কাতারে আটকে পড়া বাংলাদেশীদের ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইটের উদ্যোগ
মার্চ ১১, ২০২৬
শেরপুরে শিশুদের চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও রচনা প্রতিযোগিতা
মার্চ ১২, ২০২৬
কাতারে আটকে পড়া বাংলাদেশীদের ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইটের উদ্যোগ
মার্চ ১১, ২০২৬
শেরপুরে শিশুদের চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও রচনা প্রতিযোগিতা
মার্চ ১২, ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে শুরু হচ্ছে। অধিবেশনের শুরুতে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি সংসদের স্পিকার নির্বাচনী সেশনে বক্তব্য দেয়ার জন্য একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যের নাম প্রস্তাব করবেন। সেই প্রস্তাব সংসদ সদস্যরা সমর্থন করলে ওই সংসদ সদস্য তখন স্পিকারের আসনে বসবেন এবং সেশন পরিচালনা করবেন। এক্ষেত্রে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সরকারি দল থেকে স্পিকার ও বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। স্পিকার নির্বাচনের পর ২০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হবে। ওই সময়ে নবনির্বাচিত স্পিকার শপথ নেবেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পাঠ করাবেন। শপথ নিয়েই স্পিকার অধিবেশন কক্ষে যাবেন এবং সেশন পরিচালনা করবেন। তিনি পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর নাম প্রস্তাব করবেন। পরে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।

শোক প্রস্তাবে গুরুত্ব পাচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের শহীদরা। তাদের ত্যাগ ও অবদান নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা শেষে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। প্রথম দিনেই বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হবে। ওই অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে গঠন করা হবে একটি বিশেষ কমিটি। যে কমিটির সুপারিশে সেগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ করা হবে। সর্বশেষ সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের পর অধিবেশন মুলতবি করা হবে। অবশ্য আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত এ রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।

এদিকে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলীয় সংসদ সদস্যদের ভূমিকা কী হবে তা নিয়ে গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা পৃথক বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে দলীয় প্রধানরা সংসদ সদস্যদের বিশেষ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি দলের সভায় স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সংসদ উপনেতা পদে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে স্পিকার পদে আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও সংসদ উপনেতা পদে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ বেশ কয়েকজনের নাম এসেছে। আলোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আর ডেপুটি স্পিকার পদের বিষয়ে বিরোধী দল থেকে নাম প্রস্তাব করা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

বিরোধীদলীয় সূত্রগুলো জানায়, বিদ্যমান সংবিধানে নির্ধারিত ডেপুটি স্পিকার পদের বিষয়ে সরকারি দলের দেয়া প্রস্তাব নিয়ে বিরোধী দলের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সেই সঙ্গে সরকারদলীয় সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। সেখানে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। জুলাই সনদে দুটি ডেপুটি স্পিকারের পদের উল্লেখ থাকলেও বিদ্যমান সংবিধানে একটি ডেপুটি স্পিকারের পদ রয়েছে। সেক্ষেত্রে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আগেই ডেপুটি স্পিকার পদে নাম প্রস্তাব করা হবে কিনা, সে বিষয়ে আজ অধিবেশনে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়েও বৈঠকে আপত্তি জানানোর প্রস্তাব এসেছে বলে জানা গেছে।

বৈঠক শেষে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈঠকে সংসদ বসবে, সেখানে আমাদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যেহেতু অধিকাংশ সংসদ সদস্য নতুন, সংসদের ক্রাইটেরিয়া, ক্যারেক্টারের বিষয়ে আমরা কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছি। রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিষয়ে আমাদের আপত্তি রয়েছে। আমরা মনে করি, রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেয়ার অধিকার নেই। সে স্বৈরাচারের দোসর। বিএনপি কেন যে তাকে দিয়ে ভাষণ দেয়াচ্ছে আমরা পরিষ্কার নই। ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে সংসদে প্রস্তাব এলে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’ অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদ কার্যকর করার দাবি তুলে ধরা হবে বলেও জানান তিনি।

সরকারি দলের সভা শেষে সংসদ ভবনের এলডি হলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানান, সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। ভবিষ্যতে এটি সংবিধানে যুক্ত হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় সেশনের শুরুতে একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হবে। এরপর সংসদ নেতার প্রস্তাবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে কাদের মনোনয়ন দেয়া হবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করেছেন, যা সংসদেই প্রকাশ করা হবে।

চিফ হুইপ বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও প্রতীক্ষার পর বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে নতুন সংসদের যাত্রা। এ অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিগত সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে পেশ করা হবে। এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি ‘বিশেষ কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ কমিটি নির্ধারণ করবে কোন অধ্যাদেশগুলো বহাল থাকবে আর কোনগুলো ল্যাপস (বাতিল) হয়ে যাবে। এছাড়া প্রথম দিনেই বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি ও বিশেষ কমিটিসহ অন্তত দুটি কমিটি গঠন করা হবে। সম্ভব হলে প্রিভিলেজ ও হাউজ কমিটিও করা হতে পারে। তিনি আরো বলেন, আমরা একটি কার্যকর, প্রাণবন্ত ও দায়বদ্ধ সংসদ উপহার দিতে চাই। জাতীয় সব সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে এ সংসদ। এখানে যুক্তিতর্ক হবে, গঠনমূলক সমালোচনা হবে। আমরা বিরোধী দলের কাছ থেকেও ইতিবাচক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদ অধিবেশনকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করেছে সংসদ সচিবালয়। সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বরাবরের মতো এবারো সংসদের প্রথম অধিবেশন দীর্ঘ হবে, যা আগামী এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এ সময়ে প্রধানত রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের দীর্ঘ আলোচনা হবে। আজ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় দুইদিনের জন্য অধিবেশন মুলতবি হবে। আগামী ১৫ মার্চ সংসদের মুলতবি বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন ও আলোচনা শুরু হবে। এরপর আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অধিবেশন ১৩ দিনের জন্য মুলতবি রাখা হতে পারে। ঈদের ছুটি শেষে আগামী ২৯ মার্চ পুনরায় সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নবনির্বাচিত স্পিকার প্রথম দিনেই বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতার অনুমোদন দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ওই সভার আগে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলোর বিজয়ী প্রার্থীরা। তবে জুলাই সনদের বিধান অনুযায়ী, তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। বিদ্যমান সংবিধানে এ-সংক্রান্ত বিধান না থাকায় তারা ওই শপথ নেননি বলে জানান। তবে সংসদে আলোচনার মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয় দলটি।

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপি মোট ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। আর প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই সংসদ নেতার আসনে বসবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিপরীতে বিরোধীদলীয় নেতার আসনে বসবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। স্বাধীনতার পর এ প্রথমবারের মতো দলটি সংসদের প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের আসনে বসবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য বিরোধী দলের ৭৭ জন বিজয়ী প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়েছেন।

দীর্ঘ দুই যুগ পর সংসদ শক্তিশালী বিরোধী দল পেয়েছে। ফলে অতীতের যেকোনো সংসদের থেকে এ সংসদ অনেক বেশি কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর সেটা হলে প্রশ্ন ও উত্তরপর্ব, পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয় থেকে শুরু করে ওয়াকআউট ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ভিন্ন মাত্রা দেখা যেতে পারে। এরই মধ্যে সংসদ সদস্যদের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ব্যবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে দুই দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে বিএনপি। ওই কর্মশালায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ ও এমপিদের সংসদীয় রীতিনীতি ও বিধি-বিধানের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা হয়।

এদিকে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে রাজধানীতে যানচলাচলে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিদেশী কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তি জাতীয় সংসদ ভবনে গমনাগমন করবেন। ওই অধিবেশন চলাকালীন উড়োজাহাজ মোড়, খেজুর বাগান, মানিক মিয়া এভিনিউ, আসাদগেট ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘর (গণভবন) ক্রসিং দিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সংখ্যক যানবাহন চলাচল করবে। এর ফলে সৃষ্ট সাময়িক অসুবিধা নিরসনকল্পে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ডাইভারশনের মাধ্যমে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে।

নির্দেশনায় জানানো হয়, ইন্দিরা রোড থেকে উড়োজাহাজ মোড় হয়ে বেগম রোকেয়া সরণি অভিমুখী যানবাহন ডানে মোড় না নিয়ে সোজা মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে মিরপুর রোড দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছবে। আর মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে খেজুর বাগান হয়ে বেগম রোকেয়া সরণিগামী যানবাহন বামে মোড় না নিয়ে ফার্মগেট হয়ে গন্তব্যে পৌঁছবে। এছাড়া উড়োজাহাজ মোড় থেকে খেজুর বাগান পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে দক্ষিণ দিকে একমুখী যানবাহন চলাচল করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *