ফাল্গুনের ঝড়-বৃষ্টিতে উত্তরের দুই জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ফসল
মার্চ ১৫, ২০২৬
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল পাঁচজনের
মার্চ ১৫, ২০২৬
ফাল্গুনের ঝড়-বৃষ্টিতে উত্তরের দুই জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ফসল
মার্চ ১৫, ২০২৬
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল পাঁচজনের
মার্চ ১৫, ২০২৬

সাগর থেকে ভেসে এল বিরল প্রজাতির গাঙচিল

বঙ্গোপসাগর থেকে সুন্দরবনসংলগ্ন বলেশ্বর নদীতে ভেসে এসেছে বিরল প্রজাতির একটি কালো মাথার গাঙচিল।

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নদীতে মাছ ধরার সময় জেলে কাঞ্চন আলী হাওলাদার ভাসতে থাকা পাখিটি উদ্ধার করেন। পাখিটি সাধারণত সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় পাওয়া যায়। শীতকালে এদের শরীর পালকে সমৃদ্ধ থাকে।

জেলে কাঞ্চন আলী হাওলাদার বলেন, ‘হঠাৎ একটি গাঙচিল ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে তীরের দিকে চলে আসছিল। পাখিটি বারবার ডানা ঝাপটাচ্ছিল, কিন্তু উড়তে পারছিল না। পাখিটি অসুস্থ বা দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে পাখিটিকে উদ্ধার করা হয়।’

সংবাদকর্মী শাহীন হাওলাদার বলেন, ‘জেলে কাঞ্চন আলী হাওলাদার আমাকে ফোন করে জানান, নদীতে একটি অসুস্থ গাঙচিল পাওয়া গেছে। গিয়ে দেখি পাখিটি খুব দুর্বল অবস্থায় আছে এবং উড়তে পারছে না। পরে এটিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। এখন পাখিটি আমার হেফাজতে রয়েছে। নিয়মিত চিকিৎসা চলছে। আশা করছি দ্রুতই এটি সুস্থ হয়ে উঠবে।’

শরণখোলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আল মামুন জুয়েল বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে, পাখিটি শারীরিকভাবে খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে। সম্ভবত ফুসফুসজনিত সমস্যার কারণে উড়তে পারছিল না। আমরা প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা দিয়েছি। আপাতত এটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হলে বন বিভাগের মাধ্যমে এটিকে আবার প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পরিযায়ী পাখি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আমাদের দেশে আসে। অনেক সময় প্রতিকূল আবহাওয়া, খাদ্যের অভাব বা অসুস্থতার কারণে তারা দুর্বল হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় স্থানীয় মানুষ যদি সচেতনভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে এসব প্রাণীকে রক্ষা করা সম্ভব।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, কালো মাথার গাঙচিল সাধারণত এশিয়া ও ইউরোপের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাস করে। শীত মৌসুমে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এরা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *