বন্ধ হতে পারে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তোলন দুই বছরের সর্বোচ্চে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দাম
মার্চ ৮, ২০২৬
যুদ্ধ গড়াল দ্বিতীয় সপ্তাহে বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলা
মার্চ ৮, ২০২৬
বন্ধ হতে পারে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তোলন দুই বছরের সর্বোচ্চে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দাম
মার্চ ৮, ২০২৬
যুদ্ধ গড়াল দ্বিতীয় সপ্তাহে বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলা
মার্চ ৮, ২০২৬

ইরানের নেতৃত্বে ফাটল, যুদ্ধের চাপ বাড়াচ্ছে বিভাজন

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সমঝোতামূলক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে কট্টরপন্থী আইনপ্রণেতা হামিদ রাসাইয়ের মতো নেতারা একে ‘অপেশাদার ও দুর্বল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, প্রেসিডেন্টকে শেষ পর্যন্ত তার ওই দুঃখপ্রকাশের অংশটুকু সরিয়ে নিতে বাধ্য হতে হয়েছে, যা দেশটির অভ্যন্তরে বিদ্যমান ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার বিমান হামলায় বিপর্যস্ত ইরানের শাসনব্যবস্থায় এখন গভীর ফাটল দৃশ্যমান। দীর্ঘ সময় ধরে প্রয়াত সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কঠোর শাসনে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ভেতরে থাকা মতপার্থক্যগুলো চাপা পড়ে ছিল। কিন্তু খামেনির মৃত্যুর পর এবং যুদ্ধের তীব্র চাপে সেই সুপ্ত বিভক্তি এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ‘উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা না চালানোর’ প্রতিশ্রুতি নিয়ে দেশটির কট্টরপন্থী এবং তুলনামূলক নমনীয় অংশগুলোর মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে ইরানের কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেশটির ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ বা আইআরজিসির প্রভাব বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই বাহিনী তাদের অনেক শীর্ষ কমান্ডারকে হারালেও এখন দেশটির নীতি নির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সমঝোতামূলক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে কট্টরপন্থী আইনপ্রণেতা হামিদ রাসাইয়ের মতো নেতারা একে ‘অপেশাদার ও দুর্বল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, প্রেসিডেন্টকে শেষ পর্যন্ত তার ওই দুঃখপ্রকাশের অংশটুকু সরিয়ে নিতে বাধ্য হতে হয়েছে, যা দেশটির অভ্যন্তরে বিদ্যমান ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

দেশটির অস্থিরতা কাটাতে ও নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণে দ্রুত একজন নতুন সুপ্রিম লিডার নিয়োগের জন্য দেশটির ধর্মীয় নেতারা ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। এই প্রক্রিয়ায় প্রয়াত সুপ্রিম লিডারের ছেলে মোজতবা খামেনিকে সম্ভাব্য সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ও তার বাবার অফিসের সমর্থন থাকলেও, মোজতবার নিয়োগ নিয়ে দেশটির ভেতরে বড় ধরনের বিতর্কের অবকাশ রয়েছে। সমালোচকরা একে এক ধরনের বংশানুক্রমিক ক্ষমতা হস্তান্তর হিসেবে দেখছেন, যা ইরানের বিপ্লবী আদর্শের পরিপন্থী। অন্য প্রার্থীদের তুলনায় মোজতবা নিরাপত্তা ও সামরিক অবকাঠামো পরিচালনার ব্যাপারে অধিকতর অভিজ্ঞ বলে মনে করা হচ্ছে, তবে তার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বর্তমানে ইরানের সংবিধান অনুযায়ী গঠিত একটি অন্তর্বর্তী কাউন্সিল দেশ পরিচালনা করছে। তবে এই কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যেও মতপার্থক্য স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিচার বিভাগের প্রধান আয়াতুল্লাহ গোলাম হোসেন মোহসেনি-ইজেইয়ের মতো কট্টরপন্থীরা প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের আপসকামিতার বিপরীতে আক্রমণাত্মক অবস্থানের পক্ষে কথা বলছেন। তিনি বলেছেন, কিছু আঞ্চলিক দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার সুযোগ দিয়েছে এবং এসব লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের কঠোর পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকবে। এই বক্তব্য প্রেসিডেন্টের তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি সাধারণত ক্ষমতার কাঠামোকে স্পষ্ট করে দেয়; কিন্তু বর্তমানে ইরানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নতুন নেতা যিনিই হোন না কেন, তার সামনে চ্যালেঞ্জ হবে বিভক্ত শাসকগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং বহিঃশত্রুর মোকাবেলা করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *