বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা জারি ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমা ৪০ লাখে উন্নীত, সর্বোচ্চ সুদ ২৫ শতাংশ
মার্চ ১৬, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহী নয় কোনো পক্ষই
মার্চ ১৬, ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা জারি ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমা ৪০ লাখে উন্নীত, সর্বোচ্চ সুদ ২৫ শতাংশ
মার্চ ১৬, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহী নয় কোনো পক্ষই
মার্চ ১৬, ২০২৬

পাকিস্তানকে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে হারিয়ে দিল বাংলাদেশ। গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ১১ রানের জয় পায় স্বাগতিকরা।

আগে ব্যাটিংয়ে নেমে তানজিদ হাসান তামিমের প্রথম সেঞ্চুরিতে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৯০ রান তোলে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। জবাবে সালমান আগার সেঞ্চুরির পরও পাকিস্তান ২৭৯ রানে গুটিয়ে যায়।

এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে ঢাকায় তিন ম্যাচের সিরিজে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল টাইগাররা। ১১ বছর পর বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নেমে এবার পাকিস্তানিরা হারল ২-১-এ। এর আগে অবশ্য টানা পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে হারায় তারা।

ওয়ানডে সিরিজের মীমাংসা হলো তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে। আরো সুনির্দিষ্ট করে বললে শেষ ওভারে। ২৯১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৮২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের আশা প্রায় শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানের। এরপর মৃতপ্রায় আশা বাঁচিয়ে তোলেন সালমান আগা। তার লড়াকু সেঞ্চুরিতে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যায় দলটি। শেষ ওভারে ১ উইকেট হাতে নিয়ে অতিথিদের প্রয়োজন পড়ে ১৪ রান। চোখ রাঙাচ্ছিলেন অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। যদিও স্নায়ু শক্ত রেখে স্পিনার রিশাদ হোসেন দিলেন মাত্র ২ রান। তার বীরত্বে ১১ রানের জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করল বাংলাদেশ।

মিরপুরের সবুজ গালিচায় তামিম বনাম সালমানের লড়াইয়ে জয় হলো প্রথমজনের। নিজের ৩১তম ওয়ানডে ম্যাচে এসে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তামিম। এটা চলতি সিরিজে কোনো ব্যাটারের প্রথম সেঞ্চুরি। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের অষ্টম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। সপ্তম বাংলাদেশী হিসেবে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন অংক ছুঁয়েছেন তিনি।

ওপেন করতে নেমে ১০৭ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ৭ ছক্কায় ১০৭ রানের রাজসিক ইনিংস খেলেন তামিম। এর আগে ওয়ানডেতে পাঁচটি ফিফটি করেছিলেন এ বাঁহাতি ব্যাটার, সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ৮৪ রানের। গতকাল পেলেন প্রথম সেঞ্চুরির দেখা।

এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জার্সিতে সেঞ্চুরি করেছেন তামিম ইকবাল (২টি), সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, নাসির হোসেন ও এনামুল হক। সর্বোচ্চ ১৩২ রানের ইনিংস খেলেছেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশী ব্যাটারদের করা সব সেঞ্চুরিই এসেছে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে।

চলতি সিরিজে এটাই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এবং এ পিচেই প্রথম ম্যাচে ১১৪ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসান মিলে ওপেনিং জুটিতে ১০৫ রান তোলার পর বড় স্কোরের ভিতটা তৈরি হয়ে যায় বাংলাদেশের। ৫৫ বলে ৩৬ রান করে আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে যান সাইফ। এরপর তানজিদের সঙ্গে ফিফটি রানের জুটি গড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজন ৬৭ বলে ৫৩ রান যোগ করেন বোর্ডে। লিটন দাসকে নিয়ে ৪২ বলে ৩৬ রান যোগ করেন তানজিদ। এ পথে তিনি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করেন।

মাত্র ৪৭ বলে ফিফটি করেন তামিম। পরের ফিফটি করতে খেলেছেন ৫১ বল। সব মিলিয়ে ৯৮ বলে তিন অংক ছুঁয়েছেন। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। আবরার আহমেদের খাটো লেংথের বলে কাট করতে গিয়ে কাভারে আফ্রিদির হাতে ধরা পড়েন তিনি।

তামিমের বিদায়ের পর লিটন ও তাওহীদ হৃদয় ৬১ বলে ৬৮ রানের জুটিতে দলের সংগ্রহ আড়াইশ পার করান। পরে আফিফ হোসেন ও তাওহীদ হৃদয়ের ২০ বলে ২৮ রানের জুটিতে বাংলাদেশ পেয়ে যায় ২৯০ রানের পুঁজি। ৪৪ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন তাওহীদ, আফিফ করেন ৫ রান। লিটন দাস ৫১ বলে ৪১, সাইফ হাসান ৫৫ বলে ৩৬ ও শান্ত ৩৪ বলে ২৭ রান করেন।

এরপর ৯৮ বলে ৯ চার ও ৪ ছক্কায় ১০৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেও সালমান আগা ছিলেন পরাজিত দলে। ৫ উইকেট পতনের পর ষষ্ঠ উইকেটে সাদ মাসুদকে নিয়ে ৮২ বলে ৭৯, সপ্তম উইকেটে ফাহিম আশরাফকে নিয়ে ৪৯ বলে ৪৮ ও অষ্টম উইকেটে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে নিয়ে ৪৯ বলে ৫২ রান যোগ করে শেষ পর্যন্ত জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখেন সালমান। যদিও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়া হয়নি তাদের।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন:

জমজমাট লড়াইয়ে পাকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নেয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সাহসী তরুণেরা পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ১১ রানের জয়ে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতে প্রমাণ করেছে, ঐকান্তিক এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা থাকলে জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব। বাংলাদেশে ক্রিকেট দলের নজরকাড়া পারফরম্যান্স বাংলাদেশকে গর্বিত করেছে। আমি আশা করি, আমাদের তরুণদের এই সাফল্য জয়যাত্রা অব্যাহত থাকবে।’

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৯০/৫ (তানজিদ ১০৭, হৃদয় ৪৮, লিটন ৪১; হারিস ৩/৫২)। পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৭৯/১০ (সালমান ১০৬, সাদ মাসুদ ৩৮, শাহিন ৩৭; তাসকিন ৪/৪৯, মুস্তাফিজুর ৩/৫৪, নাহিদ ২/৬২)। ফল: বাংলাদেশ ১১ রানে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ ও প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ: তানজিদ হাসান (বাংলাদেশ)। সিরিজ: বাংলাদেশ ২-১-এ জয়ী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *