কুকুরের মাংস উদ্ধার
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
বিএনপি পেয়েছে ৪৯.৯৭% ভোট, জামায়াত ৩১.৭৬ শতাংশ
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
কুকুরের মাংস উদ্ধার
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
বিএনপি পেয়েছে ৪৯.৯৭% ভোট, জামায়াত ৩১.৭৬ শতাংশ
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬

রাঙ্গামাটির হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা সরবরাহ বন্ধ, বাজারেও সংকট

রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভাইরাসজনিত রোগ জলাতঙ্কের টিকা (র‍্যাবিস ভ্যাকসিন) ফুরিয়ে গেছে। গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে সরকারিভাবে বিনামূল্যে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভাইরাসজনিত রোগ জলাতঙ্কের টিকা (র‍্যাবিস ভ্যাকসিন) ফুরিয়ে গেছে। গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে সরকারিভাবে বিনামূল্যে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে বেসরকারিভাবে ফার্মেসি থেকে ক্রয় করে আনলে টিকা দিচ্ছেন হাসপাতালের কর্মীরা। এদিকে সরকারিভাবে সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাজারেও ভ্যাকসিনের চাহিদা বেড়েছে। চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সরবরাহ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।

রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন শেষ হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহ বন্ধ থাকায় ১৮ ডিসেম্বর থেকে এক মাস ১০ দিন ধরে সরকারভাবি ভ্যাকসিনটি দিতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে র‍্যাবিস আক্রান্ত রোগীরা বাইরের ফার্মেসি থেকে টিকা ক্রয় করে হাসপাতালে এসে শরীরে পুশ (প্রয়োগ) করাতে পারছেন। হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসজুড়ে ৩৭৯ জন রোগী রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল থেকে জলাতঙ্কের টিকা নিয়েছেন। ১-১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০৭ জন রোগী ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন। তবে ১৯ ডিসেম্বর থেকে চলতি মাসের এ পর্যন্ত সময়টাতে কতজন রোগী বাইরে থেকে ভ্যাকসিন এনে হাসপাতালে পুশ করিয়েছেন সেটির নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে রাঙ্গামাটি জেলায় জলাতঙ্ক রোগীর মধ্যে কুকুরের কামড়ের চেয়েও বিড়াল, ইঁদুর, বেজিসহ অন্যান্য প্রাণী দ্বারা আক্রমণের শিকার রোগীর সংখ্যা বেশি বলছেন চিকিৎসকরা।

সাম্প্রতিক সময়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘সাময়িক সময়ের জন্য কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ের জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহ সংকটের কারণে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন বিতরণ/প্রদান বন্ধ আছে। সেক্ষেত্রে বাইরের ফার্মেসি থেকে ক্রয় করে এনে দিলে টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হচ্ছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এ সমস্যার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগে কর্মরত নিখিল চাকমা বলেন, ‘গত বছরের নভেম্বরে ৩৭৯ জন এবং ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০৭ জন রোগীকে হাসপাতাল থেকে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। তবে যারা বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে এনে হাসপাতালে পুশ করাচ্ছেন, তাদের নির্দিষ্ট তথ্য নেই। হাসপাতাল থেকে যেসব টিকা দেয়া হয় সেগুলোর রেজিস্ট্রার থাকে। এখন সেবা কার্যক্রমের আওতায় রোগীদের পুশ করে দেয়া হচ্ছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মূলত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশব্যাপী কেন্দ্রীয়ভাবে জলাতঙ্ক টিকা বা র‍্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ করে থাকে। সরকারিভাবে ‘র‍্যাবিক্স-ভিসি’ নামক ভ্যাকসিনটি সরবরাহ করা হলেও এর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হলো বেসরকারি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। সরকারের কাছে সরবরাহ ছাড়াও বিভিন্ন ফার্মেসিতে ভ্যাকসিনটি বাজারজাত করে থাকে ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি। সরকারিভাবে সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাজারেও ভ্যাকসিনটির সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।

ভ্যাকসিন প্রদানকাজে সংশ্লিষ্টরা জানান, র‍্যাবিক্স-ভিসি ভ্যাকসিনটি মাংসপেশিতে প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি ভায়াল এক ডোজ হিসেবে একজন রোগীকে প্রয়োগ করা যায়। তবে চামড়ার ভেতরে প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিটি ভায়ালে ১০টি ডোজ থাকে। এক্ষেত্রে সর্বনিম্ন একটি ভায়াল চার-পাঁচ রোগীকে দেয়া সম্ভব। হাসপাতালে চামড়ার ভেতরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়ে থাকে আর সাধারণত ফার্মেসি বা বাইরে থেকে সরবরাহ নিলে সেগুলো মাংশপেশিতে প্রয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে বিনামূল্যের বদলে ভ্যাকসিন ক্রয়েও বাড়তি খরচ বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন রোগীরা।

জানতে চাইলে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শওকত আকবর খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২০২৫ সালে সরকারিভাবে বছরজুড়ে সাপ্লাই দিতে পেরেছি। র‍্যাবিস ভ্যাকসিন সরকার কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহ করে এবং আমরা চাহিদা অনুযায়ী নিয়ে আসি। ২০২৫ সালের শেষদিকে এসে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের দিকে ভ্যাকসিন শেষ এবং আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে ব্যর্থ হন। আমরা নিয়মিত যোগাযোগ করে যাচ্ছি।‘

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *