সিটি ব্যাংকের ৩৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন
মার্চ ১৯, ২০২৬
কাতারের এলএনজি স্থাপনায় আবার হামলা হলে ইরানের পুরো গ্যাসক্ষেত্র উড়িয়ে দেব: ট্রাম্প
মার্চ ১৯, ২০২৬
সিটি ব্যাংকের ৩৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন
মার্চ ১৯, ২০২৬
কাতারের এলএনজি স্থাপনায় আবার হামলা হলে ইরানের পুরো গ্যাসক্ষেত্র উড়িয়ে দেব: ট্রাম্প
মার্চ ১৯, ২০২৬

পশ্চিম এশিয়ায় জ্বালানি তেল রফতানি কমেছে ৬০ শতাংশ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সৃষ্ট যুদ্ধের প্রভাবে পশ্চিম এশিয়ায় জ্বালানি তেল রফতানি ও উত্তোলনে বড় ধরনের পতন হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চের মাঝামাঝি সময়ে এ অঞ্চল থেকে জ্বালানি তেল রফতানি অন্তত ৬০ শতাংশ কমেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং প্রধান বন্দরগুলোয় হামলার আশঙ্কায় শীর্ষ রফতানিকারক দেশগুলো জ্বালানি তেল উত্তোলন কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।

শিপিং ডেটা ও রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার আটটি প্রধান দেশ সৌদি আরব, কুয়েত, ইরান, ইরাক, ওমান, কাতার, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে জ্বালানি তেল রফতানিতে বড় বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে এ দেশগুলো থেকে জ্বালানি পণ্যটির দৈনিক গড় রফতানি ছিল ২ কোটি ৫১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল। ১৫ মার্চ পর্যন্ত সপ্তাহে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯৭ লাখ ১০ হাজার ব্যারেলে। অর্থাৎ রফতানি কমেছে প্রায় ৬১ শতাংশ। পশ্চিম এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশগুলো জ্বালানি তেলের প্রধান উৎস হওয়ায় এ অঞ্চলের সরবরাহ ঘাটতি সরাসরি এশিয়ার বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

রফতানি করতে না পারা এবং মজুদ করার জায়গা ফুরিয়ে আসায় দেশগুলো জ্বালানি তেল উত্তোলন কমিয়ে দিচ্ছে। ইরাকে জ্বালানি তেল উত্তোলন ৭০ শতাংশ এবং সৌদি আরবে ২০ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উত্তোলন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। বর্তমানে এ অঞ্চলে দৈনিক ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট সমুদ্রবাহিত জ্বালানি তেল রফতানির ৩৬ শতাংশই আসত পশ্চিম এশিয়ার এ দেশগুলো থেকে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সাগরে ভাসমান ট্যাংকারগুলোতে জ্বালানি তেল জমার পরিমাণ ৫ কোটি ব্যারেল ছাড়িয়েছে। যুদ্ধের আগে এ পরিমাণ ছিল মাত্র ১ কোটি ব্যারেল। ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজিরাহ বন্দরে ড্রোন হামলার কারণে সেখান থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ বারবার ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর এবং ওমানের মাধ্যমে অত্যন্ত সীমিত আকারে কিছু জ্বালানি তেল রফতানি সচল রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের এ সংকট এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ সরবরাহ বিপর্যয়। যদি দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া না হয়, তবে পশ্চিম এশিয়ার এ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিকে এক দীর্ঘস্থায়ী মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে। এমনকি সংঘাত থামলেও জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা আগের অবস্থায় ফিরতে কয়েক মাস সময় লেগে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *