে চুক্তি পালনের বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। অর্থাৎ অপ্রত্যাশিত ও অনিবার্য পরিস্থিতি, যেমন যুদ্ধ, মহামারী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা কোনো পক্ষকে চুক্তির শর্ত পূরণ করতে অসমর্থ করে তোলে। এর মাধ্যমে কোনো দায়ভার ছাড়াই চুক্তির বাধ্যবাধকতা থেকে সাময়িক দায়মুক্তি বা চুক্তি বাতিল করা যায়।

বাংলাদেশের সঙ্গে কাতারএনার্জির ১৫ বছরমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তি রয়েছে। ২০১৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর পেট্রোবাংলার সঙ্গে চুক্তি সই করে কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি। এরপর ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে এলএনজি কার্গো সরবরাহ শুরু করে কাতার। এ চুক্তির আওতায় চলতি অর্থবছরেও ৪০ কার্গো এলএনজি সরবরাহ করার কথা রয়েছে কাতারএনার্জির। তবে কাতারের এলএনজি স্থাপনায় ইরানের হামলার পর দেশটি থেকে এলএনজি আমদানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফোর্স মাজর ঘোষণার ফলে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত কোনো কার্গো সরবরাহ করতে পারবে না বলে আগেই বাংলাদেশকে জানিয়েছে কাতারএনার্জি। তবে দ্বিতীয় দফায় বুধবার রাতে কাতারএনার্জির এলএনজি অবকাঠামোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ফলে বিভিন্ন দেশেই এলএনজি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাতারের এলএনজি সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিগুলোতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ফোর্স মাজর ঘোষণার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘোষণা আসতে পারে কিনা সেই বিষয়ে এখনো কাতারের পক্ষ থেকে কিছু জানতে পারেননি পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে এলএনজি সরবরাহ পেতে সার্বক্ষণিক কাতারএনার্জির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এলএনজি আমদানিতে কাতারএনার্জি বাংলাদেশের জন্য ফোর্স মাজর ঘোষণা করেছে এপ্রিলের ১৮ তারিখ পর্যন্ত। এরপর আমাদের পরবর্তী কার্গো এপ্রিলের ২৫ তারিখ সরবরাহ দেয়ার শিডিউল রয়েছে। এখন আমরা এপ্রিলের কার্গো পাওয়ার জন্য যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। যেহেতু আজকে (গতকাল) কাতারে ঈদ হচ্ছে, তাই যোগাযোগ করিনি। তাদের সঙ্গে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে।’

দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তিতে বিভিন্ন দেশের জন্য কাতারএনার্জি ফোর্স মাজর ঘোষণা করছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত কী— জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার শীর্ষ এ নির্বাহী বলেন, ‘কাতারের কাছ থেকে আমরা নতুন কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।’

কাতারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ও কাতারএনার্জির সিইও সাদ আল-কাবি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত দুটি এলএনজি ট্রেনের কারণে ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের জন্য নির্ধারিত দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত কাতারএনার্জিকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ‘ফোর্স মাজর’ ঘোষণা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এগুলো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি, তাই আমাদের ফোর্স মাজর ঘোষণা করতে হচ্ছে। আমরা এরই মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য ঘোষণা করেছিলাম, কিন্তু এখন এটি ক্ষয়ক্ষতির সময়কাল অনুযায়ী চলবে।’

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আঘাতে রাস লাফান সিটির বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছেন কাতার সরকারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাস লাফান সিটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এলএনজি সক্ষমতার ১৭% ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কাতার সরকারের বছরে আনুমানিক ২০ বিলিয়ন ডলারের আয় কমে যাবে। যেসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *