
উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ সিঙ্গাপুর নেয়া হবে মির্জা আব্বাসকে
মার্চ ১৫, ২০২৬
সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্ব চলছে, থাকছে জুলাই সনদের ওপর আলোচনা
মার্চ ১৫, ২০২৬ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ বন্ধ রেখেছেন ফিলিং স্টেশন (পাম্প) ও ট্যাংক-লরি মালিকরা। খুলনা অঞ্চল ও আশপাশের মোট ১৫টি জেলার পাম্পগুলোয় জ্বালানি তেল সংগ্রহ না করার কথা জানা গেছে।
মূলত সরকারি ডিপো থেকে পাম্প মালিকরা চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছেন না। এতে গ্রাহক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় তেল বিক্রি করতে পারছেন না। সে কারণেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাম্প ও ট্যাংক-লরি মালিক সমিতির নেতারা।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে ডিপোগুলো থেকে চাহিদার অর্ধেকেরও কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কোনো পাম্পে ১০ হাজার লিটারের চাহিদা থাকলে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র দুই হাজার লিটার। তাদের অভিযোগ, যেসব উপজেলা পর্যায়ে পাম্প নেই এবং ব্যারেলের মাধ্যমে তেল বিক্রি করা হয়, সেসব এজেন্টকেও তেল দেয়া হচ্ছে না। বারবার জানানোর পরও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তেল সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছেন পাম্প মালিকরা। কেন্দ্রীয়ভাবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।
খুলনা বিভাগীয় জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শেখ মুরাদ হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অল্প তেল সরবরাহের কারণে পাম্পের মালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে গ্রাহকদের প্রায়ই অসন্তোষের ঘটনা ঘটছে। আবার পেট্রল দিলে অকটেন দেয়া হচ্ছে না, অকটেন দিলে ডিজেল দেয়া হচ্ছে না। এতে পাম্পের মালিকরা নানা ধরনের ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন। এ সময়ে চাহিদামতো তেল সরবরাহ করা না গেলে চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকরা সংকটে পড়বেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা জানি তেলের একটি সংকট চলছে। আবার সরকার বলছে মজুদ যথেষ্ট। আমরা পুরো চাহিদা চাইছি না, কিন্তু চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ তেল পেলে পাম্প চালানো সম্ভব নয়। বিষয়টি ডিপো ব্যবস্থাপকদের বারবার জানানো হলেও সমাধান না হওয়ায় তেল উত্তোলন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে। তবে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ শুরু হলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে।’
এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি খুলনার ব্যবস্থাপকরা (বিক্রয়) নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতিতে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ছুটির দিনেও ডিপো থেকে তেল দেয়া হচ্ছে। কিন্তু ডিপোতে রেশনিং পদ্ধতি চালু থাকায় পেট্রল পাম্প মালিকদের চাহিদামতো তেল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
রেশনিং পদ্ধতির ব্যাখ্যা দিয়ে ওই কর্মকর্তারা বলেন, এ পদ্ধতিতে কেউ যদি আজ অকটেন পান, তাকে পেট্রল ও ডিজেল দেয়া হবে না। আবার যিনি পেট্রল পাবেন, তিনি অকটেন পাবেন না। সবাইকে চাহিদার অনুপাতে এক-তৃতীয়াংশ তেল দেয়া হচ্ছে।
এদিকে রাজশাহীতেও জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় আগামীকাল থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাজশাহী জেলা পেট্রল পাম্প মালিক সমিতি। গতকাল দুপুরে নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ হুঁশিয়ারি দেন।
পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির নেতারা বলেন, একদিকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘাটতি রয়েছে, অন্যদিকে পাম্পগুলোতে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা ইস্যুতে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।
নেতারা জানান, আজকে পর্যন্ত সরবরাহকৃত তেল বিতরণ করা হবে। এরপর যেকোনো সময় তেল উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হতে পারে। বর্তমানে খুলনা হয়ে বাঘাবাড়ী ডিপোর মাধ্যমে রাজশাহীতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ৭৫ শতাংশ তেল সরবরাহের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা মিলছে না। বিভিন্ন এজেন্সিতে ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।
তারা আরো বলেন, আজকের মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি পূরণ না হলে জেলার ৫০টি পাম্প ও ১০টি এজেন্সি ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখবে। একই সঙ্গে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেয়া হবে বলেও জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে পেট্রল পাম্প মালিকদের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে তেলের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে নিশ্চিত করা না হলে আগামীকাল থেকে রাজশাহী জেলার সব ফিলিং স্টেশন ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখা হবে।
সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নিরাপত্তা ও তেল মজুদ থাকার সাপেক্ষে পেট্রল ও অকটেন বিক্রি করা হবে। ডিজেল মজুদ থাকা সাপেক্ষে দিন-রাত বিক্রি করা হবে। পাম্পগুলোর চাহিদা অনুযায়ী প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষিকাজের সুবিধার্থে এজেন্সি পয়েন্টের মাধ্যমে তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখতে হবে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমায় দেশে তেল নিয়ে আতঙ্কে স্বাভাবিক চাহিদার চেয়ে দ্বিগুণ হারে তেল কেনা শুরু হয়। এ প্রবণতা ঠেকাতে তেল কেনায় সীমা বেঁধে দেয়া হয়। ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ কমানো হয়। এর পর থেকে ফিলিং স্টেশনে ব্যাপকভাবে ভিড় করছে মানুষ। সরবরাহ বাড়ানোর দাবি তুলতে শুরু করেছে ফিলিং স্টেশন। এমন পরিস্থিতিতে তেল কেনার সীমা তুলে নিচ্ছে সরকার।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় গতকাল সন্ধ্যার পর জরুরি বৈঠক করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ সকালে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার কথা। জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, মজুদ রেখেই সরকার সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়াতে ফিলিং স্টেশন ও পরিবহন মালিকরা চাপ দিচ্ছেন। ঈদযাত্রায় মানুষের ভোগান্তি ঠেকাতে তেল বিক্রির সীমা তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।


