নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে অপহরণের পর এক কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নূর
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬
প্রথম শিশুপ্রহরে পাপেট শো দেখে উচ্ছ্বসিত খুদে পাঠকরা
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬
নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে অপহরণের পর এক কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নূর
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬
প্রথম শিশুপ্রহরে পাপেট শো দেখে উচ্ছ্বসিত খুদে পাঠকরা
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬

দেশের রাজনীতি ও রাজনৈতিক দল নিয়ে শনিবারের বিশেষ আয়োজন রাজনৈতিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে তা’মীরুল মিল্লাত

উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল বিবেচনায় যেসব প্রতিষ্ঠান বিগত কয়েক বছর ধরে সামনের সারিতে আছে তাদের মধ্যে অন্যতম তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা।

চলতি বছরেও এ প্রতিষ্ঠান থেকে আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯৯ শতাংশই উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। আর জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন ৫২ শতাংশ। আলিম পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষা স্তরের ভর্তি পরীক্ষায়ও কয়েক বছর ধরে এ মাদরাসা থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী সাফল্য অর্জন করছেন। তবে একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ মাদরাসার বেশ কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নজর কাড়ছে।

২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের নেপথ্যে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম মাহফুজ আলম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের এ শিক্ষার্থী আলিম সম্পন্ন করেন তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা থেকে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তিনি প্রথমে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং পরবর্তী সময়ে তথ্য ও যোগাযোগ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য গত ১০ ডিসেম্বর তিনি উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেন। যদিও পরবর্তী সময়ে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।

একই মাদরাসা থেকে আলিম সম্পন্ন করেন ২০২৪ সালের বাংলাদেশে কোটা সংস্কার ও পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক হান্নান মাসউদ। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। হান্নান মাসউদ বণিক বার্তাকে বলেন, তা’মীরুল মিল্লাত দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মাদরাসা। এ কারণেই সারা দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হয়। যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত নেতৃত্ব গড়ে ওঠে, তেমনি এ মাদরাসা থেকেও ধীরে ধীরে নেতৃত্ব উঠে আসতে শুরু করেছে। এখানকার শিক্ষার্থীরা অধিকাংশই রাজনৈতিকভাবে সচেতন। অন্যান্য মাদরাসার তুলনায় এ প্রতিষ্ঠানের মূল পার্থক্য হলো দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেরা মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে আসেন। ফলে একটি সুস্থ নেতৃত্ব বিকাশের পরিবেশ এখানে তৈরি হয়েছে।

ভবিষ্যতে এ প্রতিষ্ঠান থেকে আরো যোগ্য, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব জাতির সামনে উঠে আসবে বলেও মনে করেন তরুণ এ সংসদ সদস্য।

একই মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ছাত্রদল মনোনীত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল ঘোষিত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী খন্দকার অনিকও এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিলেন।

তা’মীরুল মিল্লাত ট্রাস্ট পরিচালিত তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৩ সালে যাত্রাবাড়ীর মিরহাজির বাগে। স্থানীয় ও মাদরাসার সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকার কাজী বাড়ির সদস্যদের দানকৃত জমির ওপর মাদরাসাটি গড়ে ওঠে। তা’মীরুল মিল্লাত ট্রাস্টও প্রথমে গঠিত হয় কাজী পরিবারের সম্পত্তির একাংশ থেকেই। ১৯৬৩ সালে প্রথমে মাদরাসাটি যাত্রা শুরু করেছিল এতিমখানা ও ফোরকানিয়া মাদরাসা (মকতব) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন আবুল মোকাররম মোহাম্মদ মোসলেম, মেসবাহউদ্দিন ইকবালী ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ইউসুফ আলী। তাদের মধ্যে মিসবাহ উদ্দিন ইকবালী রহমান কাজীর বাড়িতে গৃহশিক্ষক ছিলেন। অধ্যাপক ইউসুফ আলী তা’মীরুল মিল্লাত ট্রাস্টের সদস্য সচিব ছিলেন। এছাড়া এ মাদরাসা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পরামর্শ দিয়েছিলেন অধ্যাপক গোলাম আযম ও শামসুল হক ফরিদপুরী।

তা’মীরুল মিল্লাত ছাত্র সংসদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৩ সালের ১ ডিসেম্বর মাদরাসাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম ও হযরত মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.)। সে সময়ে মাদরাসাটির বিজ্ঞানসম্মত সিলেবাস প্রণয়ন করার লক্ষ্যে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। যার আহ্বায়ক ছিলেন মরহুম নূর মোহাম্মদ আজমী, সদস্য সচিব ছিলেন মরহুম মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক। পরবর্তী সময়ে মাদরাসাটি ১৯৭৭ সালে দাখিল, ১৯৭৯ সালে আলিম, ১৯৮২ সালে ফাজিল এবং ১৯৯০ সালে কামিল শ্রেণীতে উন্নীত হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে সাধারণ ও বিজ্ঞান বিভাগ চালু করা হয়। মাদরাসাটির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকলে টঙ্গীতে এর শাখা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। ১৯৯৭ সালে টঙ্গীর জামেয়া ইসলামিয়া ট্রাস্টের একটি ভাড়া ভবনে এর কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০০ সালে মাদরাসাটি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাস চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমে সায়দাবাদ এলাকার গোলাপবাগের একটি বাড়িতে কার্যক্রম শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে মাতুয়াইলে নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয় এবং কামিল শ্রেণী পর্যন্ত চালু হয়। এছাড়া ২০১১ সালের টঙ্গী ক্যাম্পাসের পাশে পৃথকভাবে বালিকা শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২৫ সালে টঙ্গীর তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা বালিকা শাখার শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানটি ১১ কোটি টাকায় জমি ক্রয় করে। ২০১৬ সাল পর্যন্ত তা’মীরুল মিল্লাত মাদরাসার সব শাখা একজন অধ্যক্ষের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছিল। এ প্রতিষ্ঠানগুলো আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার পর বিধিগত কারণে প্রত্যেকটি শাখা পৃথক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনুমোদন লাভ করে। কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি আলিম পরীক্ষার ফলাফলে প্রথম স্থান অধিকার করছে। প্রতি বছর এখান থেকে গড়ে ৬০০-৮০০ শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ অর্জন করে।

তা’মীরুল মিল্লাত মাদরাসার শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থীরা বলছেন, মিল্লাতের শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক অঙ্গনেও দৃঢ় অবস্থানের অন্যতম কারণ হলো অভ্যন্তরীণ ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া। দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ স্থবির থাকলেও তা’মীরুল মিল্লাতে ছাত্র সংসদ কার্যকর রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কৈশোর থেকেই নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের হাতেকলমে শিক্ষা পায়। এ সংসদই পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেয়ার আত্মবিশ্বাস জুগিয়ে থাকে।

পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননশীলতা চর্চার জন্য এখানে রয়েছে বেশকিছু সহশিক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক সংগঠনও। এর মধ্যে অন্যতম তা’মীরুল মিল্লাত ডিবেটিং সোসাইটি এবং মিল্লাত সাংস্কৃতিক সংসদ। এ সংগঠনগুলো শিক্ষার্থীদের বিতর্ক, আবৃত্তি, সংগীত ও নাট্যকলা চর্চায় উদ্বুদ্ধ করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এসএম হাফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কয়েক বছর ধরেই আমরা দেখছি এ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী প্রতিবছর ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের অনেকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও ভালো করছেন। প্রতিষ্ঠানের নিশ্চয়ই এমন কোনো পাঠদান কাঠামো রয়েছে যা শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি নেতৃত্ব তৈরিতেও সহায়তা করছে। আমরা সবসময়ই দেখেছি সাধারণত ছাত্র সংসদ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব বিকাশে সহায়তা করে এবং শিক্ষার্থদের দক্ষ-সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। তাদের ক্ষেত্রেও এটি একটি কারণ হতে পারে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোন বিষয়গুলোর কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক এগিয়ে থাকছেন সে বিষয়টি বলতে হলে এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন।’

বর্তমানে তা’মীরুল মিল্লাত মাদরাসা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে আছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, তা’মীরুল মিল্লাতের একটি বড় শক্তি হলো—এখানে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সমকালীন জ্ঞান, রাজনীতি ও সমাজচিন্তার চর্চা হয়। ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার এ সমন্বয়ই তাদের জাতীয় রাজনীতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সাহায্য করেছে।

সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তা’মীরুল মিল্লাতের বেশ কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান মোমেন। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পাবনা-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২৪ হাজার ৮০৪ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি অষ্টম শ্রেণী থেকে এ মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিলেন।

শেরপুর-১ আসনে থেকে বিজয়ী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম খানও এ মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের অগ্রগামী ও মানসম্মত দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তা’মীরুল মিল্লাত অন্যতম। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সচেতন হয়ে ওঠে। এ ধরনের সচেতন নাগরিকরাই দেশ গঠনে কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারে।’

এছাড়া লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ভাই মাহবুব আলমও তা’মীরুল মিল্লাতের শিক্ষার্থী ছিলেন।

তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা টঙ্গী শাখার অধ্যক্ষ ড. হিফজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ মাদরাসা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো গতানুগতিক ধারায় না গিয়ে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার কাজ করছে। জাতীয়ভাবে সুনাগরিক তৈরি করতে হলে শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতি, মননশীলতা, উদারতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তার বিকাশ জরুরি। আর এসব নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুষ্ঠু ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। আমাদের প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষকের সমন্বয়ে সেই পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান ক্লাব, বিতর্ক ক্লাবসহ বিভিন্ন ক্লাবভিত্তিক কার্যক্রম রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক বিকাশে ভূমিকা রাখছে। আমাদের শিক্ষকরা তাদের বহুমুখী প্রতিভা ও দক্ষতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কেবল ভালো ফলাফলের জন্য প্রস্তুত করছেন না; বরং তাদের সচেতন, দায়িত্বশীল ও মননশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন।’

প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘‌আমাদের প্রতিষ্ঠান স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত। অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিভিন্ন রাজনৈতিক এজেন্ডাভিত্তিক কাজ করে; কিন্তু আমরা এখানে শিক্ষার্থীদের মুক্তচিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে গুরুত্ব দিয়ে সচেতন ছাত্রসমাজ গঠনে কাজ করি। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের চিন্তা-চেতনা অনুযায়ী রাজনৈতিক সচেতনতা অর্জন করে এবং স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারে।’

বর্তমানে তা’মীরুল মিল্লাত ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন অধ্যাপক ড. কুরবান আলী। সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যক্ষ মুহাম্মদ যাইনুল আবেদীন। এছাড়া সহ-সেক্রেটারি হিসেবে আছেন মাহমুদ হোসাইন, মোতাওয়াল্লি হিসেবে মাওলানা সাব্বির আহমাদ দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাস্টে সদস্য হিসেবে রয়েছেন কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান, ডা. কাজী মো. ইউসুফ আলী, মোহাম্মদ সফিক উল্লাহ, মো. তোফাজ্জল হোসেন এবং ড. মুহাম্মদ খলিলুর রহমান মাদানী।

তা’মীরুল মিল্লাত ট্রাস্টের সদস্য ও মাদরাসার মূল ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ ড. মুহাম্মদ খলিলুর রহমান মাদানী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলেও এখানে ইসলামিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষকরা শুধু দায়িত্ব পালনের জন্য কাজ করেন না; বরং গভীর আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সার্বিক গঠনে ভূমিকা রাখছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *