
ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান লারিজানি ও বাসিজ ফোর্সের প্রধানকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের
মার্চ ১৮, ২০২৬
হরমুজ এখন বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল জলপথ, ঝুঁকি প্রিমিয়াম বেড়েছে ৩০০ শতাংশ
মার্চ ১৮, ২০২৬আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় হাসপাতালে বিমান হামলার অভিযোগ করেছে আফগান সরকার।
তালেবান সরকার দাবি করেছে, সোমবার রাতে পাকিস্তানের ওই হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছে। তবে পাকিস্তান এ অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা কেবল সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
আফগান সরকারের মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, স্থানীয় সময় সোমবার রাত ৯টার দিকে কাবুলের ওমর অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। প্রায় দুই হাজার শয্যার এ হাসপাতালের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, ‘এখন পর্যন্ত ৪০০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা প্রায় ২৫০। উদ্ধারকাজ চলছে।’
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন দমকল কর্মীরা। অনেক স্থানে ভবনের কাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। খবর আল জাজিরা। হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী ৩১ বছর বয়সী ওমিদ স্টানিকজাই বলেন, হামলার আগে আকাশে যুদ্ধবিমান টহল দিতে দেখেন তিনি। তার বর্ণনায়, চারপাশে সামরিক ইউনিট ছিল। তারা যখন বিমানকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়, তখনই বিমান থেকে বোমা ফেলা হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তিনি দাবি করেন, নিহত ও আহতদের সবাই বেসামরিক নাগরিক।
পাকিস্তান এ অভিযোগকে সরাসরি অস্বীকার করেছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, হামলাগুলো অত্যন্ত নির্ভুলভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং কেবল সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করেই আঘাত হানা হয়েছে। কাবুল ও নাঙ্গারহার প্রদেশে তালেবানসংশ্লিষ্ট অস্ত্রভাণ্ডার ও প্রযুক্তিগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি বলেন, ‘কোনো হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি। এ অভিযোগ জনমত বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে।’
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, আফগানিস্তানে অবস্থানরত পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে এবং এসব স্থাপনা সেই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এদিকে আফগান সরকারের আরেক মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এ হামলাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান আবারো আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে এবং একটি বেসামরিক চিকিৎসা কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এ হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই দুই দেশের সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। আফগান কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তবর্তী খোস্ত প্রদেশে পাকিস্তান থেকে ছোড়া মর্টারের আঘাতে চারজন নিহত হন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। এছাড়া অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে।
গত এক মাস আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠেছে। গত মাসে পাকিস্তান প্রথম দফায় বিমান হামলা চালানোর পর আফগানিস্তান তা তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে পাল্টাহামলা শুরু করে। এতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। গত অক্টোবরে কাতারের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তবে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে সেই চুক্তি কার্যত ভেঙে পড়েছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আফগানিস্তানকে সন্ত্রাস দমনে আরো সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা আফগানিস্তানে জাতিসংঘের রাজনৈতিক মিশন (ইউএনএএমএ) আরো তিন মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার তাদের ভূখণ্ডে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানসহ (টিটিপি) বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে হামলা চালায়। তবে কাবুল এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘এ সংঘাতের দ্রুত সমাধানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এখন নিজেদের সংকটে ব্যস্ত, ফলে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ কমে গেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘পাকিস্তান আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে যেতে পারে এবং তালেবানও পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এতে সংঘাত আরো বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে।’
এদিকে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেছেন, দেশটির সেনাবাহিনী এরই মধ্যে ৬৮৪ জন আফগান তালেবান যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। তবে আফগান সরকার এ তথ্য প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, নিহতের সংখ্যা অনেক কম। আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তারা পাল্টাহামলায় ১০০-এর বেশি পাকিস্তানি সেনাসদস্যকে হত্যা করেছে।
সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দ্রুত বাড়ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, এ সহিংসতার কারণে আফগানিস্তানে অন্তত ২০ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং তাদের জন্য জরুরি খাদ্যসহায়তা প্রদান শুরু করা হয়েছে।


